অফ পেজ এসইও (Off Page SEO) কি ? 2024 সালে অফ পেজ এসইও কিভাবে করবেন?

অফ পেজ এসইও (Off Page SEO) কি ?

Table of Contents

অফ পেজ এইসও প্রতিটা ওয়েবসাইটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারন অফ পেজ এসইও করার সময় এমন কিছু কৌশল প্রয়োগ করা হয় যার মাধ্যমে ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনে র‌্যাংক করা সম্ভব। তবে অন পেজ এসইও করার পর অফ পেজ এসইও করা ভালো। 

অফ পেজ এসইও (Off page SEO) কি?  

একটি ওয়েবসাইট এর বাইরে থেকে যেসব অপটিমাইজেশন কাজ করা হয় সেগুলো কে বলা হয়, অফ পেজ এসইও । ওয়েবসাইটের দুনিয়ায়, র‍্যাঙ্কিংয়ে টিকে থাকা কঠিন। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ নতুন ওয়েবসাইট তৈরি হচ্ছে, আর তাদের কাছ থেকে আপনার ওয়েবসাইটকে আলাদা করে তুলতে হলে আপনাকে স্মার্ট কাজ করতে হবে। সেই স্মার্ট কাজের মধ্যে একটি হলো অফ-পেজ এসইও।

তো কোনো একটি ওয়েবসাইট এর বাইরে থেকে যেসব অপটিমাইজেশন কাজ করা হয় সেগুলো কে বলা হয়, অফ পেজ এসইও। আর Off page seo করার জন্য, ব্যাকলিংক, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, লোকাল এসইও করতে হবে। যার মাধ্যমে আপনি আপনার ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনে র‌্যাংক করাতে পারবেন।   

অফ পেজ এসইও
অফ পেজ এসইও

কেন অফ পেজ এসইও করবো? | অফ পেজ এসইও এর গুরুত্ব

সঠিক ভাবে অফ পেজ এসইও করতে পারলে অনেক বেনিফিট পাওয়া যায়। তার মধ্যে অন্যতম হলো ট্রাফিক বৃদ্ধি, সার্চ রেজাল্ট র‌্যাংক, ব্রান্ডিং তৈরি সহো আরো অনেক বেনিফিট পাওয়া সম্ভব। আর সে গুলো নিচের তালিকায় দেওয়া হলো। যেমন, 

ওয়েবসাইট ট্রাফিক বৃদ্ধি 

ওয়েবসাইট এসইও করলে ট্রাফিক বৃদ্ধি পায়। আর এসইও এর গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হলো অফ পেজ। যার মাধ্যমে আপনি আপনার ওয়েবসাইট এর ট্রাফিক বৃদ্ধি করতে পারবেন। 

সার্চ ইঞ্জিন র‌্যাংকিং

একটি ওয়েবসাইটের মধ্যে তখনি কাঙ্খিত ট্রাফিক বা সেল পাওয়া যাবে যখন আপনার ওয়েবসাইট সার্চ ইঞ্জিনে র‌্যাংক করবে। আর একটি ওয়েবসাইটের র‌্যাংক পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে অফ পেজ এসইও। 

সার্চ ইঞ্জিন পজেটিভ সিগন্যাল

সঠিক ভাবে অফ পেজ এসইও করলে সার্চ ইঞ্জিনের কাছে আপনার ওয়েবসাইট পজেটিভ সিগন্যাল প্রদান করবে। যার ফলাফল হিসেবে সার্চ ইঞ্জিন র‌্যাংক প্রদানের ক্ষেত্রে আপনার ওয়েবসাইটকে আলাদা গুরুত্ব প্রদান করবে।

প্রতিযোগীতায় টিকে থাকা

বর্তমান সময়ে ওয়েবসাইট র‌্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রেও বেড়ে গেছে প্রতিযোগীতা। আর এই প্রতিযোগীতায় যারা টিকে থাকে তাদের সফলতার পেছনে থাকে অফ পেজ এসইও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। কারণ, অফ পেজ এসইও এর মাধ্যমে প্রতিযোগী ওয়েবসাইট গুলো থেকে র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা সম্ভব। 

ব্রান্ড ভ্যালু বৃদ্ধি

অফ পেজ এসইও করার ক্ষেত্রে আপনাকে ব্যাকলিংক করতে হবে। যেখানে অন্যান্য ওয়েবসাইট গুলো আপনার ওয়েবসাইটকে লিংক প্রদান করবে। যার মাধ্যমে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আপনার ব্রান্ড ভ্যালু বাড়াতে সাহায্য করবে। 

অফ পেজ এসইও ও অন পেজ এসইও এর মধ্যে পার্থক্য

বৈশিষ্ট্য অন পেজ এসইও অফ পেজ এসইও
কাজের ধরন ওয়েবসাইটের ভেতর থেকে করা হয়। ওয়েবসাইটের বাইরে থেকে করা হয়।
উদ্দেশ্যে সার্চ ইঞ্জিনের কাছে ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট ভ্যালু বোঝানো। সার্চ ইঞ্জিনের কাছে ওয়েবসাইটের ভ্যালু ও জনপ্রিয়তা তুলে ধরা।
কৌশল কিওয়ার্ড রিসার্চ, কন্টেন্ট অপটিমাইজ, টেকনিক্যাল এসইও ব্যাকলিংক, সোশ্যাল মার্কেটিং, কন্টেন্ট মার্কেটিং
পরিপূরকতা একে অন্যের পরিপূরক একে অন্যের পরিপূরক

2024 সালে কিভাবে অফ পেজ এসইও করবেন?

এসইও এর কাজ গুলো ধাপে ধাপে একটির পর একটি করতে হয়। সেক্ষেত্রে যখন আপনার অফ পেজ এসইও করা শেষ হবে তখন আপনাকে অফ পেজ এর কাজ করতে হবে। আর অফ পেজ এর এসইও করার জন্য যেসব কাজ করতে হয় সেগুলো নিয়ে নিচে বিস্তারিত শেয়ার করা হলো। 

অফ পেজ এসইও শুরু করতে এই চেকলিস্ট অনুসরণ করুন

অফ পেজ এসইও চেকলিষ্ট
অফ পেজ এসইও চেকলিষ্ট

আপনি ধাপে ধাপে অফ পেজ এসইও এর কাজ করতে পারবেন। তবে অফ পেজ অপটিমাইজ করার জন্য খুব বেশি কিছু করার দরকার হয়না। বরং আপনি নিচের কাজ গুলো সঠিক ভাবে করতে পারলেই আপনার অফ পেজ এসইও করা হয়ে যাবে। 

অফ পেজ এসইও চেকলিস্ট (Off Page SEO Checklist):

  1. ব্যাকলিংক 
  2. সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং
  3. কন্টেন্ট মার্কেটিং 
  4. লোকাল এসইও করবেন। 

তবে প্রথম থেকেই আপনাকে ধৈর্য্য নিয়ে অফ পেজ এসইও এর কাজ গুলো করতে হবে। তাই এখন আমি আপনাকে অফ পেজ এসইও করার উপায় গুলো স্টেপ বাই স্টেপ দেখিয়ে দিবো। যাতে করে আপনি আপডেট টেকনিক গুলো ফলো করার মাধ্যমে সঠিক পদ্ধতিতে অফ পেজ অপটিমাইজেশন এর কাজ গুলো করতে পারেন।

০১-ব্যাকলিংক | (Backlink)

একটি ওয়েবসাইট যখন অন্য একটি ওয়েবসাইট কে লিংক প্রদান করবে তখন সেই লিংক কে বলা হবে ব্যাকলিংক। আর সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর মধ্যে ব্যাকলিংক যথেষ্ট ভূমিকা আছে। আর একটি ওয়েব সাইটে অবশ্যই কোয়ালিটিফুল ব্যাকলিংক থাকতে হবে। 

কারন যখন আপনার ওয়েবসাইট কে অন্যান্য ওয়েবসাইট থেকে লিংকিং করা হবে। তখন আপনার ওয়েবসাইট এর Domain Authority এবং Page Authority বেড়ে যাবে। যার ফলে গুগল ক্রলার আপনার ওয়েবসাইট সম্পর্কে একটা পজেটিভ সিগন্যাল পাবে। 

তবে শুধুমাত্র লিংকিং করলেই যে আপনার সাইট র‌্যাংক করবে এমনটা নয়। বরং আপনাকে একবারে ন্যাচারাল ওয়েতে লিংক বিল্ডিং করতে হবে। যেন গুগল টের না পায় যে আপনি নিজেই এসব ব্যাকলিংক করছেন। 

ব্যাকলিংক
ব্যাকলিংক

ব্যাকলিংক কত প্রকার ও কি কি?

আপনার ওয়েবসাইট এর ট্রাফিক বৃদ্ধি, ওয়েবসাইট এর নিরাপত্তা ও ব্রান্ডিং এর জন্য অবশ্যই লিংক বিল্ডিং (Backlink) করতে হবে। আর অফ পেজ এসইও করার সময় আপনি বিভিন্ন ধরনের ব্যাকলিংক করতে পারবেন। তবে আমরা যে ব্যাকলিংক গুলো করি সেগুলো মোট দুইটি ভাগে ভাগ করা হয়। আর সেগুলো হলো, 

  1. Do follow Backlink
  2. No follow Backlink

আবার অর্থের দিক থেকে ব্যাকলিংকে মোট দুইটি ভাগে ভাগ করা হয়। সেগুলো হলো, 

  1. Paid Backlink
  2. Free Backlink

তো অফ পেজ এসইও করার ক্ষেত্রে আপনার কোন ধরনের ব্যাকলিংক গুলো গুরুত্বপূর্ণ সে সম্পর্কে আমাদের সঠিক ধারনা রাখা দরকার। 

ডু ফলো ব্যাকলিংক | Do follow Backlink

এটি হলো এক ধরণের হাইপারলিঙ্ক যা সার্চ ইঞ্জিনকে নির্দেশ করে যে লিঙ্কটি অনুসরণ করা উচিত। এছাড়াও এই লিঙ্কটি যে ওয়েবসাইট কে নির্দেশ করে সেই ওয়েবসাইটের “লিঙ্ক জুস” বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

নো ফলো ব্যাকলিংক | No follow Backlink

এই ধরনের নো ফলো লিঙ্ক গুলো সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর হিসাবে বিবেচিত হয় না। তাই এই ধরনের লিংক গুলো সরাসরি আপনার ওয়েবসাইটের র‍্যাঙ্কিং করতে ততোটা প্রভাব ফেলবে না। তবে অফ পেজ এসইও করার ক্ষেত্রে অবশ্যই নো ফলো ব্যাকলিংক করা উচিত।

কিভাবে অফ পেজ এসইও করার জন্য ব্যাকলিংক করবেন?

একজন ব্যক্তি যখন অফ পেজ এসইও শুরু করে তখন ব্যাকলিংক নেওয়ার সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে হবে। কেননা, এখানে আপনাকে কিছু স্ট্রাটেজি ফলো করতে হবে যার মাধ্যমে আপনি আপনার কাঙ্খিত ওয়েবসাইট থেকে নিজের ওয়েবসাইট এর জন্য লিংক নিতে পারবেন। 

অফ পেজ এসইও ব্যাকলিংক স্ট্রাজেটিজি (Backlink Strategy)

  1. Adding links
  2. Asking for links
  3. Buying links
  4. Earning links

মূলত যারা এসইও এক্সপার্ট তারা অফ পেজ এসইও করার সময় এই ধরনের স্ট্রাটেজি গুলো ফলো করে। তাই এখন আপনাকে জানতে হবে যে, এই স্ট্রাটেজি গুলোর মাধ্যমে কিভাবে ব্যাকলিংক করা সম্ভব। 

01-Adding Links (Off page SEO)

এই ধরনের লিংক গুলো কোনো একটি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার পর ম্যানুয়ালি করা সম্ভব। তবে যেহুতু এই লিংক গুলো সহজে করা যায় সেহুতু গুগল এমন লিংক গুলো ততোটা প্রাধান্য দেয়না। কিন্তুু অফ পেজ এসইও সঠিকভাবে করার জন্য অবশ্যই আপনাকে এমন লিংক করতে হবে।  

Adding Links Building Strategy

  • সামাজিক প্রোফাইল তৈরি: ফেসবুক, টুইটার, লিঙ্কডইন ইত্যাদি জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট তৈরি করে আপনার ওয়েবসাইটের লিঙ্ক যুক্ত করতে হবে।
  • বিজনেস ডিরেক্টরি সাবমিশন: Yelp, Yellow Pages, Google My Business ইত্যাদির মতো প্রাসঙ্গিক ডিরেক্টরিতে আপনার ওয়েবসাইট যুক্ত করতে হবে।
  • রিভিউ সাইট লিস্টিং: আপনার ওয়েবসাইট নিশের সাথে সম্পর্কিত ওয়েবসাইট গুলোতে আপনার সাইট যুক্ত করতে হবে।
  • ফোরাম এবং প্রশ্নোত্তর সাইটে পোস্ট: আপনার নিশের সাথে প্রাসঙ্গিক ফোরাম ও প্রশ্নোত্তর সাইটে পোষ্ট করে লিংকিং করতে হবে।

02-Asking for links (Off page SEO)

সচারচর এই ধরনের লিংক গুলো নির্দিষ্ট কোনো ওয়েবসাইটের মালিক কে মেইল কিংবা কল করে লিংক চাইতে হয়। তবে এই ধরনের লিংক করার সময় অবশ্যই আপনার নিশের সাথে প্রাসঙ্গিক ওয়েবসাইটের লিংক করার চেস্টা করবেন। 

Asking for links Building Strategy

  • গেষ্ট পোষ্টিং: যাদের কাছ থেকে লিংক নিবেন তাদের জন্য আর্কষনীয় কন্টেন্ট লিখবেন।
  • স্কাইস্ক্র্যাপার টেকনিক: কোনো ওয়েবসাইটের এমন একটি পেজ খুজে নিন যেখানে অনেক গুলো সাইটকে লিংক প্রদান করা হয়েছে। তারপর আপনি নিজের সাইটে একটি লিংকিং এর পেজ তৈরি করুন তারপর সেগুলো লিংকারদের জানিয়ে দিবেন। 
  • রিসোর্স পেজ লিংক বিল্ডিং: এমন রিসোর্স পেজ গুলো খুজে নিন যেগুলো আপনার নিশের সাথে প্রাসঙ্গিক। তারপর আপনার সাইটকে লিংক দেওয়ার জন্য অনুরোধ করবেন।
  • ব্রোকেন লিংক বিল্ডিং: একটি ওয়েবসাইটের নির্দিষ্ট পেজে থাকা ব্রোকেন লিংক গুলো খুজে নিন। তারপর প্রাসঙ্গিক বিষয়ে আপনার সাইটের লিংক যুক্ত করার অনুরোধ করবেন। 
  • ইমেজ লিংক বিল্ডিং: সঠিক অ্যাট্রিবিউশন ছাড়াই আপনার ছবি ব্যবহার করেছে এমন সাইট গুলোকে খুজে নিবেন। তারপর তাদের কাছে আপনার সাইটের জন্য একটি লিঙ্ক করার জন্য অনুরোধ করবেন।
  • HARO লিংক :HARO লিঙ্ক বলতে “Help a Reporter Out” (HARO) প্ল্যাটফর্মে সাংবাদিকদের অনুরোধ করে পাওয়া লিংককে বোঝায়।

03-Buying links (Off page SEO)

নিজের অর্থ খরচ করে যখন আপনি কোনো ওয়েবসাইট থেকে লিংক কিনে নিবেন তখন তাকে বলা হবে বায়িং লিংক। আর লিংক বিল্ডিং স্ট্রাটেজির মধ্যে এটিকে সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হিসেবে ধরা হয়। কিন্তুু এমন লিংক করার সময় যদি গুগল কোনো ভাবে বুঝতে পারে তাহলে কিন্তুু হিতে বিপরীত হয়ে যাবে। 

কারণ, গুগল কখনই এমন লিংক বিল্ডিং করার কাজকে ভালো চোখে দেখেনা। গুগল মনে করে এই পদ্ধতিতে লিংক বিল্ডিং করলে তাদের র‌্যাংকিং অ্যালগরিদম এর নিয়ম ভঙ্গ করা হয়। তাই যখন আপনি কোনো ওয়েবসাইট থেকে লিংক কিনে নেওয়ার চেষ্টা করবেন তখন আপনার লিংক গুলো যেন ন্যাচারাল হয় সেদিকে যথেষ্ট খেয়াল রাখবেন। 

04-Earning links (Off page SEO)

অন পেজ এসইও এর মূল চাবিকাঠি হলো লিংক বিল্ডিং করা। আর এই লিংক গুলো যদি ন্যাচারাল ভাবে পাওয়া যায় তাহলে গুগল র‌্যাংকিং ফ্যাক্টরে সেটি পজেটিভ সিগন্যাল প্রদান করবে। কিন্তুু এবার একটা বিষয় ভেবে দেখুন, মানুষ কেন নিজে থেকে আপনার ওয়েবসাইটকে লিংক দিবে? 

হুমম, এই পদ্ধতিতে লিংক পেতে হলে আপনাকে বেশ কিছু কাজ করতে হবে। আর সেই কাজ গুলো সঠিক ভাবে করতে পারলে মানুষ নিজে থেকেই আপনার ওয়েবসাইটকে লিংক প্রদান করবে। তো সেই কাজ গুলো হলো, 

  1. সামাজিক মাধ্যম, ইমেইল এর মাধ্যমে আপনার কাজ শেয়ার করুন।
  2. অন্যান্য ব্লগারদের সাথে সম্পর্ক রাখুন ও তাদের সমস্যায় সহযোগিতা করুন।
  3. ফোরাম এবং প্রশ্ন উত্তর সাইটে গুলোতে মূল্যবান মন্তব্য প্রদান করুন।
  4. নিজের ওয়েবসাইট ও কন্টেন্ট কে পর্যাপ্ত তথ্য বহুল করার চেস্টা করবেন।
  5. আপনার নিশের সকল আপডেট তথ্য গুলো সবার আগে শেয়ার করবেন। 

যখন আপনি উপরের এই পদ্ধতি গুলো মেনে কাজ করবেন তখন অনেক ওয়েবসাইট নিজে থেকে আপনার সাইটকে লিংক প্রদান করবে। সেজন্য আপনাকে দীর্ঘদিন সঠিক নিয়ম মেনে কাজ করতে হবে। 

ব্যাকলিংক করার সময় কি কি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে?

মনে রাখবেন, ব্যাকলিংক যেমন ওয়েবসাইটের ভিজিটর বাড়ায় ঠিক তেমনি নেগেটিভ ইফেক্টও ফেলে। তাই ব্যাকলিংক করার সময় বেশ কিছু নিয়ম ফলো করা দরকার। সেগুলো হলো, 

  1. ব্যাকলিংক ন্যাচারাল হওয়া দরকার। 
  2. হোমপেজে ব্যাকলিংক নেওয়া ভালো। 
  3. হাই অথোরিটি সাইট থেকে ব্যাকলিংক নেওয়া উচিত।
  4. ব্যাকলিংক প্লেসমেন্টে যথেষ্ট গুরুত্ব দিবেন।
  5. ব্যাকলিংক নেওয়া ওয়েবসাইটের ভিজিটর যাচাই করবেন।
  6. অবশ্যই Do Follow Backlink নিবেন।
  7. প্রাসঙ্গিক বিষয়ে ব্যাকলিংক নেওয়া ভালো। 
  8. Anchor text এর মধ্যে ব্যাকলিংক করবেন। 
  9. ব্যাকলিংক নেওয়া ওয়েবসাইটের ভিজিটর থাকা ভালো।

প্রাথমিক ভাবে ব্যাকলিংক করার জন্য উপরের নিয়ম গুলো ফলো করতে হবে। আর ব্যাকলিংক করার সময় অবশ্যই কোয়ালিটি চেক করে নিবেন।

ব্যাকলিংক করার সময় যেসব ভুল করবেন না 

  1. একই সাইট/পেজ থেকে অধিক ব্যাকলিংক নিবেন না। 
  2. হাই স্প্যাম স্কোর যুক্ত সাইট থেকে ব্যাকলিংক নিবেন না। 
  3. অবৈধ জুয়া/মাদক/অশ্লীল ওয়েবসাইট থেকে বিরত থাকবেন।
  4. কোনো টুলস দিয়ে ব্যাকলিংক নিবেন না।
  5. ব্যাকলিংক ক্রয় করার সময় অ-সতর্ক থাকবেন না।

০২ – সোশ্যাল মার্কেটিং | (Social Marketing) 

নিজের ওয়েবসাইটকে একটি ব্রান্ড হিসেবে পরিচিত করার অন্যতম মাধ্যম হলো মার্কেটিং। আর এই মার্কেটিং এখন সোশ্যাল মিডিয়াতে করলে অনেক বেনিফিট পাওয়া যায়। কারণ, আগের তুলনায় বর্তমানে ইন্টারনেট ইউজার বেশি। 

যার কারণে সোশ্যাল মিডিয়াতে আপনি খুব সহজেই আপনার টার্গেট করা কাস্টমারদের নিকট পৌঁছাতে পারবেন। এছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়ার ব্রান্ড হতে পারলে গুগল র‌্যাংকিং এর ক্ষেত্রে আপনি আলাদা সুবিধা পাবেন। তাই আপনাকে এমনভাবে মার্কেটিং করতে হবে যেন আপনি সবদিক থেকে লাভবান হতে পারেন। 

সোশ্যাল মার্কেটিং কি?

Facebook, Instagram,Twitter এর মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করার মাধ্যমকে বলা হয় সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং। যে মার্কেটিং এর কাজ গুলো আপনি নিজের ঘরে বসে অনলাইন থেকে করতে পারবেন।

অফ পেজ এসইও এর সাথে সোশ্যাল মার্কেটিং এর সম্পর্ক কি?

আপনি Apple, Iphone, Samsung ব্রান্ড গুলোকে তো অবশ্যই চিনবেন। তো আপনার মতো গুগলও তাদের বেশ ভালো করে চেনে। তাই এই ব্রান্ডের ওয়েবসাইট থেকে পাবলিশ হওয়া পেজ গুলোকেও গুগল অনেক প্রাধান্য দিবে। 

এখন আপনিও যদি এমন ব্রান্ড ভ্যালু তৈরি করতে চান তাহলে আপনার জন্য উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম হবে সোশ্যাল মিডিয়া। যার মাধ্যমে আপনি আপনার ওয়েবসাইট এর র‌্যাংক এবং টার্গেটেড ট্রাফিক অর্জন করতে পারবেন। সে কারণে বলা যায় অফ পেজ এসইও এর ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং অনেক গুরুত্বপূর্ণ। 

কোন সোশ্যাল মিডিয়াতে মার্কেটিং করা ভালো?

দেখুন আপনার কোথায় মার্কেটিং করা ভালো হবে সেটি বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করবে। যেমন,  নিস, দেশ, কাস্টমার বয়স, আগ্রহ ইত্যাদির উপর। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে যেসব মিডিয়াকে মার্কেটিং করার জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় সেগুলো হলো, 

  1. Facebook, 
  2. Instagram, 
  3. YouTube, 
  4. Quora,
  5. TikTok, 
  6. Twitter,
  7. LinkedIn, 
  8. Pinterest, 
  9. Reddit, 
  10. Snapchat,  

আগে রিসার্চ করে দেখবেন যে আপনার টার্গেট করা কাস্টমার কোন কোন মিডিয়া সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে। তারপর যে মিডিয়ার নামটি সবার আগে আসবে সেখানেই আপনার মার্কেটিং করতে হবে। তাহলে আপনি খুব ভালো রেসপন্স পাবেন।

ফ্রি সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করা যাবে?

বর্তমানে আপনি ফ্রি ও পেইড দুইভাবে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করতে পারবেন। তবে ফ্রি করতে হলে আপনার মেধা খাটাতে হবে আর পেইড মার্কেটিং করতে হলে আপনাকে অর্থ খরচ করতে হবে। 

০৩-লোকাল এসইও | (Local SEO)

সহজ ভাষায় যখন কোনো ওয়েবসাইট কে নির্দিষ্ট কাস্টমার বা নির্দিষ্ট এলাকায় টার্গেট করে এসইও করা হয় তাকে লোকাল এসইও বলে। যেমন, আপনি শুধুমাত্র ঢাকায় কোনো সার্ভিস সেল করতে চান। তাই আপনাকে শুধুমাত্র ঢাকার মানুষের নিকট মার্কেটিং করতে হবে। যাকে এক কথায় বলা হয় লোকাল এসইও।

লোকাল এসইও কি অফ পেজ এসইও এর অংশ?

না, লোকাল এসইও আলাদা এক ধরনের অপটিমাইজেশন কৌশল। তবে লোকাল এসইও এর এমন কিছু কাজ আছে যেগুলো অফ পেজ এসইও এর সাথে সম্পৃক্ত। 

যেমন, Google My Business profile. যার মাধ্যমে আপনি নিজের সম্পর্কে গুগলকে আরো অধিক তথ্য দিবেন। বেনিফিট হিসেবে গুগল সার্চ রেজাল্টে আপনার তথ্য গুলো ভিজিটরদের নিকট প্রদর্শন করবে।

০৪-কন্টেন্ট মার্কেটিং | (Content Marketing)

অফ পেজ এসইও করার ক্ষেত্রে কন্টেন্ট মার্কেটিংকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিবেন। কারন, কন্টেন্ট মার্কেটিং করার মাধ্যমে আপনি আপনার টার্গেট অডিয়্যান্স এর নিকট পৌঁছাতে পারবেন। যা আপনার ব্রান্ড ভ্যালু তৈরিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। আর এই কন্টেন্ট মার্কেটিং এর কাজটি আপনি বিভিন্ন ভাবে করতে পারবেন। যেমন, গেস্ট ব্লগিং, ডাউনলোড অফার, সার্ভে এবং রিপোর্ট ইত্যাদি। 

আর যখন আপনি এই কাজগুলো সঠিকভাবে করতে পারবেন তখন আপনার ওয়েবসাইটে আশানুরুপ ট্রাফিক ড্রাইভ করতে পারবেন। এছাড়াও আপনি আপনার কাঙ্খিত লিড জেনারেট করতে পারবেন। আর এই যাবতীয় বিষয় গুলো আপনার সার্চ ইঞ্জিন র‌্যাংকিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। 

অফ পেজ এসইও করতে যেসব ভুল করবেন না

যখন আমি নতুন এসইও শিখার প্রাকটিস শুরু করি তখন অনেক ভুল করেছিলাম। আর আমি চাইনা আপনারাও এমন ভুল করেন। কারণ, অফ পেজ এসইও এর এমন কিছু কাজ আছে যেগুলো ভুল ভাবে করলে আপনার সাইট পেনাল্টি খাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। 

০১-মাত্রাতিরিক্ত ব্যাকলিংক

একটি ওয়েবসাইট অন পেজ এসইও করতে গেলে ব্যাকলিংক লাগবে। কিন্তুু আমরা অনেকেই ন্যাচারাল ওয়েতে ব্যাকলিংক করিনা। যেমন ধরুন একদিনে আপনি যদি ১ হাজার ব্যাকলিংক করেন তাহলে কি সেটা স্বাভাবিক থাকবে? -না, বরং সেটা গুগলের কাছে স্প্যামিং হিসেবে চিহ্নিত হবে। 

তাই অবশ্যই ধৈর্য্য নিয়ে স্বাভাবিক ভাবে ব্যাকলিংক করার চেস্টা করবেন। আর ভুল করেও একটা পেজ থেকে অধিকবার লিংক নিবেন না। 

০২-ব্যাকলিংক টুলস ব্যবহার

আমরা অনেকেই মনে করি শুধুমাত্র হাজার হাজার ব্যাকলিংক করলেই ওয়েবসাইট র‌্যাংক করানো যায়। আসলে এমন ধারনার কোনো ভিত্তি নেই। কিন্তুু তারপরও অনেকেই বেশি ব্যাকলিংক আশায় বিভিন্ন ধরনের Backlink Tools ব্যবহার করে। 

আর এমন টুলস দিয়ে ব্যাকলিংক করলে গুগল সহজেই তা ডিটেক্ট করতে পারে। তারপর এমন অবৈধ কাজ করার জন্য ওয়েবসাইটকে ম্যানুয়ালি পেনাল্টি দিয়ে দেয়। কারণ, এটা হলো গুগল র‌্যাংকিং ফ্যাক্টর এর গাইডলাইন বহির্ভূত। 

০৩-গুগল পেনাল্টি থেকে বাঁচুন

অফ পেজ এসইও করার জন্য একটু হলেও ব্ল্যাক হ্যাট এসইও টেকনিক অনুসরন করার দরকার হয়। তবে অতিরিক্ত কোনো কিছু ভালো নয়। তাই আপনি যদি অফ পেজ এসইও পুরোপুরি ব্ল্যাক হ্যাট এর নিয়ম মেনে করেন তাহলে হিতে বিপরীত হয়ে যাবে। 

কারণ নিয়ম বর্হিভূত ওয়েবসাইট কে গুগল পেনাল্টি দিতে দ্বিধাবোধ করেনা। সেটা হতে পারে কোনো বড় সাইট কিংবা ছোটো সাইট গুগল আপডেটে যে কেউ পেনাল্টি খেতে পারে। তাই আপনিও এমন কাজ করা থেকে বিরত থাকবেন।

আপনার জন্য লেখকের কিছুকথা

এসইও করার সময় আপনাকে অবশ্যই ধৈর্য্য নিয়ে কাজ করতে হবে। কারণ এসইও হলো এমন এক ধরনের সেক্টর যেখানে কাজ করার সাথে সাথে ফলাফল পাওয়া যায়না। আর অফ পেজ এসইও করার ক্ষেত্রে আপনি একই চিত্র লক্ষ্য করতে পারবেন। 

তো আশা করি, এই আর্টিকেল থেকে আপনি অফ পেজ এসইও সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন পেয়ে যাবেন। তবে এরপরও কোনো প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্ট করুন। আর এতক্ষন ধরে আমাদের সাথে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।

Table of Contents

লেখক সম্পর্কে

Picture of Shaddam Hossain Sufol

Shaddam Hossain Sufol

Head of Inbound Team at Intellec IT LLC || SEO Director || Web Analyst

With over six years of experience in digital marketing and web development.

নতুন পোস্ট

Related Posts