কীওয়ার্ড কী? কীভাবে কীওয়ার্ড ব্যবহার করা হয়? কীওয়ার্ড রিসার্চ কেন গুরুত্বপূর্ণ? – এই প্রশ্নের উত্তর খুজছেন? তাহলে আপনি সঠিক লিংকে ক্লিক করেছেন। কারণ, আজকে আমি আপনার সাথে কিওয়ার্ড রিসার্চ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ টিউটোরিয়াল শেয়ার করবো।
তাই আসুন, আজকে আমরা কিওয়ার্ড সম্পর্কে যাবতীয় অজানা বিষয় গুলো জেনে নেই। সেইসাথে কিভাবে আপনি কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে পারবেন তার পদ্ধতি গুলো শিখে নেই।
কিওয়ার্ড কাকে বলে?
এক বা একাধিক শব্দের সমন্বয়ে গঠিত, যা আমরা Google, Yahoo, Bing, DuckDuckGo, YouTube, Facebook-এর মতো সার্চ ইঞ্জিনে ব্যবহার করে আমাদের কাঙ্ক্ষিত তথ্য খুঁজে বের করি। সেই শব্দের সমন্বয়কে বলা হয় কিওয়ার্ড (Keyword).
যেমন আপনি গুগলে গিয়ে “ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার উপায়” লিখে সার্চ করলেন। তো এটি হলো এক ধরনের কিওয়ার্ড। এভাবে আমরা সার্চ ইঞ্জিন গুলোতে যা লিখে সার্চ করি তাকে বলা হবে কিওয়ার্ড।
সর্বদা মনে রাখবেন, কিওয়ার্ড হলো এক ধরণের গুরুত্বপূর্ণ শব্দের সমন্বয়, যা সঠিক ভাবে রিসার্চ করা উচিত। কারণ,একটি চাবি দিয়ে যেভাবে ঘরের দরজা খোলা যায়, ঠিক তেমনি ভাবে সঠিক কিওয়ার্ড রিসার্চ ও ব্যবহার করে আপনি আপনার লেখার দরজা খুলতে পারেন অসংখ্য পাঠকের কাছে।
কিওয়ার্ড রিসার্চ কি?
সহজ কথায়, কিওয়ার্ড রিসার্চ হলো সেই শব্দ বা বাক্যাংশ গুলো খুঁজে বের করার প্রক্রিয়া যা আপনার টার্গেট অডিয়েন্স অনলাইনে তথ্য অনুসন্ধান করার জন্য ব্যবহার করে।
উপরের পিকচারে লক্ষ্য করুন, আমি শুধুমাত্র “কিওয়ার্ড” – লিখে সার্চ করেছি। তারপর গুগল আমাকে ঐ শব্দের উপর ভিত্তি করে মানুষ আর কি কি লিখে সার্চ করে সেটি দেখিয়ে দিচ্ছে। তো এটি হলো কিওয়ার্ড রিসার্চ করার অন্যতম একটি অংশ।
তবে শুধুমাত্র সার্চ ইঞ্জিন থেকে এমন শব্দচাবি খুজে বের করাকে কিওয়ার্ড রিসার্চ বলা যাবেনা। কারণ, রিসার্চ করার জন্য আপনাকে আরো অনেক কাজ করতে হবে। যেমন, সেই কিওয়ার্ডের ভলিউম চেক করতে হবে, ডিফিকাল্টি চেক, রিলিভেন্ট কিওয়ার্ড চেক ইত্যাদি ইত্যাদি।
মনে করুন, আপনি আপনার টার্গেট করা অডিয়্যান্সদের সার্চ ইঞ্জিনে কোন কিওয়ার্ড লিখে সার্চ করে সেটি বের করলেন। এখন আপনাকে জানতে হবে যে, কি পরিমান মানুষ উক্ত কিওয়ার্ড লিখে সার্চ করে, সেই কিওয়ার্ড নিয়ে কোন কোন ওয়েবসাইট কাজ করেছে ইত্যাদি বিষয় গুলো যাচাই করার প্রক্রিয়াকে বলা হবে কিওয়ার্ড রিসার্চ।
কিওয়ার্ড কিভাবে কাজ করে?
কখনও কি ভেবে দেখেছেন, ইন্টারনেটের বিশাল সমুদ্রে আপনার পছন্দের ওয়েবসাইট গুলো কীভাবে আপনার সামনে হাজির হয়? -এর পেছনে লুকিয়ে আছে অনেক রোবোটিক প্রোগ্রামিং এর কাজ। তবে তার মধ্যে অন্যতম একটি কাজ হলো, “কিওয়ার্ড”।
আমরা সার্চ ইঞ্জিনে যে শব্দ বা বাক্যাংশ লিখে তথ্য খুঁজি তাকে কিওয়ার্ড বলে। যেমন, “সুস্বাদু রেসিপি”, “রোমাঞ্চকর ভ্রমণ”, “সেরা মোবাইল ফোন” ইত্যাদি।আর যখন আমরা সার্চ ইঞ্জিনে কিওয়ার্ড টাইপ করি, তখন সেটি আমাদের সার্চের সাথে প্রাসঙ্গিক ওয়েবসাইট, নিবন্ধ, ছবি, ভিডিও ইত্যাদির তালিকা প্রদর্শন করে আমাদের সামনে।
কিন্তুু আপনি কি একবারও ভেবে দেখেছেন যে, সার্চ ইঞ্জিনে কিওয়ার্ড লিখে সার্চ করার সাথে সাথে এমন তথ্য পাওয়া যায়? -তো যদি আপনি এই বিষয়টি জানতে চান তাহলে আপনাকে বুঝতে হবে যে, কিওয়ার্ড কিভাবে কাজ করে।
কিওয়ার্ড কিভাবে কাজ করে?
- ক্রলিংঃ প্রথমত কোনো ওয়েবসাইটে যখন নতুন তথ্য/পেজ পাবলিশ করা হয়, তখন গুগল ক্রলার সেই তথ্য গুলোকে ক্রল করে।
- ইনডেক্সিংঃ এরপর সেই ক্রলার ওয়েবসাইটের মূল বিষয়বস্তু সংগ্রহ করে এবং সার্চ ইঞ্জিনের ইনডেক্সে সংরক্ষণ করে। যেন পরবর্তীতে সেই তথ্য গুলোকে সার্চ রেজাল্টে প্রদর্শন করা যায়।
- সার্চঃ আমরা যখন সার্চ ইঞ্জিনে কিওয়ার্ড টাইপ করি, তখন সার্চ ইঞ্জিন ক্রলার নামক রোবট তার নিকট ইনডেক্স থাকা ওয়েবসাইট গুলো পুনরায় স্ক্যান করে।
- র্যাঙ্কিংঃ তারপর আমাদের সার্চের সাথে প্রাসঙ্গিক ওয়েবসাইট গুলো খুঁজে বের করে বিভিন্ন অ্যালগরিদম ফলো করে র্যাংক প্রদান করে।
- ফলাফলঃ সবশেষে সার্চ রেজাল্টের ফলাফল গুলো আমাদের সামনে প্রদর্শশিত হয়।
আর এখান থেকে এটা ষ্পষ্ট প্রমাণিত যে, সার্চ রেজাল্টে র্যাংক পাওয়ার জন্য কিওয়ার্ড কে খুব ভালোভাবে ব্যবহার করতে হয়। কারণ, সার্চ ইঞ্জিনে কিওয়ার্ডের উপর ভিত্তি করে ক্রলার তার ইনডেক্সে থাকা ডেটা গুলোকে স্ক্যান করে। আর সবশেষে আমরা আমাদের কিওয়ার্ডের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন লিংক, পেজ, ইমেজ, ভিডিও দেখতে পাই।
কিওয়ার্ড কত প্রকার ও কি কি?
উপরের আলোচনা থেকে আমরা keyword কি ও কিওয়ার্ড রিসার্চ কি তা জানলাম। কিন্তুু আপনি কি জানেন, মানুষের সার্চ করা কিওয়ার্ড গুলোকে আরো বেশ কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়? – টার্গেট করা অডিয়্যান্সের সার্চ করা কিওয়ার্ড গুলোকে বেশ কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। তবে ধরন হিসেবে মোট ০২ প্রকারের কিওয়ার্ড খুজে পাওয়া যায়।
- শর্ট-টেইল কিওয়ার্ড (Short-Tail Keyword)
- লং-টেইল কিওয়ার্ড (Long-Tail Keyword)
এখন হয়তবা আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, শর্ট-টেইল ও লং-টেইল কিওয়ার্ড কাকে বলে। তাই চলুন সে সম্পর্কে সঠিক তথ্য জেনে নেওয়া যাক।
শর্ট-টেইল কিওয়ার্ড কি?
SEO-র জগতে, কিওয়ার্ড হলো রহস্যের চাবি, যা আপনার ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে টার্গেট করা অডিয়্যান্সের নিকট পৌঁছে দিতে সক্ষম। তবে তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো, শর্ট টেইল কিওয়ার্ড। কারণ, শর্ট টেইল কিওয়ার্ড গুলো খুব ছোটো হয় যা এক থেকে তিন শব্দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
যেমন ধরুন, আপনি গুগলে গিয়ে সার্চ করলেন, “মোবাইল ফোন”, ”রেসিপি”, “ট্যুরিস্ট স্পট”, “ফ্যাশন টিপস” ইত্যাদি। তো সার্চ ইঞ্জিনে এই শব্দ গুলোকে বলা হবে শর্ট টেইল কিওয়ার্ড। যদিওবা এই ধরনের কিওয়ার্ড নিয়ে কাজ করে অডিয়্যান্স নিয়ে আসা অনেক কঠিন। কিন্তুু আপনি যদি প্রোপার ওয়েতে কাজ করতে পারেন তাহলে এই কঠিন কাজটিও আপনার সহজ মনে হবে।
লং-টেইল কিওয়ার্ড কি?
সার্চ ইঞ্জিনে “মোবাইল ফোন” লিখে সার্চ করলে সেটি শর্ট টেইল কিওয়ার্ড হবে। কিন্তুু যখন আপনি গুগলে গিয়ে “১০ হাজার টাকার মোবাইল ফোন” – লিখে সার্চ করবেন তখন তাকে বলা হবে লং টেইল কিওয়ার্ড। তাই ছোটো ছোটো একাধিক বাক্যাংশ লিখে যখন সার্চ করা হয় তখন তাকে লং টেইল কিওয়ার্ড বলা হবে।
বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে কিওয়ার্ড কত প্রকার?
আমরা সবাই জানি যে, ধরনের উপর ভিত্তি করে কিওয়ার্ড কে দুইটি ভাগে ভাগ করা সম্ভব। তবে বৈশিষ্ট্য এর উপর ভিত্তি করে কিওয়ার্ড কে আরো বেশ কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। সেগুলো হলো,
- লোকাল কিওয়ার্ড (Local Keyword)
- ব্র্যান্ড কিওয়ার্ড (Branded Keyword)
- নেতিবাচক কিওয়ার্ড (Negative Keyword)
- রিলেটেড কিওয়ার্ড (Related Keyword)
- এলএসআই কীওয়ার্ড (LSI Keyword)
- কম্পিটিশন বেসড কিওয়ার্ড (Competition Based Keyword)
- মার্কেটিং বেসড কিওয়ার্ড (Marketing Based Keyword)
বিভিন্ন ধরনের বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে কিওয়ার্ড কে উপরের কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়। তাই চলুন এবার তাহলে উক্ত কিওয়ার্ড গুলো সম্পর্কে একটু ধারনা নেওয়া যাক। তাহলে আপনার পরবর্তী তথ্য গুলো বুঝতে সুবিধা হবে।
লোকাল কিওয়ার্ড কাকে বলে?
লোকাল কিওয়ার্ড হল নির্দিষ্ট ভৌগলিক অঞ্চলের গ্রাহকদের টার্গেট করার জন্য ব্যবহৃত শব্দ বা বাক্যাংশ। এই কিওয়ার্ড গুলোতে সাধারণত শহর, দেশ, অঞ্চল বা এমনকি পোস্টাল কোড অন্তর্ভুক্ত থাকে। যেমন, “Best Restaurant in Mirpur”, “Best Seller in Dhaka” ইত্যাদি।
লোকাল কিওয়ার্ড ব্যবহার করে, আপনি নিশ্চিত করতে পারেন যে আপনার বিজ্ঞাপন এবং ওয়েবসাইট কেবলমাত্র সেই লোকেদের কাছে দেখানো হবে যারা আপনার পণ্য বা পরিষেবায় আগ্রহী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এছাড়াও আপনার ব্যবসার নাম এবং পরিচয় প্রচার করার ক্ষেত্রেও লোকাল কিওয়ার্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ব্র্যান্ড কিওয়ার্ড কাকে বলে?
ব্র্যান্ড কিওয়ার্ড হল এমন এক ধরনের কিওয়ার্ড যা আপনার ব্র্যান্ডকে পরিচিত করে এবং গ্রাহকদের আকর্ষণ তৈরি করে। এই ধরনের শব্দ এবং বাক্যাংশ গুলোর মাধ্যমে আপনার ব্যবসা, পণ্য এবং পরিষেবা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ধারণ করতে সক্ষম।
যেমন ধরুন, “ABCD”- নামে আপনার একটি এসইও সার্ভিস এজেন্সি আছে। এখন মানুষ যদি গুগলে গিয়ে “ABCD Seo Service”, “ABCD Seo course” – লিখে সার্চ করে তাহলে সেগুলোকে বলা হবে ব্রান্ড কিওয়ার্ড।
নেতিবাচক কিওয়ার্ড কাকে বলে?
নেতিবাচক কিওয়ার্ড হলো এমন শব্দ বা বাক্যাংশ যা আপনার SEM প্রচারাভিযানে ব্যবহার করা হয়। যাতে আপনার বিজ্ঞাপন নির্দিষ্ট অনুসন্ধানী ব্যাক্তিদের নিকট না দেখানো হয়।
মনে করুন, আপনি পুরুষদের পোশাক বিক্রি করেন। আপনার সার্চ ইঞ্জিন বিপণন (SEM) প্রচারাভিযান চলছে, কিন্তু আপনার বিজ্ঞাপন “নারীদের পোশাক” অনুসন্ধানকারীদের কাছেও দেখা যাচ্ছে। বিষয়টা খুব বিরক্তিকর, তাইনা?
তো এই অপ্রাসঙ্গিক ট্রাফিক আপনার মূল্যবান বিজ্ঞাপন বাজেট নষ্ট করে এবং আপনার রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট (ROI) কমিয়ে দেয়। ঠিক সেইসময় আপনার প্রয়োজন হবে নেতিবাচক কিওয়ার্ড নিয়ে কাজ করা।
উদাহরণস্বরূপ, আপনি “নারী”, “মেয়ে”, “মহিলা” ইত্যাদিকে নেতিবাচক কিওয়ার্ড হিসেবে যোগ করলেন। এতে করে, আপনার বিজ্ঞাপন কেবলমাত্র “পুরুষদের পোশাক”, “ছেলেদের পোশাক” ইত্যাদি অনুসন্ধান কারীদের কাছেই দেখা যাবে।
রিলেটেড কিওয়ার্ড কাকে বলে?
রিলেটেড কিওয়ার্ড হল এমন শব্দ বা বাক্যাংশ যা আপনার টার্গেট করা প্রাথমিক কিওয়ার্ডের সাথে ঘনিষ্ঠ ভাবে সম্পর্কিত। এগুলো অর্থ দ্বারা সম্পর্কিত হতে পারে, আবার সমার্থক শব্দ, বা প্রসঙ্গ দ্বারা সম্পর্কিত হতে পারে।
উদাহরনস্বরুপ, আপনি গুগলে গিয়ে সার্চ করলেন, “এসইও কি”। এখন রিলেটেড কিওয়ার্ড হিসেবে আপনি আরো অনেক কিওয়ার্ড পাবেন যেমন, ”এসইও শিখতে কতদিন লাগে”, “সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং কি”, “এসইও ক্যারিয়ার” ইত্যাদি।
এলএসআই কীওয়ার্ড কাকে বলে?
LSI কীওয়ার্ড, যার পূর্ণরুপ হলো, Latent Semantic Indexing Keywords. বলে রাখা ভালো যে, SEO জগতে এলএসআই কিওয়ার্ড কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। কারণ, আমরা জানি যে, LSI কিওয়ার্ড গুলো আমাদের মূল কিওয়ার্ডের সাথে সম্পর্কিত। যার কারণে, গুগল সার্চ ইঞ্জিন দ্বারা স্বয়ংক্রিয় ভাবে সনাক্তকৃত শব্দগুচ্ছ কে বলা হয়, এলএসআই কিওয়ার্ড।
ধরুন, আপনি “মোবাইল” শব্দটি টার্গেট করে একটি ব্লগ পোস্ট লিখছেন। “মোবাইল” হলো আপনার মূল কিওয়ার্ড। এখন যদি আপনি LSI কীওয়ার্ড ব্যবহার করতে পারেন তাহলে আপনি আপনার পোস্টকে আরো সমৃদ্ধ এবং প্রাসঙ্গিক করে তুলতে পারবেন।
উদাহরণস্বরূপ: “মোবাইল ফোন”, “ সেরা স্মার্টফোন”, “ নতুন স্যামসাং মোবাইল”, “অ্যাপল মোবাইল দাম”, “মোবাইল ফোন দাম” ইত্যাদি।
কম্পিটিশন বেসড কিওয়ার্ড কাকে বলে?
যখন গ্রাহকরা অনলাইনে তথ্য খোঁজে, তখন তারা নির্দিষ্ট কিওয়ার্ড ব্যবহার করে। আর কম্পিটিশন বেসড কিওয়ার্ড একটি বিশেষ ধরণের কিওয়ার্ড যা একই ধরনের পণ্য বা পরিষেবা প্রদানকারী বিক্রেতারা ব্যবহার করে।
উদাহরণস্বরূপ, “20,000 টাকার সেরা ফোন” কিওয়ার্ডটি বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানি ব্যবহার করে, কারণ তারা একই দামের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন মডেলের স্মার্টফোন বিক্রি করে। যার কারণে এই ধরনের কিওয়ার্ড কে ব”লা হয়, কম্পিটিশন বেসড কিওয়ার্ড।
কমার্শিয়াল কিওয়ার্ড কাকে বলে?
মনে করুন, আপনার একটি ওয়েবসাইট আছে যেখানে প্রতিদিন হাজারো মানুষ আসে। কিন্তু তাদের মধ্যে কেবল কয়েক জন ভিজিটর আপনার ওয়েবসাইটে কেনাকাটা করছে। আর বাকি ভিজিটররা? তারা হয়তো তথ্য খুঁজছেন, অথবা কেবল ঘুরে দেখছেন।
কিন্তু যদি আপনার ওয়েবসাইটে এমন লোকদের আকর্ষণ করতে পারেন যারা সত্যি সত্যি আপনার প্রোডাক্ট কেনার প্রতি আগ্রহী? -হুমম, এখানেই কমার্শিয়াল ইন্টেন্ট কীওয়ার্ড বা মার্কেটিং বেসড কিওয়ার্ডের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
আমরা জানি, কীওয়ার্ড হলো সেই শব্দ বা বাক্য যা মানুষ অনলাইনে অনুসন্ধান করার সময় ব্যবহার করে। আর কমার্শিয়াল ইন্টেন্ট কীওয়ার্ড হলো সেই বিশেষ ধরণের কীওয়ার্ড যা কোনো কিছু কেনার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়।
উদাহরণস্বরূপ: “সেরা প্রোটিন পাউডার”, “মোবাইল ফোন 10,000 টাকার মধ্যে”, “নাইক জুতা রিভিউ”, “ডিএসএলআর ক্যামেরার দাম” ইত্যাদি। আপনি এই ধরনের কীওয়ার্ড গুলো ব্যবহার করে আপনার টার্গেটেড ট্রাফিকদের প্রোডাক্ট কেনার প্রতি আকর্ষণ তৈরি করতে পারবেন, যারা সত্যি আপনার পণ্য বা পরিষেবা কিনতে আগ্রহী।
কিওয়ার্ড রিসার্চ করার প্রয়োজনীয়তা কি?
মনে করুন, আপনি সুন্দর একটি রেস্তোরাঁ তৈরি করেছেন, যেখানে সুস্বাদু খাবার রান্না করা হয়। কিন্তু এরপরও আপনার রেস্তোরায় কোন গ্রাহক আসছে না। আর গ্রাহক না আসার মূল কারণ কি সেটা আপনি জানেন? -হুমম, গ্রাহক না আসার মুল কারণ হলো, কেউ জানে না আপনার রেস্তোরাঁ কোথায়, কি খাবার পাওয়া যায় এবং কেন তারা আপনার রেস্তোরাঁয় আসবে।
আর এই একই পরিস্থিতি আপনার ওয়েবসাইটের সাথেও ঘটতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনার ওয়েবসাইটে যতই মূল্যবান তথ্য থাকুক না কেন, যদি লোকেরা আপনার ওয়েবসাইট খুঁজে না পায়, তাহলে আপনার সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে। অথ্যাৎ আপনার সময় ও শ্রম সব বৃথা যাবে।
তবে এমন সমস্যা সমাধানে অন্যতম ভূমিকা পালন করবে, কিওয়ার্ড রিসার্চ। কারণ, যখন আপনি সঠিক ভাবে কিওয়ার্ড রিসার্চ করবেন তখন আপনি সেই শব্দ গুলোকে খুজে পাবেন যেগুলো আপনার গ্রাহকরা লিখে সার্চ করে। আর উক্ত কিওয়ার্ড গুলো খুজে পাওয়ার পর আপনি গ্রাহকদের আর্কষন বুঝতে পারবেন এবং আপনার ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিন র্যাংক করাতে পারবেন।
সবশেষে যখন আপনার ওয়েবসাইট সার্চ রেজাল্টে র্যাংক করবে তখন আপনার পন্য বা পরিষেবা সেল হওয়ার পরিমানও বৃদ্ধি পাবে। কিন্তুু এই কাজগুলো তখনি সঠিকভাবে সম্পন্ন হবে যখন আপনি সকল নিয়ম মেনে কিওয়ার্ড রিসার্চ করবেন।
কিভাবে কিওয়ার্ড রিসার্চ করা যায়?
keyword কি আশা করি সেটি নিয়ে আর নতুন করে কিছু বলতে হবেনা। কারণ, উক্ত বিষয় গুলো নিয়ে উপরে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করা হয়েছে। আর সেখানে আমি বারবার আপনাকে কিওয়ার্ড রিসার্চ করার কথা বলেছি। তাই আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, কিভাবে কিওয়ার্ড রিসার্চ করা যায়। তো বর্তমান সময়ে আপনি মোট দুইটি পদ্ধতিতে কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে পারবেন। যেমন,
- ম্যানুয়ালি কিওয়ার্ড রিসার্চ
- টুলস ব্যবহার করে কিওয়ার্ড রিসার্চ
বর্তমান সময়ে আপনার মতো যত ব্লগার কিংবা ওয়েবসাইট অর্নার আছেন তারা সবাই এই দুইটি পদ্ধতির মাধ্যমে কিওয়ার্ড রিসার্চ করে। আর আপনিও যদি এই পদ্ধতি গুলো ফলো করতে চান তাহলে আপনাকে এগুলোর কাজ সম্পর্কে জানতে হবে।
ম্যানুয়ালি কিওয়ার্ড রিসার্চ করার উপায়
কোনো সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন (SEO) টুল ব্যবহার না করে নিজে নিজে সম্ভাব্য কিওয়ার্ড খুঁজে বের করার প্রক্রিয়াকে বলা হয়, ম্যানুয়ালি কিওয়ার্ড রিসার্চ। তবে এই পদ্ধতিতে কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে গেলে আপনাকে অনেক শ্রম এবং সময় দিতে হবে। এর পাশাপাশি আপনাকে নিচে দেখানো নিয়ম গুলো ফলো করতে হবে।
আপনার ক্রেতাদের বুঝতে চেস্টা করুন
ম্যানুয়ালি কিওয়ার্ড রিসার্চ করার জন্য আপনার টার্গেট করা ক্রেতার সকল বিষয় চিন্তাভাবনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। যেখানে আপনাকে বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর খুজতে হবে। সেগুলো হলো,
- তাদের বয়স কত?
- তাদের পেশা কি?
- তাদের আগ্রহ কি?
- তাদের জ্ঞানের স্তর কত?
- তারা কি সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করছে?
- তারা কি নির্দিষ্ট তথ্য খুঁজছে?
- তারা কি কোনো পণ্য বা পরিষেবা সম্পর্কে জানতে চায়?
সর্বদা একটা কথা মাথায় রাখবেন, ম্যানুয়ালি কিওয়ার্ড রিসার্চ করার অন্যতম ধাপ হলো ক্রেতাদের বুঝতে পারা। আর যখন আপনি আপনার টার্গেট করা ক্রেতাদের উপরোক্ত বিষয় গুলো জানতে পারবেন তখন আপনাকে কিওয়ার্ড রিসার্চ এর কাজে নেমে পড়তে হবে।
ম্যানুয়ালি কিওয়ার্ড রিসার্চ করুন
যদি আপনি ম্যানুয়ালি কিওয়ার্ড রিসার্চ করার কাজটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে চান তাহলে আপনাকে নিচে দেখানো টিপস গুলো ফলো করতে হবে। তাহলে পূর্বের তুলনায় আপনার ম্যানুয়ালি কিওয়ার্ড রিসার্চের কাজটা অনেক বেশি সহজ হবে। যেমন,
- আপনার টার্গেট করা ক্রেতারা কোন বিষয় গুলো নিয়ে আলোচনা করছে তা বিভিন্ন ফোরাম থেকে কালেক্ট করবেন।
- তারা কোন ওয়েবসাইট গুলোতে বেশি ভিজিট করে সেই ওয়েবসাইট গুলোতে আপনিও ব্রাউজ করুন।
- ক্রেতারা সার্চ ইঞ্জিনে কোন কোন শব্দ ব্যবহার করে সেগুলো কালেক্ট করে রাখুন।
- তারা তাদের কাঙ্খিত প্রোডাক্ট সম্পর্কে কি কি জানতে চায় সেটি খেয়াল রাখুন।
- সবশেষে আপনার কাঙ্খিত কিওয়ার্ড গুলো বিভিন্ন টুলস দিয়ে যাচাই করুন।
মনে রাখবেন, ম্যানুয়ালি কিওয়ার্ড রিসার্চের কাজটা অনেক সময়সাপেক্ষ ও কঠিন। কিন্তুু আপনি যদি ধৈর্য্য নিয়ে কাজ করতে পারেন তাহলে আপনার সফলতা পাওয়ার সম্ভাবনা কয়েকগুন বেড়ে যাবে। তাই অবশ্যই আপনাকে ধৈর্য্য নিয়ে সফলভাবে কাজ করে যেতে হবে।
টুলস ব্যবহার করে কিওয়ার্ড রিসার্চ করার উপায়
যদি আপনি একান্তভাবে ম্যানুয়ালি কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে না পারেন তাহলে আপনাকে বিভিন্ন ধরনের টুলস ব্যবহার করতে হবে। আর বর্তমানে আপনি এমন ডজন ডজন টুলস দেখতে পারবেন যেগুলো আপনার কিওয়ার্ড রিসার্চ করার কাজকে অনেক সহজ করে দিবে।
তবে সেগুলোর মধ্যে কিছু টুলস আছে যেগুলো আপনি ফ্রিতে ব্যবহার করতে পারবেন আবার কিছু টুলস প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন নিয়ে ব্যবহার করতে হবে। তাই নিচে একটি তালিকা প্রদান করা হলো যেখানে আপনি কিওয়ার্ড রিসার্চ করার জন্য প্রিমিয়াম ও ফ্রি টুলসের নাম জানতে পারবেন।
কিওয়ার্ড রিসার্চ করার ফ্রি টুলস
যদি আপনি টুলস দিয়ে কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে চান তাহলে আপনাকে প্রথমে সেই টুলস গুলোর ব্যবহার জানতে হবে। আর এই অভিজ্ঞতা নেওয়ার জন্য আপনি নিচে উল্লেখিত ফ্রি টুলস গুলো ব্যবহার করতে পারবেন। যেমন,
০১- Google Keyword Planner
এই টুলসটি মূলত Google Ads-এর জন্য তৈরি করা হয়েছে। তবে আপনি আপনার SEO করার জন্য কিওয়ার্ড রিসার্চের কাজেরও ব্যবহার করতে পারবেন। যেখানে আপনি নির্দিষ্ট কিওয়ার্ডের মাসিক সার্চ ভলিউম, প্রতিযোগিতা, CPC সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাবেন। আর সেজন্য আপনার নিকট একটি Google Ads অ্যাকাউন্ট এর প্রয়োজন হবে।
০২-Google Trends
সময়ের সাথে সাথে কিওয়ার্ডের জনপ্রিয়তা ট্র্যাক করার অন্যতম একটি টুলস হলো, গুগল ট্রেন্ডস। যার মাধ্যমে আপনি আপনার টার্গেট করা অঞ্চল, ভাষা এবং ডিভাইসের জন্য ডেটা কালেক্ট করতে পারবেন। আর এই জনপ্রিয় টুলসটি আপনি একবারে বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারবেন।
০৩-Ubersuggest
এই টুলসটি Neil Patel নামের একজন বিখ্যাত ব্লগার ও এসইও এক্সপার্ট দ্বারা তৈরি করা হয়েছে। তবে এটি বিনামূল্যে ব্যবহার করা গেলেও সেখানে আপনি সীমিত ডেটা সংগ্রহ করতে পারবেন। আর এই টুলস টি ব্যবহার করে আপনি নির্দিষ্ট কিওয়ার্ডের মাসিক সার্চ ভলিউম, CPC, প্রতিযোগিতা সম্পর্কে জানতে পারবেন।
০৪-Answer The Public
আপনারা যারা প্রশ্ন-ভিত্তিক কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে চান তাদের জন্য এই টুলসটি অনেক কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে। কারণ, আপনার টার্গেট করা কাস্টমাররা নির্দিষ্ট কিওয়ার্ড সম্পর্কে কী জিজ্ঞাসা করে তা এই টুলস দিয়ে জানতে পারবেন।
০৫-Keywordtool.io
জনপ্রিয় এই টুলসটি Google Suggest-এর উপর নির্ভর করে। যে টুলসটি আপনাকে আপনার মূল কিওয়ার্ডের সাথে রিলেটেড কিওয়ার্ড ধারণা প্রদান করবে। তবে যদি আপনি এই টুলসটি বিনামূল্যে ব্যবহার করতে চান তাহলে আপনি সীমিত ডেটা পাবেন।
০৬-Reddit
এটি হলো জনপ্রিয় একটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম যেটি আপনার কিওয়ার্ড খুঁজে পেতে সাহায্য করবে। যেটি আপনি বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারবেন এবং আপনার কাঙ্খিত কিওয়ার্ড গুলোকে সংগ্রহ করতে পারবেন।
কিওয়ার্ড রিসার্চ করার পেইড টুলস
টুলস সম্পর্কে ধারনা নেওয়া ও টুলস দিয়ে রিসার্চ করার জন্য ফ্রি কিওয়ার্ড রিসার্চ টুলস ব্যবহার করা উত্তম। কিন্তুু আপনি যদি প্রো লেভেল কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে প্রিমিয়াম টুলস ব্যবহার করতে হবে। আর নিচের তালিকায় জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা কিছু পেইড টুলসের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হলো। যেমন,
০১-SEMrush
বর্তমান সময়ের SEMrush হলো সবচেয়ে শক্তিশালী SEO টুলস। যার মাধ্যমে আপনি কিওয়ার্ড রিসার্চ, প্রতিযোগীতা যাচাই এবং ব্যাকলিঙ্ক যাচাই করতে পারবেন। তবে এই টুলসটি অনেক ব্যয়বহুল হওয়ার কারণে প্রিমিয়াম ফিচার ব্যবহার করা অনেকের কাছে কষ্টসাধ্য মনে হতে পারে।
০২-Ahrefs
আরেকটি জনপ্রিয় SEO টুলস এর নাম হলো, Ahrefs. মূলত এই টুলসটির সাথে SEMrush-এর অনেক মিল রয়েছে। যার মধ্যে আপনি পাবেন বিশাল ডেটাবেস, যা আপনার কিওয়ার্ড রিসার্চ করার কাজকে অনেক বেশি সহজ করে তুলবে। আর বলে রাখা ভালো যে, SEMrush-এর চেয়ে Ahrefs আরো বেশি ব্যয়বহুল।
০৩-Moz Pro
এটি হলো, SEO-এর জন্য বিখ্যাত একটি টুলস। যার মাধ্যমে আপনি যেকোনো ওয়েবসাইট এর Domain Authority এবং Page Authority স্কোর যাচাই করতে পারবেন। এছাড়াও আপনি কিওয়ার্ড রিসার্চ থেকে শুরু করে প্রতিযোগীতা যাচাই এবং ব্যাকলিঙ্ক যাচাই করতে পারবেন। আর SEMrush বা Ahrefs-এর চেয়ে Moz Pro কম ব্যয়বহুল।
০৪-KWFinder
যারা একবারে নতুন তাদের কিওয়ার্ড রিসার্চের জন্য এই টুলসটি অনেক কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে। এর কারণ হলো KWFinder এর ইন্টারফেস ও ব্যবহার করা অনেক সহজ। এছাড়াও SEMrush, Ahrefs, বা Moz Pro-এর মতো এই টুলসটি ততোটা বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ নয়।
মনে রাখবেন, আপনার জন্য কোন টুলস ব্যবহার করা উচিত তা আপনার বাজেট এবং প্রয়োজনীয়তার উপর নির্ভর করবে। সেক্ষেত্রে যদি আপনি নতুন হন এবং আপনার বাজেট সীমিত থাকে, তাহলে বিনামূল্যের টুলস গুলো দিয়ে শুরু করার চেস্টা করবেন।
কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে কোন কোন বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হয়?
আপনি যখন আপনার টার্গেট করার অডিয়্যান্সকে আপনার প্রোডাক্ট বা পরিষেবা ক্রয় করার জন্য কিওয়ার্ড রিসার্চ করবেন তখন আপনাকে বেশ কিছু বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে। আর আপনি যতোটা ভালোভাবে এই বিষয় গুলোকে গুরুত্ব দিবেন ঠিক ততো বেশি সঠিক পদ্ধতিতে কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে পারবেন। তাই চলুন এবার জেনে নেওয়া যাক কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে কোন কোন বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিতে হবে।
১. নিশ (Niche)
আপনার ব্যবসা বা ওয়েবসাইটের জন্য প্রাসঙ্গিক এমন কিওয়ার্ড নির্বাচন করতে হলে সবার আগে আপনার নিশ সম্পর্কে ভালোভাবে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। তাহলে আপনি আপনার টার্গেট করা ক্রেতার চাহিদা, আগ্রহ এবং অভ্যাস সম্পর্কে বিস্তারিত ডেটা কালেক্ট করতে পারবেন।
২.সার্চ ভিলিউম (Search Volume)
নির্দিষ্ট একটি কিওয়ার্ড ব্যবহার করে মানুষ কতবার সার্চ করে তার পরিমান কে বলা হয় সার্চ ভলিউম। আর আপনাকে অবশ্যই বেশি সার্চ ভলিউম থাকা কিওয়ার্ড গুলোকে টার্গেট করতে হবে। কারণ, যত বেশি লোক একটি কিওয়ার্ড অনুসন্ধান করে, তত বেশি ট্র্যাফিক আপনার ওয়েবসাইটে আসার সম্ভাবনা থাকবে। কিন্তুু খুব বেশি প্রতিযোগিতামূলক কিওয়ার্ড এড়িয়ে চলার চেস্টা করবেন।
৩.সিপিসি (CPC)
CPC (Cost Per Click) হলো প্রতিটি ক্লিকের জন্য আপনি যে পরিমাণ অর্থ প্রদান করতে পারবেন। হাই CPC-এর কিওয়ার্ড গুলোর প্রতি সবার আগ্রহ থাকে। তাই এই ধরনের কিওয়ার্ডে প্রতিযোগীতা অনেক বেশি হয়। সেজন্য চেস্টা করবেন এমন ধরনের কিওয়ার্ড থেকে দুরে থাকার জন্য। তবে যদি আপনার বাজেট থাকে তাহলে আপনিও হাই সিপিসি কিওয়ার্ড নিয়ে কাজ করতে পারবেন।
৪.কিওয়ার্ড ডিফিকাল্টি (Keyword Difficulty)
কিওয়ার্ড ডিফিকাল্টি বলতে বোঝায় যে নির্দিষ্ট একটি কিওয়ার্ড নিয়ে কাজ করা কতটা কঠিন হতে পারে। যদি আপনি একবারে নতুন ওয়েবসাইট নিয়ে কাজ করেন তাহলে আপনাকে হাইকিওয়ার্ড ডিফিকাল্টির কিওয়ার্ড গুলো এড়িয়ে চলতে হবে।
PRO TIPS: Keyword Research
- আপনার ব্যবসা, প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের সাথে সম্পর্কিত সম্ভাব্য সকল শব্দ ও বাক্য তালিকা ভুক্ত করবেন।
- Google Keyword Planner ব্যবহার করে জনপ্রিয়তা, প্রতিযোগিতা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ডেটা বিশ্লেষণ করবেন।
- আপনার প্রতিযোগীরা কোন কিওয়ার্ড ব্যবহার করছে তা পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরী।
- নির্দিষ্ট কিওয়ার্ডের সাথে সম্পর্কিত রিলেটেড কিওয়ার্ড ব্যবহার করবেন।
- SEMrush, Ahrefs, Moz Pro, KWFinder এর মতো টুল ব্যবহার করে সঠিকভাবে রিসার্চ করবেন।
- আপনার ব্যবসার অবস্থানের সাথে সম্পর্কিত কিওয়ার্ড ব্যবহার করুন।
- আপনার টার্গেটেড কাস্টমার সামাজিক মাধ্যমে কী অনুসন্ধান করছে তা পর্যবেক্ষণ করবেন।
- বর্তমান ট্রেন্ডিং বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত কিওয়ার্ড রিসার্চ করবেন।
- নিয়মিতভাবে আপনার কিওয়ার্ড তালিকা পর্যবেক্ষণ ও আপডেট রাখবেন।
আপনার জন্য আমাদের শেষকথা
কিওয়ার্ড রিসার্চ হলো এসইও এর গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। আর এসইও এর অন্যতম অংশ হলো নিজের মধ্যে কাজ করার মানসিকতা ও ধৈর্য্য রাখা। তাই আপনার মধ্যে পর্যাপ্ত ধৈর্য্য ও শ্রম দেওয়ার মানসিকতা রেখে সঠিকভাবে কিওয়ার্ড রিসার্চ করার চেস্টা করবেন। তাহলে আপনি একটা সময় গিয়ে সফলতা অর্জন করতে পারবেন।
আর আপনার সফলতাকে কয়েক ধাপ এগিয়ে দেওয়ার জন্য আজকের আর্টিকেলে কিওয়ার্ড রিসার্চ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য শেয়ার করা হয়েছে। আশা করি আজকের শেয়ার করা তথ্য গুলো আপনার জন্য অনেক হেল্পফুল হবে। ধন্যবাদ, এতক্ষন আমাদের সাথে থাকার জন্য। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন, হ্যাপি ব্লগিং।



