সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন করার সময় একটি ওয়েবসাইট এর অভ্যন্তরীন যেসব কাজ করা হয় তাকে বলা হয় অন পেজ এসইও। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন করার ক্ষেত্রে অনপেজ এর ভূমিকা অপরিসীম। যার মাধ্যমে আপনি টার্গেট করা অডিয়্যান্সকে আপনার ওয়েবসাইটে নিয়ে আসতে পারবেন।
তবে তার আগে আপনাকে জানতে হবে, অন পেজ এসইও কি এবং কিভাবে অন পেজ এসইও করতে হয়। আর এই বিষয় গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে আজকের এই আর্টিকেলে। আশা করি, এই আর্টিকেল থেকে অন পেজ এসইও এর পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন পেয়ে যাবেন।

অন পেজ এসইও কি? | What is On Page SEO?
সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO) এর গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হলো, অন পেজ এসইও। যে এসইও এর কাজ গুলো ওয়েবসাইট এর ভেতর থেকে করা হয়। যার মাধ্যমে আপনি আপনার ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিন এর জন্য উপযুক্ত হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন। সেজন্য অন পেজকে এসইও এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ধরা হয়।
অন পেজ এসইও ও অফ পেজ এসইও এর পার্থক্য
| সিরিয়াল | On Page SEO (অন পেজ এসইও) | Off Page SEO (অফ পেজ এসইও) |
| ০১ | ওয়েবসাইটের ভেতর থেকে কাজ করা হয়। | ওয়েবসাইটের বাইরে থেকে কাজ করা হয়। |
| ০২ | র্যাংকিং করার ক্ষেত্রে অন পেজ এসইও অনেক গুরুত্বপূর্ণ | র্যাংকিং করার ক্ষেত্রে অফ পেজ এসইও অনেক গুরুত্বপূর্ণ |
| ০৩ | অন পেজ এসইও আপনার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রনে থাকবে। | অফ পেজ এসইও এর কাজ কখনও আপনার নিয়ন্ত্রনের বাইরে যেতে পারে। |
| ০৪ | উদাহরন: কিওয়ার্ড রিসার্চ, হেডিং, টাইটেল ইত্যাদি অপটিমাইজেশন। | উদাহরন: ব্যাকলিংক, সোশ্যাল মিডিয়া প্রচার |
কেন অন পেজ এসইও করবো?
আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, এসইও এর আরো অনেক প্রকারভেদ আছে। তাহলে আমরা কেন অন পেজ এসইওকে বেশি গুরুত্ব দিবো? -তো যদি আপনার মনেও এমন প্রশ্ন জেগে থাকে তাহলে আমি বলবো, অন পেজ ছাড়া এসইও কখনই পূর্ণতা পাবেনা।
কারণ, কোনো একটি ওয়েবসাইট এর এসইও করার জন্য বিভিন্ন বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিতে হয়। যেমন, কন্টেন্ট অপটিমাইজেশন, কিওয়ার্ড রিসার্চ, টাইটেল অপটিমাইজেশন, কিওয়ার্ড ডেনসিটি ইত্যাদি। তো যাবতীয় বিষয় গুলো অন পেজ এসইও এর অন্তর্ভূক্ত।
এখন আপনি যদি এই বিষয় গুলোকে গুরুত্ব না দেন, তাহলে আপনি যতোই এসইও এর অন্যান্য কাজ গুলো করুন না কেন। আপনি আপনার ওয়েবসাইটকে কখনই সার্চ ইঞ্জিনে র্যাংক করাতে পারবেন না। তবে এগুলোর বাইরেও মোট ০৩ টি বিষয় কে গুরুত্ব দিয়ে On Page SEO করতে হয়। যেমন,

(I)- সার্চ ইঞ্জিনকে ওয়েবসাইট সম্পর্কে ধারনা প্রদান
এসইও এর কাজ করার সময় সার্চ ইঞ্জিনকে আপনার ওয়েবসাইট সম্পর্কে যতোটা সহজ ভাবে বোঝাতে পারবেন সেই ওয়েবসাইট ততো দ্রুত র্যাংক করার সম্ভাবনা থাকবে। কারণ যখন একটি নতুন ওয়েবসাইট তৈরি করা হয় তখন গুগল ক্রলার আপনার ওয়েবসাইটের বিভিন্ন বিষয়ের উপর গুরুত্ব দেয়।
আর গুগল ক্রলার ওয়েবসাইটে আসার পর সেই ওয়েবসাইটকে বোঝার জন্য যেসব বিষয় গুলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় মূলত সেই বিষয় গুলোই অন পেজ এসইও এর মধ্যে অন্তর্ভূক্ত। আর গুগল ক্রলার যখন আপনার ওয়েবসাইটকে বুঝতে পারবে ঠিক তখনি সেই ওয়েবসাইট র্যাংক করা শুরু করবে।
(II) – হেল্পফুল ভিজিটর অপটিমাইজেশন
অন পেজ এসইও শুধুমাত্র সার্চ ইঞ্জিনকে টার্গেটে রেখে করা হয়না বরং ভিজিটরদের কথা মাথায় রেখেও অন পেজ করতে হয়। কারণ, সার্চ ইঞ্জিন থেকে ওয়েবসাইটে ভিজিটর আসার পর তাকে আপনার ওয়েব সাইটে ধরে রাখার জন্য বেশ কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হবে। আর উক্ত কৌশল গুলো তখনি প্রয়োগ করা সম্ভব যখন আপনি On Page SEO করবেন।
(III) – ওয়েবসাইটে ট্রাফিক বৃদ্ধি করা
এসইও করার মূল উদ্দেশ্যে হলো ওয়েবসাইটে ট্রাফিক বৃদ্ধি করা। আর ট্রাফিক বৃদ্ধি করার জন্য সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করে অন পেজ। যেখানে কিছু কৌশল ফলো করে সার্চ রেজাল্ট থেকে ভিজিটরদের আপনার ওয়েবসাইট লিংকে ক্লিক করার জন্য আকৃষ্ট করা হয়। তারপর তাকে আপনার কন্টেন্টে ধরে রাখার জন্য আরো বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করা হয়।
তো উপরের আলোচনায় আপনি যে ০৩ টি কারণ দেখতে পাচ্ছেন। মূলত এই কারন গুলোর জন্য অন পেজ এসইও করার দরকার হয়। আর আপনারা যারা ওয়েবসাইট নিয়ে কাজ করেন তাদের এই ০৩ টি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
অন পেজ এসইও র্যাংকিং ফ্যাক্টর গুলো কি কি?
যখন আপনি আপনার ওয়েবসাইটে অন পেজ এসইও করবেন তখন আপনার ওয়েবসাইট সার্চ ইঞ্জিনে র্যাংক করবে। এর প্রধান কারণ হলো অন পেজ এসইও এর কৌশল গুলোর মধ্যে এমন কিছু র্যাংকিং ফ্যাক্টর আছে যেগুলো গুগলের গাইডলাইন এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর সেই র্যাংকিং ফ্যাক্টর গুলো নিচের তালিকায় দেওয়া হলো।
On Page SEO Checklist 2024

- কন্টেন্ট অপটিমাইজ
- কিওয়ার্ড অপটিমাইজ
- টাইটেল অপটিমাইজ
- কিওয়ার্ড ডেনসিটি
- ইমেজ অপটিমাইজ
- মেটা ডেসস্ক্রিপশন অপটিমাইজ
- পার্মালিংক অপটিমাইজ
- ইন্টারনাল লিংকিং
- এক্সটারনাল লিংকিং
- ওয়েবসাইট লোডিং স্পিড
- ইউজার ফ্রেন্ডলি ডিজাইন
তো উপরের তালিকায় আপনি মোট ১১ টি অন পেজ এসইও র্যাংকিং ফ্যাক্টর দেখতে পাচ্ছেন। যেগুলোর সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি আপনার ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনের জন্য সঠিক ভাবে অপটিমাইজ করতে পারবেন। যার ফলস্বরুপ আপনি আপনার ওয়েবসাইটে কাঙ্খিত ট্রাফিক গেইন করতে পারবেন।
তো এবার আমি আপনার সাথে এই সকল র্যাংকিং ফ্যাক্টর গুলো নিয়ে বিস্তারিত বলার চেষ্টা করবো। যাতে করে আপনি অন পেজ এসইও সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান অর্জন করতে পারেন। যে দক্ষতার মাধ্যমে আপনিও অন্যান্য মানুষের মতো মিলিয়ন মিলিয়ন ট্রাফিক ওয়েবসাইটে নিয়ে আসতে পারেন।
০১ – কন্টেন্ট অপটিমাইজ | (Content Optimize)
Content is King – এসইও করার সময় আপনি বারবার এই কথাটি শুনতে পারবেন। কারণ যতক্ষন আপনি সঠিকভাবে আপনার ওয়েবসাইটের কন্টেন্টকে অপটিমাইজ করতে পারবেন না। ততোক্ষন আপনার এসইও করার সকল সময় ও শ্রম কোনো কাজে আসবে না।
যেমন ধরুন আপনি এসইও এর অন্যান্য র্যাংকিং ফ্যাক্টরের মাধ্যমে সার্চ ইঞ্জিন থেকে ভিজিটর নিয়ে আসলেন। এখন ভিজিটর যদি আপনার ওয়েবসাইটে আসার পর আপনার কন্টেন্ট পছন্দ না করে সেই ওয়েবসাইট থেকে ফেরত যায়। তাহলে ধরে নিবে যে আপনার কন্টেন্ট এর ভিতর তেমন কোনো মূল্যবান বিষয় নেই।
আর এভাবে চলতে থাকলে গুগল সার্চ ইঞ্জিন থেকে ধীরে ধীরে আপনার র্যাংক করা ওয়েবসাইট ডাউন হতে থাকবে। তাই অন পেজ এসইও করার সময় সর্বপ্রথম আপনার ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট এর উপর গুরুত্ব দিতে হবে। তো এই কন্টেন্ট অপটিমাইজ করার সময় আপনাকে বেশ কিছু বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। যেমন,

(I) – কন্টেন্ট পাঠযোগ্যতা
আপনি যখন আপনার ওয়েবসাইটের জন্য কন্টেন্ট লিখবেন তখন পাঠকদের কথা অবশ্যই মাথায় রাখবেন। যেন পাঠক আপনার লেখা কন্টেন্ট এর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আগ্রহের সাথে পড়তে পারে। এছাড়াও আপনার কন্টেন্ট এর মতো যতোটা পারবেন সহজ ভাষায় লেখার চেষ্টা করবেন।
(II) – অতিরিক্ত কীওয়ার্ড ব্যবহার করবেন না
অনেকেই মনে করে কন্টেন্ট এর মধ্যে যতো বেশি কিওয়ার্ড ব্যবহার করা হবে সেই কন্টেন্ট ততো ভালো র্যাংক করবে। তো যারা এমনটা মনে করেন, তাদের ধারনা সম্পূর্ণ ভুল। কেননা, মাত্রাতিরিক্ত কিওয়ার্ড ব্যবহার করলে সেটা তো র্যাংক করবেই না উল্টো পাঠকদের কাছেও নেগেটিভ প্রভাব পড়বে।
(III) – শিরোনাম ব্যবহার করুন
আমার এই আর্টিকেলের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বেশ কিছু হেডিং ব্যবহার করেছি। যার কারণে আমি আপনাকে লেখার এই পর্যন্ত নিয়ে আসতে পেরেছি। তো আপনিও যখন আপনার কন্টেন্ট লিখবেন তখন অবশ্যই প্রয়োজনীয় হেডিং ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন।
(IV) – ছোট অনুচ্ছেদ ব্যবহার করুন
যদি আপনি আপনার কন্টেন্ট এর মধ্যে পাঠকদের ধরে রাখতে চান তাহলে অবশ্যই ছোটো ছোটো প্যারাগ্রাফ ব্যবহার করবেন। এর কারণ হলো যদি আপনার কন্টেন্ট কিছুটা রচনার মতো হয় তাহলে পাঠক আপনার লেখা পড়ার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।
(VI) – কন্টেন্ট তথ্য আপডেট রাখুন
ব্লগিং করার সময় লক্ষ্য রাখবেন আপনার কন্টেন্টে যেন কোনো ধরনের ভুল ইনফরমেশন না থাকে। কারণ একটি কন্টেন্টে ভুল তথ্য থাকলে সেটি সাময়িক সময়ের জন্য র্যাংক করলেও তা স্থায়ী হয়না। তাই কন্টেন্ট পাবলিশ করার পরও আপনাকে নিয়মিত সেই কন্টেন্ট এর মধ্যে থাকা ইনফরমেশন গুলো আপডেট করতে হবে।
০২ – কিওয়ার্ড অপটিমাইজ | (Keyword Optimize)
অন পেজ এসইও করার ক্ষেত্রে কিওয়ার্ড এর সঠিক ব্যবহার করতে হয়। এছাড়াও যখন আপনি কোনো কন্টেন্ট পাবলিশ করবেন তখন সেই কন্টেন্ট এর মধ্যে সঠিক ভাবে কিওয়ার্ড এর ব্যাবহার করতে হবে। তবে কিওয়ার্ড রিসার্চ করা থেকে শুরু করে আপনার কিওয়ার্ড প্লেসমেন্ট পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। যেমন,

কিওয়ার্ড অপটিমাইজ করার উপায়
- অবশ্যই কন্টেন্ট এর অভ্যন্তরে Keyword Placement করতে হবে।
- অতিরিক্ত কিওয়ার্ড ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকবেন।
- কন্টেন্ট হেডিং বা সাব-হেডিংয়ে Keyword থাকতে হবে।
- কন্টেন্ট এর শুরু প্যারা কিংবা কিওয়ার্ড দিয়ে লেখা শুরু করা ভালো।
- বাংলা কিওয়ার্ডের ক্ষেত্রে অবশ্যই English কিওয়ার্ড বসাতে হবে।
- মূল কিওয়ার্ডের রিলেটেড কিওয়ার্ড ব্যবহার করা উত্তম।
আপনি যখন অন পেজ এসইও করবেন তখন আপনার কন্টেন্ট এর লেন্থ অনুযায়ী কিওয়ার্ড ব্যবহার করার চেস্টা করবেন। তবে মাথায় রাখবেন, আপনার কিওয়ার্ড ডেনসিটি যেন কোনোভাবেই বেশি না হয়। তাহলে কিন্তুু হিতে বিপরীত হয়ে যাবে।
০৩ – ইউজার ফ্রেন্ডলি ডিজাইন | (User Friendly Design)
যখন আমরা নতুন কোনো ওয়েবসাইট তৈরি করি তখন সেই ওয়েবসাইট এর ডিজাইন খুব ভালো করার চেষ্টা করি। কিন্তুু এই ভালো করতে গিয়ে ওয়েবসাইটের ডিজাইন এতোটা কঠিন করে ফেলি। যার কারণে ভিজিটরদের আমাদের ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে সমস্যা হয়। মনে রাখবেন, ভিজিটর তাদের সমস্যার সমাধান দেখার জন্য আসবে, আপনার ডিজাইন দেখার জন্য নয়।
তাই সর্বদা আপনার ওয়েবসাইট ডিজাইন সিম্পলের মধ্যে গর্জিয়াস করার চেষ্টা করবেন। যাতে করে দেখতে ভালো লাগে এর পাশাপাশি ভিজিটরদের কাছেও যেন বুঝতে সমস্যা না হয়।
এছাড়াও বর্তমান সময়ে অধিকাংশ মানুষ মোবাইল দিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করে। সেজন্য আপনার ওয়েবসাইট ডিজাইনকে মোবাইল ফ্রেন্ডলি করার চেষ্টা করবেন। আর উক্ত কাজ গুলো করতে হলে আপনাকে বেশ কিছু বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। যেমন,

ওয়েবসাইট ইজার ফ্রেন্ডলি করার উপায়
- ডিজাইনে অতিরিক্ত কালার ব্যবহার করবেন না।
- লাইটওয়েট থিম বা টেমপ্লেট সেটআপ করবেন।
- সাইডবারে বেশি কিছু না রাখার চেস্টা করুন।
- অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন ব্যবহার করবেন না।
- অপ্রয়োজনীয় জাভাস্ক্রিপ্ট ব্যবহার করবেন না।
স্বাভাবিক ভাবে একটি ওয়েবসাইটকে ইউজার ফ্রেন্ডলি ও মোবাইল ফ্রেন্ডলি করার উপায় গুলো শেয়ার করা হয়েছে। তাই চেস্টা করবেন এই উপায় গুলো ফলো করে আপনার ওয়েবসাইট কে সিম্পল ও গর্জিয়াস ডিজাইন দেওয়ার জন্য।
০৪ – ওয়েবসাইট লোডিং স্পিড | (Website Loading Speed)
মনে করুন আপনি গুগলে কিছু সার্চ করার পর কোনো একটি ওয়েবসাইটের লিংকে ক্লিক করলেন। এখন যদি সেই ওয়েবসাইট লোডিং নিতে কয়েক মিনিট সময় নেয় তাহলে কি আপনি তার জন্য অপেক্ষা করে থাকবেন? – নিশ্চেই থাকবেন না। তাই আপনার ওয়েবসাইট থাকলে লোডিং স্পিডকে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে।
এছাড়াও বর্তমান সময়ে গুগল র্যাংকিং ফ্যাক্টর গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, পেজ লোডিং স্পিড। তাই আপনারা যারা ওয়েবসাইট নিয়ে কাজ করছেন তাদের অবশ্যই অন পেজ এসইও প্রোপারলি করার জন্য লোডিং স্পিড অপটিমাইজ করতে হবে। সেজন্য নিচের উপায় গুলো ফলো করতে পারেন। যেমন,

লোডিং স্পিড অপটিমাইজ করার উপায়
- কন্টেন্ট অতিরিক্ত বেশি বড় করবেন না।
- কন্টেন্টে ব্যবহার করা ইমেজ সাইজ সঠিক রাখবেন।
- ইমেজ ফরমেট Png/Webp ফরম্যাটে রাখবেন।
- অবশ্যই আপনার ওয়েবসাইটে CDN ব্যবহার করবেন।
- অপ্রয়োজনীয় কোড ব্যবহার না করার চেস্টা করবেন।
কোনো একটি ওয়েবসাইট এর লোডিং স্পিড বিভিন্ন উপায়ে অপটিমাইজ করা সম্ভব। তবে যে উপায় গুলোর মাধ্যমে খুব সহজে লোডিং স্পিড কমানো সম্ভব সেগুলো উপরের তালিকায় শেয়ার করা হয়েছে। যেগুলো আপনার ফলো করা উচিত বলে আমি মনে করি।
- PageSpeed Insights -(Check your website speed).
০৫ – টাইটেল অপটিমাইজ
মানুষ যখন গুগলে কিছু জানার জন্য সার্চ করে তখন সার্চ রেজাল্টের টাইটেল দেখে লিংকে ক্লিক করে। এখন আপনি আপনার কন্টেন্ট টাইটেল কে যতোটা আই ক্যাচিং করতে পারবেন আপনার লিংকে ক্লিক পাওয়ার সম্ভাবনা ততো বেশি হবে। কিন্তুু যদি আপনার টাইটেল ভিজিটরদের আকৃষ্ট করতে না পারে তবে আপনার কন্টেন্ট র্যাংক করার পরও অনেকেই সেটি ইগনোর করে চলে যাবে।
তাই আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিটর নিয়ে আসার জন্য কন্টেন্ট এর উপর যতোটা ফোকাস রাখবেন। ঠিক ততোটা ফোকাস আপনার কন্টেন্টে ব্যবহার করা টাইটেলে রাখার চেস্টা করবেন। যদিওবা টাইটেল নির্ভর করবে আপনি কোন বিষয়ে কন্টেন্ট পাবলিশ করবেন তার উপর। কিন্তুু তারপরও এবার আমি বেশ কিছু টিপস শেয়ার করবো যাতে করে আপনার বুঝতে সুবিধা হয়।

কন্টেন্ট টাইটেল অপটিমাইজ করার উপায়
- টাইটেল সর্বদা ৫০ থেকে ৫৫ শব্দের মধ্যে রাখবেন।
- প্রয়োজনে টাইটেলে মেইন কিওয়ার্ড দিবেন।
- টাইটেলে অপ্রাসঙ্গিক শব্দ ব্যবহার করবেন না।
- র্যাংক করা অন্যান্য ওয়েবসাইট থেকে ভিন্ন টাইটেল দিবেন।
- কন্টেন্ট টাইটেলকে প্রশ্নবোধক রাখা ভালো।
- কোনো ভাবে কন্টেন্ট টাইটেলকে বড় করবেন না।
আপনারা যারা ওয়েবসাইট এর জন্য কন্টেন্ট পাবলিশ করেন তাদের অবশ্যই টাইটেলকে অপটিমাইজ করতে হবে। আর টাইটেল অপটিমাইজ করার জন্য অবশ্যই উপরের টিপস গুলো ফলো করার চেষ্টা করবেন।
০৬ – কিওয়ার্ড ডেনসিটি
আমরা অনেকেই স্বল্প জ্ঞানে জানি যে, কন্টেন্ট এর মধ্যে কিওয়ার্ড ব্যবহার করতে হয়। তবে এই বিষয়টি ফলো করতে গিয়ে অনেকেই কন্টেন্টে এতো বেশি কিওয়ার্ড ব্যবহার করে যা ব্ল্যাক হ্যাট এসইও এর মধ্যে পড়ে যায়।
আর আপনিও যদি এমন কাজ করেন তাহলে কিন্তুু আপনার আর্টিকেল কে দীর্ঘদিন র্যাংক করাতে পারবেন না। সেজন্য আপনাকে Keyword Density এর গাইডলাইন ফলো করতে হবে।
প্রশ্নঃ কত হাজার শব্দে কতবার কিওয়ার্ড দেওয়া যায়?
উঃ কিওয়ার্ড ডেনসিটি গাইডলাইনে স্পষ্টভাবে কিছু বলেনি। তবে মাত্রাতিরিক্ত কিওয়ার্ড ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে বলছে।
PRO TIPS: আপনি একটি ব্লগ কন্টেন্ট এর ১০০০ হাজার শব্দে ৫-৬ বার টার্গেট কিওয়ার্ড ব্যবহার করবেন। তবে জোর করে কিওয়ার্ড ইউস করবেন না। এমনটা করলে আপনার কন্টেন্ট এর টোন খারাপ হবে।
০৭ – ইমেজ অপটিমাইজ
Google Ranking Factor গুলোতে ব্লগ কন্টেন্ট এর ইমেজ অপটিমাইজ করার কথা বলা আছে। Google সার্চ ইঞ্জিন কোনো একটি ওয়েবসাইট কে র্যাংক করার সময় কন্টেন্টে থাকা ইমেজ গুলোকে একসাথে বিবেচনা করে।
আপনি যদি আপনার ব্লগে থাকা ইমেজ কে সঠিক ভাবে অপটিমাইজ করতে পারেন। তাহলে আপনার ওয়েবসাইট খুব দ্রুততার সাথে র্যাঙ্ক করবে। আর কিভাবে ব্লগের ইমেজ অপটিমাইজ করতে হয় সেই টিপস নিচে শেয়ার করা হলো। যেমন,
- ইমেজ এর (File name/alt ট্যাগ ব্যবহার করুন।
- ফাইল নাম গুলোতে আপনার কীওয়ার্ড দিন।
- যতোটা সম্ভব ইমেজ সাইজ কম রাখবেন।
মনে রাখবেন, অধিক বড় সাইজের ছবি/থাম্বনেইল আপলোড করবেন না। এতে আপনার ওয়েবসাইট লোডিং স্পিড অনেক বেশি হবে। যা আপনার অন পেজ এসইও তে নেগেটিভ সিগন্যাল দিবে।
০৮ -মেটা ডেসস্ক্রিপশন অপটিমাইজ
গুগলে কোনো কিছু সার্চ করার পর প্রথমে আমরা হেডলাইন এবং তার নিচে ডেসস্ক্রিপশন দেখতে পাই। এই ডেসস্ক্রিপশন কে এমনভাবে সাজাতে হবে, যেন ভিজিটরদের প্রশ্নের সাথে মিলে যায়। এতে করে ভিজিটর আপনার লিংকে ক্লিক করার সম্ভাবনা বাড়বে। আর মেটা ডেসস্ক্রিপনশন দেওয়ার সময় খেয়াল রাখবেন সেটি যেন ১৫৫ থেকে ১৬০ শব্দের মধ্যে হয়।
NOTE: গুগল অধিকাংশ কন্টেন্ট এর মেটা ডেসস্ক্রিপশন অটোমেটিক নিয়ে নেয়। তারপরও আপনাকে অবশ্যই মেটা ডেসস্ক্রিপশন দিতেই হবে।
০৯ – পার্মালিংক অপটিমাইজ
আপনার কন্টেন্ট এর পার্মালিংক খুব ছোটো রাখবেন। আমরা অনেকেই পার্মালিংক এর মধ্যে পুরো কিওয়ার্ড বসিয়ে দেই। যার কারণে আমাদের পার্মালিংক গুলো অনেক বড় দেখায়। তবে এতো বড় পার্মালিংক ব্যবহার করা ঠিক না।
তাই আপনার উচিত হবে ৩ থেকে ৪ শব্দের মধ্যে পার্মালিংক শেষ করার। মনে রাখবেন, এই লিংকটি অন্যদের থেকে আলাদা রাখলে র্যাংকিং করার সময় এক্সট্রা এসইও বেনিফিট পাবেন। তো চলুন এবার জেনে নেই কিভাবে আমরা Blog Permalink অপটিমাইজ করবো।

পার্মালিংক অপটিমাইজেশন
- পার্মালিংক খুব ছোটো রাখবেন।
- ইউনিক পার্মালিংক দিবেন।
- কিওয়ার্ড কে ছোটো করে ব্যবহার করবেন।
- পার্মালিংকে কোনো স্পেস না দিয়ে (-) ব্যবহার করবেন।
যেহুতু আমরা লিংক এর বিষয়ে কথা বলছি সেহুতু আমাদের আরো দুইটি বিষয় জানতে হবে। যেগুলো অন পেজ এসইও এর সাথে অন্তর্ভূক্ত।
১০ – ইন্টারনাল লিংকিং
এসইও কি – এই লিংকে ক্লিক করুন। তাহলে আপনি আমার একটি কন্টেন্টে চলে যাবেন। ব্লগিং এর ভাষায় এই লিংক এর নাম হলো, Internal Link. কারণ এসইও কি এই বিষয় নিয়ে আমার একটি কন্টেন্ট পাবলিশ করা আছে। ইন্টারনাল লিংক এর মাধ্যমে ভিজিটরকে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ধরে রাখা যায়।
তবে অপ্রাসঙ্গিক লিংকিং করা থেকে বিরত থাকবেন। এটি আপনার কন্টেন্ট এর সৌন্দর্যতা কে নষ্ট করবে। তাই আপনার কন্টেন্ট লেখার সময় যখন সিমিলার বিষয় আসবে ঠিক তখনি একটি ইন্টারনাল লিংক করবেন।
যেমন, আমি এখন আপনার সাথে ইন্টারনাল লিংক নিয়ে কথা বলছি। এখন যদি আমার এই বিষয়ে আগে থেকে কোনো কন্টেন্ট পাবলিশ করা থাকে। তাহলে নিচে সেই কন্টেন্ট কে লিংকিং করবো।
১১ – এক্সটারনাল লিংকিং
যখন আপনি আপনার কন্টেন্ট বা ওয়েবসাইট থেকে অন্য আরেকটি ওয়েবসাইটকে লিংকিং করবেন তখন তাকে বলা হবে এক্সটারনাল লিংক। যেমন আমি আপনাকে Google SEO Update এর একটি লিংক দিলাম।
এখন আপনি যদি উপরের লিংকে ক্লিক করেন, তাহলে আপনি অন্য আরেকটি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করবেন। তবে এমন লিংক তখনি করবেন যখন আপনি কোনো ওয়েবসাইট কে সোর্স হিসেবে ব্যবহার করবেন।
যেমন, আপনি যদি অন্য কোনো ওয়েবসাইট এর কোনো লেখার অংশ, ছবি, কপি করেন। তাহলেও আপনি Copyright Credit হিসেবে এক্সটারনাল লিংক করতে পারবেন।
কিছু প্রশ্ন : (FAQ)
Q: অন পেজ এস ই ও তে কি কি করতে হয় সংক্ষেপে লিখুন
A: অন পেজ এসইও হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একটি ওয়েবসাইট কে ইঞ্জিন গুলো কে বুঝতে সাহায্য করা যে, একটি ওয়েবসাইট কোন বিষয় (নিশ) নিয়ে কাজ করছে। আর সেই ওয়েবসাইট উক্ত বিষয় এর উপর কতটা প্রাসঙ্গিক।
Q: অফ পেজ অপটিমাইজেশন কি?
A: ওয়েবসাইট তৈরি করার পর অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মার্কেটিং করার প্রক্রিয়াকে অফ পেজ অপটিমাইজ বলা হয়। যে কাজ গুলো আপনি ওয়েবসাইট এর বাইরে থেকে করতে পারবেন।
Q: সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের প্রথম ধাপ কোনটি?
A: কিওয়ার্ড রিসার্চ হলো সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর সর্বপ্রথম ধাপ।
Q: টেকনিক্যাল এসইও কি
A: ওয়েবসাইট র্যাঙ্ক করার জন্য একটি ওয়েবসাইটে যেসব টেকনিক্যাল উন্নয়ন করা হয়, তাকে টেকনিক্যাল এসইও বলে।
Q:Black hat seo কি?
A: গুগল র্যাংকিং গাইডলাইনের বাইরে গিয়ে অবৈধ পদ্ধতিতে এসইও করাকে ব্ল্যাক হ্যাট এসইও বলা হয়।
আপনার জন্য কিছুকথা
আমি খুব সহজ ভাবে অফ পেজ এসইও কে এই আর্টিকেলে বুঝিয়ে দিয়েছি। তবে আমি প্রতিনিয়ত এই কন্টেন্ট টি আপডেট করবো। যাতে করে আপনারা আমার লেখা থেকে উপকৃত হতে পারেন।
তবে আমার লেখাটি পড়ার পর যদি আপনার মনে কোনো প্রশ্ন থাকে তাহলে সেটি নিচে কমেন্ট করবেন। আর এতক্ষন ধরে আমার সাথে থাকার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।



