আপনি যদি ইন্টারনেটে একটি ব্যবসা শুরু করতে চান বা একটি সফল ব্লগ তৈরি করতে চান, তাহলে অবশ্যই আপনাকে একটি নিশ নির্বাচন করতে হবে। কারণ, নিশ হলো আপনার অনলাইন জগতের পরিচয়। এটি আপনার ওয়েবসাইটের বিষয়বস্তু, টার্গেট করা ভিজিটর এবং মার্কেটিং কৌশল নির্ধারণ করতে সহায়তা করবে।
কিন্তু কীভাবে সঠিক নিশ নির্বাচন করবেন, তা অনেকের জন্যই একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তাই এই আর্টিকেলে আমরা নিশ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো এবং আপনাকে সঠিক নিশ নির্বাচনে সাহায্য করবো। তো আর দেরী না করে চলুন সরাসরি মূল আলোচনায় ফিরে যাওয়া যাক।
নিশ (Niche) কি?
নিশ হলো একটি নির্দিষ্ট বিষয় বা ক্ষেত্র, যেখানে আপনি আপনার সমস্ত মনোযোগ ও দক্ষতা কেন্দ্রীভূত করবেন। এটি এমন একটি বিষয়, যার উপর আপনি গভীরভাবে জানবেন এবং যার সম্পর্কে আপনার অনেক কিছু বলার থাকবে। সেখান থেকে আপনি আপনার ব্লগের ভিজিটরদের নতুন নতুন ধারনা দিতে পারবেন।
ধরুন, আপনি ফ্যাশন সম্পর্কে খুবই আগ্রহী। আপনি বিভিন্ন ধরনের ফ্যাশন ট্রেন্ড সম্পর্কে জানেন, নতুন ফ্যাশন আইটেম পরীক্ষা করে দেখেন এবং ফ্যাশন সম্পর্কে আপনার নিজস্ব ধারণা রয়েছে। এই ক্ষেত্রে, ফ্যাশন হলো আপনার একটি সম্ভাব্য নিশ যেটি উপর ভিত্তি করে আপনি আপনার ব্লগ শুরু করতে পারবেন।
নিশ বলতে কি বোঝায়? (উদাহরণ)
এবার নিশকে একটি বাগানের মতো মনে করুন। আপনি যেমন একটি বাগানে বিভিন্ন ধরনের ফুল গাছ লাগান এবং সেগুলোর যত্ন নেন, তেমনিভাবে আপনার নিশের মধ্যে আপনি বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট তৈরি করবেন এবং সেগুলোর যত্ন নেবেন।
যদি আপনি একটি ফুলের বাগানে সব ধরনের ফুল লাগান, তাহলে কোনো একটি ফুলের যথাযথ যত্ন নিতে না পারার কারণে আপনার বাগানটি সুন্দর হবে না। একইভাবে, যদি আপনার নিশ খুব বড় হয়, তাহলে আপনি সব বিষয়ে ভালোভাবে কনটেন্ট তৈরি করতে পারবেন না। তাই সর্বদা সঠিক নিশ নিয়ে ব্লগ শুরু করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
নিশ কত প্রকার ও কি কি?
যদিওবা নিশের অনেক ধরন আছে। তবে প্রাথমিকভাবে আমরা নিশ কে মোট দুইটি ভাগে ভাগ করতে পারি। আর সেগুলো হলো,
- ব্রড নিশ (Broad niche)
- ন্যারো নিশ (Narrow niche)
ব্রড নিশ কাকে বলে?
ব্রড নিশ হলো এমন একটি নিশ যা খুব বড় আকারের হয়। এটি একটি বিশাল সমুদ্রের মতো, যেখানে অনেক কিছুই আছে। উদাহরণস্বরূপ, “ফ্যাশন” একটি ব্রড নিশ। ফ্যাশনের মধ্যে আবার অনেক ছোট ছোট নিশ আছে, যেমন পুরুষের ফ্যাশন, মহিলার ফ্যাশন, শিশুর ফ্যাশন, স্পোর্টসওয়্যার ইত্যাদি।
Narrow niche কাকে বলে?
ন্যারো নিশ হলো আপনার ব্যবসার টার্গেটকে আরও ছোট এবং নির্দিষ্ট করে ফোকাস করার একটি কৌশল। এটি আপনার ব্যবসার টার্গেটকে প্রয়োজন, আকাঙ্ক্ষা এবং চিন্তাভাবনাকে আরও ভালভাবে বুঝতে সাহায্য করে। যেমন ধরুন, আপনি যদি একটি ফ্যাশন ব্র্যান্ড শুরু করতে চান, তাহলে আপনার টার্গেট নিশ হবে শুধু “মহিলার শাড়ী”।
ব্রড নিশ ও ন্যারো নিশ এর মধ্যে পার্থক্য
| Broad niche | Narrow niche |
| অনেক বড় বিষয় যা বেশি ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত হয়। | একটি ছোট, নির্দিষ্ট বিষয় যা কম সংখ্যক ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত হয়। |
| উদাহরণ- মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, গাড়ি | উদাহরণ- অ্যাপল আইফোন ১৪ প্রো ম্যাক্স, ডেস্কটপ কম্পিউটার, ইলেকট্রিক গাড়ি |
| অনেক বেশি সার্চ ভলিউম থাকে। | ব্রড নিশের তুলনায় সার্চ ভলিউম কম থাকে। |
| অনেক বেশি কম্পিটিশন থাকে। | কম কম্পিটিশন থাকে। |
| টার্গেট অডিয়্যান্স অনেক বেশি হয়। | টার্গেট অডিয়্যান্স এর পরিমান কিছুটা কম হয়। |
| সাধারণত কম কনভার্শন রেট থাকে। | বেশি কনভার্শন রেট থাকে। |
নিশের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু?
মনে করুন, আপনি একজন শেফ। আপনি সব ধরনের খাবার রান্না করতে পারেন, তবে আপনি যদি একইসাথে সব ধরনের খাবারের রেসিপি শেয়ার করার চেষ্টা করেন, তাহলে কী হবে? -দর্শকরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়বে এবং আপনার খাবারের মধ্যে কোনটি সেরা তা বুঝতে পারবে না।
ঠিক একইভাবে, একটি ব্লগের ক্ষেত্রেও নিশ বা বিষয় নির্বাচন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি নির্দিষ্ট নিশ নির্বাচন করে আপনি আপনার ব্লগকে একটি সুনির্দিষ্ট দিকে নিয়ে যেতে পারবেন। যা আপনার ভিজিটরদের কাছে অনেক বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠতে সহায়তা করবে। কেননা, ব্লগিং সেক্টরে নিশের ভূমিকা অপরিসীম। তার কারণ গুলো নিচে দেওয়া হলো।
০১-অডিয়্যান্স যাচাই করা

নিশ নির্বাচনের মাধ্যমে আপনি নির্দিষ্ট ধরনের ভিজিটরদের টার্গেট করতে পারবেন। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনার নিশ হয় “বেবি কেয়ার”, তাহলে আপনি নতুন মা-দের কাছে পৌঁছাতে পারবেন। এছাড়াও সার্চ ইঞ্জিন গুলো আমাদের ব্লগকে নির্দিষ্ট নিশের ভিত্তিতে র্যাঙ্ক করে থাকে। তো যদি আপনার নিশ সঠিক ভাবে নির্বাচিত হয়, তাহলে আপনার ব্লগ সার্চ ইঞ্জিনের ফলাফলে টপ পজিশনে।
০২-ব্রান্ডিং করার সুবিধা

আপনার ব্লগের সুস্পষ্ট ব্র্যান্ড আইডেন্টিটি থাকলে আপনি সঠিক পাঠকদের আকর্ষণ করতে পারবেন। যেমন, আপনার ব্লগ যদি ফ্যাশন সম্পর্কে হয়, তাহলে ফ্যাশনপ্রেমীরা আপনার ব্লগে আসবে। কারণ, সুসংগঠিত ব্র্যান্ড পাঠকদের মনে বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায়।
এতে তারা বুঝতে পারবে আপনি কী নিয়ে লেখেন এবং আপনার কনটেন্টের মান কেমন। তাই হাজার হাজার ব্লগের মধ্যে আপনার ব্লগকে আলাদা করে তুলতে ব্র্যান্ডিং একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে কাজ করবে।
০৩-সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন (SEO)

নির্দিষ্ট নিশ নির্বাচন করে আপনি সার্চ ইঞ্জিনে আপনার ব্লগকে সহজে র্যাঙ্ক করতে পারবেন। যখন আপনি নির্দিষ্ট কিওয়ার্ড ব্যবহার করে লেখালিখি করবেন, তখন সার্চ ইঞ্জিন গুলো আপনার ব্লগকে সেই কিওয়ার্ডের সাথে সম্পর্কিত সার্চ রেজাল্টে দেখাবে।
০৪-সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং

আপনি যদি একজন ব্লগার হয়ে থাকেন, তাহলে আপনি অবশ্যই চাইবেন আপনার ব্লগটি যেন আরো বেশি মানুষের কাছে পৌঁছায়। এই লক্ষ্যে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং একটি কার্যকরী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। আর এই হাতিয়ারকে আপনি তখনি কাজে লাগাতে পারবেন যখন আপনার নির্দিষ্ট একটি নিশ সিলেক্ট করা হবে।
০৫-ব্লগিং থেকে আয়ের উৎস

কোনো নির্দিষ্ট নিশ নির্বাচন করে আপনি আপনার ব্লগ থেকে আয় করার বিভিন্ন উপায় খুঁজে নিতে পারবেন। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনার নিশ হয় “ফ্যাশন”, তাহলে আপনি ফ্যাশন সম্পর্কিত পণ্য বিক্রয় করতে পারবেন, অথবা ফ্যাশন ব্র্যান্ডের সাথে পার্টনারশিপ করতে পারবেন। আবার আপনি যদি প্রোডাক্ট রিভিউ নিশে কাজ করেন তাহলে বিভিন্ন কোম্পানি তাদের প্রোডাক্ট এর রিভিউ দেওয়ার জন্য অফার করবে।
নিশ সিলেকশন কি?
নিশ সিলেকশন হলো আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগের জন্য একটি নির্দিষ্ট বিষয় বা ক্ষেত্র নির্বাচন করা। এটি সেই বিষয়, যা সম্পর্কে আপনি আপনার ওয়েবসাইটে লিখবেন, ভিডিও তৈরি করবেন বা অন্য কোন ধরনের কনটেন্ট তৈরি করবেন। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনার নিশ হয় “ফ্যাশন”, তাহলে আপনি আপনার ওয়েবসাইটে ফ্যাশন ট্রেন্ড, ফ্যাশন টিপস, ফ্যাশন শো ইত্যাদি সম্পর্কে লিখবেন।
কিভাবে নিশ সিলেকশন করতে হয়?
আপনি যদি ব্লগিং শুরু করার পরিকল্পনা করেন, তাহলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত হলো আপনার নিশ বা বিষয় নির্বাচন করা। আপনার ব্লগের সফলতার জন্য একটি সঠিক নিশ নির্বাচন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ, একটি ভালো নিশ আপনাকে সঠিক ভিজিটরদের আকর্ষণ করতে, আপনার কনটেন্টকে আরও প্রাসঙ্গিক করতে এবং আপনার ব্লগকে অন্যদের থেকে আলাদা করতে সাহায্য করবে। তাই কিভাবে আপনি আপনার ব্লগের জন্য নিশ সিলেকশন করবেন তার কিছু পদ্ধতি নিচে দেওয়া হলো। যেমন,
১.আগ্রহ ও দক্ষতা
এই দুটি বিষয় নিশ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আপনি যে বিষয়ে পড়াশোনা করছেন, যদি সে বিষয়ে আপনার মন না বসে, তাহলে আপনি কখনোই সেই ক্ষেত্রে সফল হতে পারবেন না। তাই, নিজের আগ্রহ ও দক্ষতার সাথে মিল রেখে নিশ নির্বাচন করবেন।
উদাহরণ: যদি আপনি ছোটবেলা থেকেই কম্পিউটার গেম খেলতে ভালোবাসেন এবং প্রোগ্রামিং সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হন, তাহলে কম্পিউটার সায়েন্স নিশ আপনার জন্য উপযুক্ত হবে। কিন্তুু আপনাকে যদি অন্য নিশ দেওয়া হয় তাহলে একটা সময় গিয়ে আপনাকে হাল ছেড়ে দিতে হবে।
২.বাজার গবেষণা
আপনাকে এমন একটি নিশ নিয়ে কাজ করতে হবে যার ব্যাপক পরিমান চাহিদা আছে। কারন, যদি চাহিদা না থাকে তাহলে আপনি সেই নিশে যতো ভালো কন্টেন্ট পাবলিশ করুন না কেন, তা থেকে আপনি কোনো রকম বেনিফিট পাবেন না। আর বর্তমান সময়ে Google Trends, Keyword Planner ইত্যাদি টুল ব্যবহার করে কোন নিশের চাহিদা বেশি তা খুব সহজে চেক করতে পারবেন।
৩. প্রতিযোগিতা বিশ্লেষণ
প্রতিযোগীদের বিশ্লেষণ করে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার জন্য কোন নিশটি সবচেয়ে উপযুক্ত। কোন নিশে কম প্রতিযোগিতা আছে, কোন নিশে বেশি, কোন নিশে ভালো সুযোগ আছে এবং কোন নিশে আরও বেশি কাজ করতে হবে তা অবশ্যই বিশ্লেষন করতে হবে।
এছাড়াও আপনার প্রতিযোগীরা কীভাবে কাজ করছে, তারা কী ধরনের কনটেন্ট তৈরি করছে, কীভাবে তারা গ্রাহকদের আকর্ষণ করছে, এসব বিশ্লেষণ করে আপনি আপনার জন্য সঠিক কৌশল নির্ধারণ করতে পারবেন।
৪.আয়ের সম্ভাবনা
আপনার নির্বাচিত নিশের মাধ্যমে আপনি কীভাবে আয় করতে পারবেন তা ভেবে দেখবেন। বিজ্ঞাপন, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, ডিজিটাল পণ্য বিক্রি ইত্যাদির মাধ্যমে আপনি আয় করতে পারবেন। তবে আপনার বাছাই করা নিশে কোন পদ্ধতিতে কেমন আয় হবে তা অবশ্যই রিসার্চ করে দেখবেন।
৫.দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা
সত্যি বলতে ব্লগিং হলো এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এখানে আপনাকে ধৈর্য্য নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করে যেতে হবে। আর সেজন্য অবশ্যই আপনার মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকতে হবে।
১০ টি নিশ এর নাম
এতক্ষনের আলোচনা থেকে আমরা নিশ (Niche) কি এবং নিশ সিলেকশন করার উপায় গুলো জানলাম। তো এবার আমি আপনার সাথে মোট ১০ টি নিশ এর নাম শেয়ার করবো। আশা করি, আপনি যদি এই নিশ গুলো নিয়ে ব্লগিং করেন তাহলে আপনি সবদিক থেকে বেনিফিট পাবেন। আর সেই ১০ টি নিশ এর নাম নিচে ধাপে ধাপে শেয়ার করা হলো।
১) টেকনোলোজি
টেকনোলজি দিন দিন এগিয়ে চলেছে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, রোবটিক্স, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি – এই সবই আমাদের জীবনে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে। আগামী দিনে টেকনোলজি আমাদের আরও বেশি সুবিধা দেবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তাই আপনি যদি এই নিশ নিয়ে ব্লগিং করেন তাহলে আপনার সফলতা পাওয়ার সম্ভাবনা কয়েকগুন বৃদ্ধি পাবে।
২) ভ্রমণ গাইডলাইন
আপনার ভ্রমণের অভিজ্ঞতা অন্যদের সাথে শেয়ার করার মতো সুন্দর আর কিছু হতে পারে না। আপনার ব্লগের মাধ্যমে আপনি অন্যদেরকে আপনার ভ্রমণের গল্প বলতে পারবেন, তাদের নতুন জায়গা দেখাতে পারবেন এবং ভ্রমণের পরিকল্পনায় সাহায্য করতে পারবেন।
ভ্রমণ ব্লগ হলো বিশেষ এক ধরনের সৃজনশীলতা প্রকাশের মাধ্যম। যেখানে আপনি আপনার ভ্রমণের অভিজ্ঞতা গুলোকে শব্দ, ছবি এবং ভিডিওর মাধ্যমে সুন্দর করে তুলে ধরতে পারবেন। যার ফলে আপনার ব্লগের পাঠকরা তাদের কাঙ্খিত বিষয় গুলো আগে থেকেই জানতে পারবে।
৩) লাইফ স্টাইল এন্ড ফ্যাশন
লাইফস্টাইল এবং ফ্যাশন ব্লগ হলো এমন একটি অনলাইন জার্নাল, যেখানে আপনি আপনার দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন দিক, যেমন ফ্যাশন, সাজসজ্জা, খাবার, ভ্রমণ, স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য আগ্রহের বিষয় নিয়ে লিখতে পারবেন। এটি আপনার ব্যক্তিগত স্টাইল, পছন্দ এবং অভিজ্ঞতাকে প্রকাশ করার একটি দুর্দান্ত মাধ্যম। যেগুলো শেয়ার করে আপনি আপনার ব্লগ থেকে আয় করতে পারবেন।
৪) পোষা প্রানী
আপনার ঘরের কোণে একটা ছোট্ট জীবন আছে, যে আপনার দিনকে উজ্জ্বল করে তোলে। হয়তো সে একটা মিউমিউ করতে ভালোবাসা বিড়াল, বা লেজ নাড়িয়ে আপনাকে স্বাগত জানায় এমন একটা কুকুর। এই পোষা প্রাণীরা আমাদের জীবনে আনন্দ, সান্ত্বনা এবং অনেক কিছু যোগ করে। আর এই আনন্দকে আরও বাড়াতে এবং আপনার পোষ্য প্রাণীকে সুস্থ রাখতে, আপনি একটি পোষা প্রাণী সংক্রান্ত ব্লগ শুরু করতে পারবেন। বর্তমান সময়ে এই নিশের ব্লগ গুলো ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
৫) ফাইন্যান্স টিপস
আপনি যদি আর্থিক দিক সম্পর্কে ভালো জানেন, তাহলে ব্লগের মাধ্যমে আপনার জ্ঞান অন্যদের সাথে ভাগ করে নিতে পারবেন। আপনার ব্লগের মাধ্যমে আপনি অন্যদেরকে অর্থ ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ এবং ঋণ পরিশোধের মতো বিষয় গুলো শিখতে সাহায্য করতে পারবেন।
এছাড়াও ফাইন্যান্স ব্লগ লেখার মাধ্যমে আপনি নিজেও অর্থ সম্পর্কে অনেক কিছু শিখবেন। বিভিন্ন ধরনের বিনিয়োগ, ট্যাক্স, বীমা, এই সব বিষয়ে গবেষণা করার সময় আপনার জ্ঞানের ভান্ডার বেড়ে যাবে।
৬) আপডেট টিপস এন্ড ট্রিকস
আপনি সুস্বাদু রান্নার মাস্টার, গাছগাছালি চাষ আপনার প্রিয় কাজ বা আপনার মনে হয় যে আপনার জানা কোনো বিষয়ে অন্যদের কিছু শেখানোর মতো আছে, তাহলে ব্লগিং আপনার জন্যই। ব্লগিং শুধু লেখালেখি করার মাধ্যম নয়, বরং এটি আপনার জ্ঞানকে অন্যদের সাথে ভাগ করে নেওয়ার একটি দুর্দান্ত প্লাটফর্ম। যেখানে আপনি আপনার দক্ষতার ভিত্তিতে বিভিন্ন ধরনের টিপস এন্ড ট্রিকস শেয়ার করতে পারবেন।
৭) নিউজ ওয়েবসাইট
নিউজ ব্লগ হলো এমন একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম যেখানে বিভিন্ন বিষয়ের উপর নিয়মিত খবর ও বিশ্লেষণ প্রকাশ করা হয়। সাধারণত, নিউজ ব্লগ গুলো নির্দিষ্ট কোনো একটা বিষয় বা ক্ষেত্রকে কেন্দ্র করে থাকে। যেমন, রাজনীতি, অর্থনীতি, প্রযুক্তি, ক্রীড়া ইত্যাদি। আর চাইলে আপনিও একটি নিউজ নিশ নিয়ে ব্লগিং শুরু করতে পারবেন। তবে এই ধরনের নিশ নিয়ে ব্লগিং করতে চাইলে আপনার টিমে বেশ কিছু মেম্বার থাকা দরকার। যারা আপনার ব্লগের যাবতীয় কাজ গুলো করতে সহায়তা করবে।
৮) হেলথ টিপস
আপনার স্বাস্থ্য সম্পর্কিত জ্ঞান অন্যদের জীবনকে বদলে দিতে পারবে। হ্যাঁ, এটা সম্ভব। স্বাস্থ্য ও ফিটনেস সম্পর্কে আপনার যে জ্ঞান রয়েছে, তা অন্যদের সাথে ভাগ করে নেওয়ার সেরা মাধ্যম হলো ব্লগ। আপনার ব্লগ এমন একটি প্ল্যাটফর্ম হবে যেখানে আপনি স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে, অন্যদেরকে সুস্থ জীবন যাপনের দিকে উৎসাহিত করতে এবং আপনার নিজের জ্ঞানকে আরও শক্তিশালী করতে পারবেন।
৯) শিক্ষা ও পড়াশোনা
শিক্ষা বিষয়ক ব্লগ গুলো শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এই ব্লগ গুলোর মাধ্যমে শিক্ষকরা নতুন শিক্ষণ পদ্ধতি, শিক্ষা উপকরণ এবং শিক্ষার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। শিক্ষার্থীরা শিক্ষা বিষয়ক ব্লগ গুলো থেকে বিভিন্ন বিষয়ে তাদের জ্ঞান বাড়াতে পারে, পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারে এবং তাদের শিক্ষাগত সমস্যার সমাধান খুঁজে নিতে পারে।
১০) অনলাইন ইনকাম
অনলাইন থেকে টাকা আয় করা যায় এই বিষয়টি এখন কমবেশি সবাই জানে। কিন্তুু কিভাবে আমরা এই অনলাইন থেকে আয় করতে পারবো তার পদ্ধতি গুলো অনেকেই জানিনা। তো আপনি চাইলে একটি ব্লগ তৈরি করার পর সেই ব্লগে নিয়মিত অনলাইন ইনকাম করার বিভিন্ন টিপস এন্ড ট্রিকস শেয়ার করতে পারবেন। যেগুলো অনুসরন করে আপনার ব্লগের পাঠকরা অনলাইন আয় সম্পর্কে আরো পরিস্কার ধারনা নিতে পারবে।
বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর-
নিশ কাকে বলে ও নিশ কত প্রকার- আশা করি এই বিষয়ে পরিস্কার ধারনা পেয়ে গেছেন। তবে এরপরও আপনার মনে নিশ সম্পর্কিত আরো নানা ধরনের প্রশ্ন থাকতে পারে। আর সেগুলোর মধ্যে কিছু প্রশ্নের উত্তর নিচে দেওয়া হলো। যেগুলো আপনার ব্লগিং জ্ঞানকে আরো মজবুত করতে সহায়তা করবে।
Niche কী?
আপনি যখন আপনার ব্লগের কন্টেন্ট পাবলিশ করার জন্য নির্দিষ্ট একটি টপিক বা বিষয় নির্বাচন করবেন তখন সেই টপিককে বলা হবে নিশ। যেমন, আপনি খেলাধুলা নিয়ে কন্টেন্ট পাবলিশ করলে আপনার নিশ হবে খেলাধুলা।
নিশ অর্থ কি?
“Niche” শব্দটি সরাসরি ফরাসি ভাষা থেকে এসেছে। তবে Niche শব্দের বাংলা অর্থ গুগল সার্চ করলে পাওয়া যাবে ”একটি বিশেষ বাজার বা কুলুঙ্গি”।
নিশ সিলেকশন?
বর্তমান সময়ে অসংখ্য নিশের মধ্যে যখন আপনি নির্দিষ্ট একটি নিশকে বাছাই করবেন তখন তাকে বলা হবে নিশ সিলেকশন। যে নিশের উপর আপনি আপনার ব্লগে কন্টেন্ট পাবলিশ করবেন।
নিশ মার্কেটিং কি?
নিশ মার্কেটিং হলো এমন একটি বিশেষ ধরনের মার্কেটিং কৌশল যেখানে একটি ব্যবসা নির্দিষ্ট একটি ছোট্ট বাজারে ফোকাস করে। এই বাজারটি সাধারণত বড় বাজারের একটি অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। যেখানে বিশেষ চাহিদা ও আগ্রহ সম্পন্ন গ্রাহকরা থাকে।
ইন্টারন্যাশনাল নিস কি?
আপনি যখন দেশীয় গ্রাহকের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের টার্গেট করে নিশ সিলেকশন করবেন তখন তাকে বলা হবে ইন্টারন্যাশনাল নিস। যার মাধ্যমে বিদেশের ভিজিটররাও আপনার ব্লগের কন্টেন্ট পড়ার জন্য আসবে।
আপনার জন্য আমাদের কিছুকথা
প্রিয় পাঠক, আজকের আর্টিকেলে আমরা নিশ সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে বিষদভাবে আলোচনা করেছি। যা থেকে আপনি আপনার ব্লগিং জার্নির প্রথম ধাপটি খুব সহজেই অতিক্রম করতে পারবেন। তবে এরপরও যদি আপনার নিশ সম্পর্কিত আরো প্রশ্ন থাকে তাহলে নিচে কমেন্ট করবেন। আর আপনার জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য ফ্রিল্যান্সিং এর ভবিষ্যৎ কি ও ব্লগ কী লেখা দুটো পড়বেন। ধন্যবাদ, ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।



