সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন কে সংক্ষেপে এসইও বলা হয়। এসইও কে অন পেজ ও অফ পেজ এই দুইটি ভাগ আছে। এসইও করার মূল উদ্দেশ্যে হলো, অর্গানিক ভাবে ট্রাফিক নিয়ে আসা। SEO (এসইও) ডিজিটাল মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এসইও কি? | (SEO in Bengali)
নির্দিষ্ট কোনো সার্চ ইঞ্জিনের জন্য আপনি যখন আপনার কন্টেন্ট কে অপটিমাইজ করবেন তখন তাকে বলা হবে এসইও। এসইও হলো একটি শব্দ সংক্ষেপ যার পূর্ণরুপ হলো, Search Engine Optimization. আপনারা যারা ব্লগিং করেন, ইউটিউবিং করেন কিংবা ডিজিটাল মার্কেটিং করেন তাদের জন্য এসইও অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
তবে এখানে একটা কথা বলে রাখা ভালো। সেটি হলো, এসইও মানে Search Engine Optimization সেটা তো আমরা কমবেশি সবাই জানি। কিন্তু আপনি কি জানেন, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন কিভাবে করে? – চলুন এবার সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
Seo এর পূর্ণরূপ কি?
আপনারা অনেকেই জানতে চান যে, Seo এর পূর্ণরূপ কি। তো তাদের উদ্দেশ্যে বলি, SEO হলো একটি শব্দ সংক্ষেপ, আর এর একটি পূর্ণরুপ আছে। কেননা, Seo এর পূর্ণরুপ হলো, Search engine optimization. তবে কাজ ও বলার সুবিধার্থে আমরা এসইও (SEO) শব্দটির ব্যবহার করি।

এসইও শিখতে কতদিন লাগে?
আপনি যখন নতুন করে এসইও শেখার চেষ্টা করবেন, তখন আপনার মনেও প্রশ্ন জাগবে যে, এসইও শিখতে কতদিন লাগে। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য যে আপনার এসইও শিখতে কতদিন লাগবে তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব হবেনা। কারণ, ভিন্ন ভিন্ন মানুষের শেখার আগ্রহ ও ধরন ভিন্ন হয়। হয়তবা আপনার ক্ষেত্রে যদি এসইও শিখতে ১ বছর সময় লাগে, তাহলে অন্য মানুষের এর থেকেও বেশি সময়ের প্রয়োজন হতে পারে।
এছাড়াও এসইও হলো বৃহৎ একটি সেক্টর। যেখানে একবারে নতুন করে শিখতে গেলে আপনাকে অনেক কিছু শিখতে হবে। আর এই বিষয় গুলো বিবেচনা করলে দেখা যাবে, নতুন একজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে এসইও এর প্রাথমিক বিষয় গুলো শিখতেই ১ বছর লেগে যাবে। আবার আপনি যখন এডভান্স লেভেলের এসইও শিখতে চাইবেন, তখন আপনাকে আরো ১ বছর সময় ব্যয় করতে হবে।
কিন্তুু এসইও এমন কোনো বিষয় না যে আপনি একবার শিখলেই সারাজীবন সেগুলো কাজে লাগবে। কারণ, এসইও এর র্যাংকিং ফ্যাক্টর গুলো প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হয়। আর আপনাকে পরিবর্তনের সাথে সাথে নিজেকেও আপডেট রাখতে হবে। সেইসাথে এসইও শুধু শেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং আপনাকে প্রাকটিক্যালি কাজ চলমান রাখতে হবে।
সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন – (SEO)
বর্তমানে Google সার্চ ইঞ্জিন ছাড়াও আরো অনেক সার্চ ইঞ্জিন আছে। যেমন, Bing, Yahoo, Baidu, Yandex, DuckDuckGo, Ecosia, Qwant. কিন্তুু বর্তমান সময়ে অধিকাংশ মানুষ গুগল সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করে।
তো এই সার্চ ইঞ্জিন গুলো নির্দিষ্ট এ্যালগরিদম মেনে কাজ করে। আর আপনি যখন আপনার কন্টেন্ট কে নির্দিষ্ট সার্চ ইঞ্জিনের এ্যালগরিদম অনুযায়ী অপটিমাইজ করবেন তখন তাকে বলা হবে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন।
মনে করুন আপনি একজন ব্লগার আর আপনি চাচ্ছেন গুগল থেকে অর্গানিক ভাবে আপনার ব্লগে ভিজিটর নিয়ে আসতে। এখন আপনার ব্লগ কন্টেন্ট গুলোকে Google Ranking করার সকল গাইডলাইন মেনে অপটিমাইজ করতে হবে। তো এই ধরনের কাজ গুলোকে বলা হয়, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন।
সার্চ ইঞ্জিন কিভাবে কাজ করে?
গুগল সার্চ ইঞ্জিনে আমরা যে কিওয়ার্ড লিখে দেই সেই কিওয়ার্ড অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের তথ্য দেখতে পাই। তবে এই কাজটি করার জন্য গুগল সার্চ ইঞ্জিনকে বেশ কিছু প্রক্রিয়া মেনে কাজ করতে হয়। কারণ সার্চ ইঞ্জিন মূলত তিনটি ধাপে কাজ করে থাকে। যেমন,

০১ – গুগল ক্রলার | (Google crawling)
এটি হলো গুগলের তৈরি করার বিশেষ এক ধরনের প্রোগ্রাম। যার মূল কাজ হলো অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের পেজ কে ক্রল করা। আর সেই পেজ গুলোতে যদি নতুন কিছু ডেটা থাকে তাহলে সেগুলোকে সংগ্রহ করা। আর এই কাজটি গুগল ক্রলার বিরতিহীন ভাবে করতে থাকে।
০২ – গুগল ইনডেক্সার | (Google Indexing)
যখন গুগল ক্রলার কোনো পেজে নতুন কোনো ডেটা সংগ্রহ করবে তখন গুগল ইনডেক্সার সেই সংগ্রহ করার ডেটা গুলোকে সংক্ষন বা ইনডেক্স করে রাখবে। যাতে করে পরবর্তী সময়ে গুগলে সেই ডেটা সম্পর্কে সার্চ করলে তাকে উক্ত ডেটা দেখানো যায়।
০৩ – গুগল বট | (Google Bot)
সার্চ ইঞ্জিনে কোনো কিছু লিখলেই সেই বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য দেখানোর কাজটি করে গুগল বট। তার মূল কাজ হলো ইনডেক্সারের সংরক্ষিত রিলেটেড তথ্য গুলোকে ভিজিটরদের নিকট প্রদর্শন করা।
তো উপরে আপনি যে পদ্ধতি গুলো দেখতে পাচ্ছেন সেগুলো অনুসরন করে গুগল সার্চ ইঞ্জিন কাজ করে। যার কারণে আমরা গুগলে কোনো কিছু লেখার সাথে সাথে রিলেটেড ডেটা গুলো দেখতে পাই।
ওয়েবসাইট এর জন্য কেন SEO প্রয়োজন?
আমরা অনেকেই মনে করি যে, এসইও শুধুমাত্র ওয়েবসাইটে ভিজিটর বাড়ানোর জন্য করা হয়। তো যারা এমনটা মনে করেন তাদের ধারনা সম্পূর্ণ ভুল। কারণ এমন অনেক কারণ রয়েছে যেগুলোর জন্য আপনার ওয়েবসাইট কে ভালোভাবে এসইও করতে হবে। আর সেই কারণ গুলো নিচে ধাপে ধাপে আলোচনা করা হলো। যেমন,
০১-ওয়েবসাইট এর মান উন্নত করা
এসইও করার মাধ্যমে আপনি আপনার ওয়েবসাইটে সঠিক কীওয়ার্ড, মেটা ডেসক্রিপশন এবং অন্যান্য টেকনিক্যাল এলিমেন্ট গুলোকে ভালোভাবে অপটিমাইজ করতে পারবেন। আর আপনি যে সার্চ ইঞ্জিন কে টার্গেট করে কন্টেন্ট পাবলিশ করবেন। সেই সার্চ ইঞ্জিনের অ্যালগরিদম অনুযায়ী আপনার ওয়েবসাইট কে সাজিয়ে তুলতে পারবেন।
০২-প্রতিযোগীতায় টিকে থাকা
যেমন আপনি আপনার উদ্দেশ্যে সফল করার জন্য ওয়েবসাইট তৈরি করেছেন। ঠিক আপনার মতো করে আরো হাজার হাজার মানুষ ওয়েবসাইট তৈরি করেছে। আর তাদের সাথে প্রতিযোগীতা করে টিকে থাকতে হলে আপনাকে অবশ্যই এসইও করতে হবে।
০৩-বিক্রয় বৃদ্ধি করা
যারা মূলত ই-কমার্স ওয়েবসাইট নিয়ে কাজ করেন তাদের ক্ষেত্রে এসইও করলে বিক্রয় বৃদ্ধি পাবে। কারণ সঠিক ভাবে এসইও করার মাধ্যমে আপনি খুব দ্রুত আপনার টার্গেট করা কাস্টমারদের নিকট পৌঁছাতে পারবেন। যার ফলে আপনার প্রোডাক্ট সেল হওয়ার পরিমান বেড়ে যাবে।
০৪-ব্রান্ড তৈরি করার সুযোগ
অনলাইনে টিকে থাকার অন্যতম হাতিয়ার হলো ব্রান্ডিং। যার মাধমে আপনার প্রতিযোগীদের পিছনে ফেলে নিজেকে উপরের সারিতে জায়গা করে নিতে পারবেন। আর এসইও হলো এমন এক ধরনের প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে আপনি নিজেকে একটি ব্রান্ড হিসেবে পরিচিত করতে পারবেন।
০৫-ওয়েবসাইট ট্রাফিক বৃদ্ধি করা
আপনার তৈরি করা ওয়েবসাইট তখনি সফলতা পাবে যখন আপনার সাইটে পর্যাপ্ত পরিমান ভিজিটর আসবে। আর আপনার ওয়েবসাইট এসইও করার মাধ্যমে অর্গানিক ভাবে ভিজিটর নিয়ে আসতে পারবেন।
০৬-অর্থ উপার্জন করা
আপনি যখন সঠিকভাবে ওয়েবসাইট এসইও করবেন তখন আপনার সাইটে পর্যাপ্ত পরিমান ট্রাফিক আসবে। আর আপনি তখন সেই ট্রাফিকদের কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ভাবে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। যেমন, ওয়েবসাইট মনিটাইজ, স্পন্সরশীপ, পেইড প্রোমোশন ইত্যাদি।
আমরা যখন আমাদের ওয়েবসাইট এসইও করবো তখন এই এসইও করার পেছনে যেসব উদ্দেশ্যে থাকবে সেগুলো উপরে শেয়ার করা হলো। আর যদি আপনারও সেরকম কোনো উদ্দেশ্যে থাকে তাহলে আপনাকে অবশ্যই এসইও করতে হবে।
এসইও কি কি ধরনের হয়?
যখন আপনি কোনো একটি ওয়েবসাইট এসইও করতে চাইবেন তখন আপনি মোট ০৩ টি উপায়ে সেই কাজ গুলো করতে পারবেন। আর সেগুলো হলো,
- হোয়াইট হ্যাট এসইও,
- ব্লাক হ্যাট এসইও,
- গ্রে হ্যাট এসইও,
যদিওবা অধিকাংশ মানুষ হোয়াইট হ্যাট পদ্ধতিতে এসইও এর কাজ করে। তবে তার আগে আমাদের এই ০৩ প্রকার এসইও এর ধরন জেনে নিতে হবে।

হোয়াইট হ্যাট এসইও কাকে বলে? | (White Hat SEO)
আপনারা যারা গুগল কিংবা অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনের সকল গাইডলাইন মান্য করে এসইও করবেন তখন তাকে বলা হবে হোয়াইট হ্যাট এসইও। আর হোয়াইট হ্যাট এসইও করার সময় কোনো ধরনের অবৈধ পন্থা অনুসরন করা হয়না।
ব্ল্যাক হ্যাট এসইও কাকে বলে? | (Black Hat SEO)
যখন আপনি সার্চ ইঞ্জিনের গাইডলাইন লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে এসইও করবেন তখন তাকে বলা হবে ব্ল্যাক হ্যাট এসইও। যেখানে সার্চ ইঞ্জিনকে এক ধরনের প্রেসার ক্রিয়েট করা হয় Website Rank করার জন্য।
গ্রে হ্যাট এসইও কাকে বলে? | (Gray Hat SEO)
সাধারনত হোয়াইট হ্যাট ও ব্ল্যাক হ্যাট এর সমন্বয়ে এসইও এর কাজ করা হবে তখন তাকে গ্রে হ্যাট এসইও বলা হবে। যেখানে সার্চ ইঞ্জিনের গাইডলাইন কিছুটা মানা হয় আবার কিছুটা লঙ্ঘন করা হয়।
কোন এসইও ভালো? – (White/Black/Gray)
আপনি এই তিনটি পদ্ধতিতে এসইও এর কাজ করতে পারবেন। তবে আপনার ক্ষেত্রে আসলে কোন পদ্ধতি হেল্পফুল হবে সেটা আপনার এসইও করার উদ্দেশ্যের উপর নির্ভর করবে। কেননা, বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন কারণে এসইও করে। তবে আপনার কিংবা আমার সবার ক্ষেত্রে হোয়াইট হ্যাট এসইও করা উচিত।
তবে যদি আপনি শর্ট টাইমের জন্য কোনো প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করতে চান তাহলে আপনি গ্রে হ্যাট কিংবা যেকোনো ধরনের এসইও করতে পারবেন। কিন্তুু যদি আপনার লং টাইম প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা থাকে তাহলে কখনই শর্টকার্ট কিংবা নীতিলঙ্ঘন করার মতো কাজ করবেন না।
এসইও কত প্রকার ও কি কি? | (Kind of SEO)
আমরা অর্গানিক ভাবে ভিজিটর পাওয়ার জন্য যে এসইও করি, তাকে মোট ০৩ টি ভাগে ভাগ করা হয়। আর সেই এসইও এর প্রকারভেদ গুলো হলো,
- অন পেজ এসইও (On page SEO)
- অফ পেজ এসইও (OFF page SEO)
- টেকনিক্যাল এসইও (Technical SEO)
এসইও করার জন্য আপনাকে ভিন্ন ধরনের কাজ করতে হবে। তবে এসইও করার সেই সব গুলো কাজ অন পেজ ও অফ পেজ এসইও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।
অন পেজ এসইও | (On Page SEO)
যখন আপনার একটি ওয়েবসাইট থাকবে আর সেই ওয়েবসাইট অপটিমাইজ করার জন্য অভ্যন্তরীন কাজ করবেন। তখন সেই কাজ গুলো কে বলা হবে অন পেজ এসইও। যেমন ধরুন, একটি ওয়েবসাইট এর মধ্যে টাইটেল থাকে, কন্টেন্ট থাকে, লিংক থাকে, ডিজাইন ইত্যাদি বিষয় গুলো থাকে।
আর যখন আপনি ওয়েবসাইট এর সেই অভ্যন্তরীন বিষয় গুলো কে সার্চ ইঞ্জিনের জন্য অপটিমাইজ করবেন, তখন তাকে বলা হবে On Page SEO. তবে অন পেজ এসইও করার ক্ষেত্রে আপনাকে বাধ্যতামূলক যে কাজ গুলো করতে হবে সেগুলো নিচে দেওয়া হলো।
০১-মেটা ডেসক্রিপশন (Meta Description)
মেটা ডেসক্রিপশন হলো নির্দিষ্ট কোনো একটি ওয়েবসাইট এর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যেটি আমরা সার্চ ইঞ্জিন ফলাফলের তালিকায় দেখতে পাই। আর ওয়েবসাইট মেটা ডেসক্রিপশন সাধারণত (150-160) শব্দের মধ্যে থাকে। যার মাধ্যমে ভিজিটরদের কাছে কোনো ওয়েবসাইট/পেজ এর মূল বিষয় কে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব।
০২-টাইটেল ট্যাগ (Title Tag)
টাইটেল টাগ ওয়েবসাইটের সার্চ ইঞ্জিন ফলাফলের তালিকায় (SERP) এ দেখানো হয়। আমরা সাধারনত ব্রাউজার ট্যাবে অথবা উইন্ডোর শীর্ষ স্থানে টাইটেল ট্যাগ দেখতে পারি। আর অন পেজ এসইও এর ক্ষেত্রে Title Tag অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
০৩-ইন্টারনাল লিঙ্ক (Internal Links)
একটি ওয়েবসাইটের এক পেজকে থেকে অন্য পেজে লিঙ্ক করার প্রক্রিয়াকে বলা হয় ইন্টারনাল লিঙ্ক। যার মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইটে আসা ভিজিটরদের এক পেজ থেকে অন্য পেজে পৌঁছাতে পারবেন। যার ফলে ভিজিটররা আপনার ওয়েবসাইট থেকে তাদের প্রয়োজনীয় বিষয় গুলো খুজে নিতে পারবে।
০৪-ইমেজ অপটিমাইজেশন (Image Optimization)
অন পেজ এসইও করার ক্ষেত্রে ইমেজ অপটিমাইজেশন করা গুরুত্বপূর্ণ। যে প্রক্রিয়ায় আপনার ওয়েবসাইট এর মধ্যে থাকা ইমেজ গুলোকে অপটিমাইজ করা হয়। আর ইমেজ অপটিমাইজ করার জন্য আপনাকে ALT টেক্সট এবং মেটাডেটা নিয়ে কাজ করতে হবে।
০৫-কন্টেন্ট (Content)
একটি ওয়েবসাইট এর প্রাণ হলো কন্টেন্ট। আপনি যতোই এসইও এর কাজ করুন না কেন যদি আপনার কন্টেন্ট কোয়ালিটিফুল না হয়। তাহলে আপনার এসইও করার সব শ্রম বিফলে যাবে। আর ব্লগিং জগতে একটি কথা আছে সেটি হলো, Content is King.
০৬-রেসপন্সিভ থিম (Responsive Theme)
আমরা আমাদের ওয়েবসাইটের সেই থিম গুলোকে রেসপন্সিভ বলবো যেগুলো বিভিন্ন ডিভাইসের স্ক্রিন আকারের উপর ভিত্তি করে নিজেকে সমঞ্জস্য করবে। অর্থাৎ একটি রেসপন্সিভ থিমের মূল উদ্দেশ্য হলো আপনার ওয়েবসাইট এর লেআউট ও ডিজাইনটি সকল ডিভাইসের জন্য সাজিয়ে তোলা। যেন সব ধরনের ডিভাইস থেকে আপনার ওয়েবসাইটে ব্রাউজ করা যায়।
০৭-ইউআরএল অপটিমাইজেশন (URL Optimization)
সার্চ ইঞ্জিনে কোনো একটি ওয়েবসাইট র্যাংক করার জন্য ইউআরএল অপটিমাইজ করার দরকার হয়। অনলাইনে থাকা প্রতিটা ওয়েবসাইট এর জন্য Url হলো একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। যার মাধ্যমে একজন ভিজিটর আপনার ওয়েবসাইট শনাক্ত করতে পারবে।
০৮-আউট বাউন্ড লিঙ্ক (Outbound Links)
যখন আপনার ওয়েবসাইটে অন্য কোনো ওয়েবসাইট এর লিংক যুক্ত করা হবে তখন তাকে বলা হবে আউট বাউন্ড লিংক। যেটি ব্যবহার করার মূল উদ্দেশ্যে হলো, আপনার ওয়েবসাইটের কনটেন্ট এর মধ্যে আরো প্রাসঙ্গিক সোর্স যুক্ত করা। যাতে করে ভিজিটররা আপনার কন্টেন্ট এর প্রাসঙ্গিক বিষয় জানতে পারে।
০৯-হেডার ট্যাগ (Header Tag)
একটি ওয়েবসাইটে থাকা কন্টেন্ট কে এসইও ফ্রেন্ডলি করার জন্য হেডার ট্যাগ করা করা হয়। যার ফলে ভিজিটর আপনার কন্টেন্ট এর মূল বিষয়বস্তু সম্পর্কে সহজেই বুঝতে পারবে। আর এই হেডিং ট্যাগ গুলোকে (H1-H6) পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়।
তো একটি কন্টেন্ট এর মধ্যে h1 Heading Tag কে ওয়েবসাইটের প্রধান এবং গুরুত্বপূর্ণ শিরোনামের জন্য ব্যবহার করা হয়। আর কন্টেন্ট সেকশনের শিরোনামের জন্য h2 Heading Tag ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও (h3-h6) Heading Tag কে কন্টেন্ট এর উপ-শিরোনামের জন্য এবং হায়পারলিঙ্ক এর কাজে ব্যবহার করা হয়।
১০- হেডলাইন (Headline)
আপনার ওয়েবসাইটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হেডলাইন। কারণ ভিজিটররা সর্বপ্রথম আপনার ওয়েবসাইটে থাকা হেডলাইন দেখতে পারবে। আর হেডলাইনের মাধ্যমে যদি আপনি ভিজিটরদের আর্কষন করতে পারেন। তাহলে সেই ভিজিটর আপনার সাইটে প্রবেশ করার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।
১১-কিওয়ার্ড রিসার্চ (Keyword Research)
অন পেজ এসইও করার ক্ষেত্রে কিওয়ার্ড রিসার্চ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মানুষ আসলে কোন কোন বিষয় জানার জন্য সার্চ করে সেগুলো সম্পর্কে পর্যাপ্ত রিসার্চ করার কাজ গুলোকে বলা হয় কিওয়ার্ড রিসার্চ।
তো যখন আপনি কোনো একটি ওয়েবসাইট এর অন পেজ এসইও করবেন তখন আপনার কোন কাজ গুলো করা দরকার। সেগুলো নিয়ে উপরে আলোচনা করা হয়েছে। অন পেজ এসইও (SEO) বিস্তারিত আইডিয়া নিতে পারেন । তাই এবার আমাদের জানতে হবে যে, অফ পেজ এসইও কি।
অফ পেজ এসইও | Off Page SEO
যখন আপনি আপনার ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনের র্যাংকে নিয়ে আসার জন্য ওয়েবসাইট এর বাইরে থেকে কাজ করবেন। তখন আপনার সেই অপটিমাইজেশন এর কাজ গুলোকে বলা হবে অফ পেজ এসইও।
আর যখন আপনি আপনার ওয়েবসাইট এর অফ পেজ এসইও করবেন তখন আপনাকে বিভিন্ন ধরনের কাজ করতে হবে। যে কাজ গুলো নিয়ে নিচে ধাপে ধাপে আলোচনা করা হলো।
০১-লিঙ্ক বিল্ডিং (Link Building)
কোনো একটি ওয়েবসাইট এর অন পেজ এসইও করার পর আপনাকে অফ পেজ এসইও করতে হবে। আর সবার শুরুতে আপনার যে কাজটি করতে হবে সেটি হলো লিঙ্ক বিল্ডিং। যার মাধ্যমে আপনি খুব সহজে আপনার ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনে র্যাংক করাতে পারবেন।
০২-ডোমেইন অথরিটি (Domain authority)
সাধারনত একটি ডোমেইন এর অথোরিটি (০ থেকে ১০০) পর্যন্ত হয়। তবে এটি হলো MOZ এসইও টুলস এর অন্যতম একটি র্যাংকিং করার প্রক্রিয়া। যার মাধ্যমে কোনো একটি ডোমেইন এর অথোরিটি যতো ভালো হবে সেই ওয়েবসাইট সার্চ ইঞ্জিনে র্যাংক করার সম্ভাবনা ততো বৃদ্ধি পাবে।
০৩-পেজ অথরিটি (Page authority)
ডোমেইন অথোরিটির মতো পেজ অথোরিটির সর্বোচ্চ সীমা হলো (০ থেকে ১০০) পর্যন্ত। আর সার্চ ইঞ্জিনে ওয়েবসাইট র্যাংক করার পেছনে পেজ অথোরিটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। লিংক বিল্ডিং ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্রান্ডিং এর মাধ্যমে একটি ওয়েবসাইটের পেজ অথরিটি বাড়ানো সম্ভব।
০৪-ইউজার কমেন্ট (User Comments)
অফ-পেজ এসইও করার ক্ষেত্রে আপনার ওয়েবসাইটে থাকা কন্টেন্টে ইউজার কমেন্ট এর ভূমিকা অপরিসীম। যার মাধ্যমে ভিজিটররা তাদের প্রশ্নের সঠিক উত্তর গুলো জানতে পারে। এর ফলে সার্চ ইঞ্জিনের র্যাংকিং করার কাজে আপনার ওয়েবসাইট পজেটিভ সিগন্যাল প্রদান করবে।
০৫-সোশ্যাল মিডিয়া শেয়ার (Social Media Share)
অফ পেজ এসইও করার জন্য আপনার ওয়েবসাইট লিঙ্ক সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম গুলোতে শেয়ার করতে হবে। যার ফলে একদিকে আপনার ওয়েবসাইটের ভালোমানের লিঙ্ক তৈরি হবে। এর পাশাপাশি আপনার ওয়েবসাইট এর পপুল্যারিটি বাড়বে। আর SEO কি এবং এসইও কত প্রকার সেগুলো নিয়ে উপরে আলোচনা করা হয়েছে।
তো যখন আপনি নতুন এসইও শিখবেন তখন আপনাকে অবশ্যই উপরোক্ত বিষয় গুলো সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারনা নিতে হবে। তাহলেই আপনি এসইও ভালো ভাবে শিখতে পারবেন আর এসইও কে সঠিক ভাবে ব্যবহার করতে পারবেন।
টেকনিক্যাল এসইও | (Technical SEO)
নির্দিষ্ট কোনো ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনে র্যাংক করার জন্য সেই ওয়েবসাইটের টেকনিক্যাল বিষয় গুলোর কাজ করা হয় তখন তাকে বলা হবে, টেকনিক্যাল এসইও। যেমন একটি ওয়েবসাইট কে মোবাইল ফ্রেন্ডলি করা, ওয়েবসাইটে থাকা ইমেজ অপটিমাইজ করা, ব্রোকেন লিংক সংশোধন করা ইত্যাদি। তবে এগুলোর পাশাপাশি টেকনিক্যাল এসইও করার জন্য কি কি কাজ করতে হবে সেগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো।
০১ – ওয়েবসাইট মোবাইল ফ্রেন্ডলি করা
বর্তমান সময়ে আমরা ডিজিটাল যুগে বসবাস করছি। কিন্তুু তারপরও এখনও ঘরে ঘরে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়না বরং বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ মোবাইল দিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করে। তাই আপনার ওয়েবসাইট এর ডিজাইন এমন হতে হবে যেন মোবাইল দিয়ে ভিজিট করার সময় কোনো ধরনের সমস্যা না হয়।
০২ – ইউজার ফ্রেন্ডলি ডিজাইন
আপনার ওয়েবসাইটের ইউজার এনগেজমেন্ট এর অন্যতম হাতিয়ার হলো ইউজার ফ্রেন্ডলি ডিজাইন। যেখানে একজন ভিজিটর আপনার ওয়েবসাইটে আসার পর যেন সহজেই আপনার ওয়েবসাইট থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। তবে ভুল করেও আপনার ওয়েবসাইটের ডিজাইন এতোটা কঠিন করবেন না যাতে করে ভিজিটরদের বুঝতে কষ্ট হয়।
০৩ – অপটিমাইজ লোডিং স্পিড
গুগল সার্চ থেকে আপনার ওয়েবসাইট লিংকে ক্লিক করার পর আপনার ওয়েবসাইটের পুরো পেজ লোড নিতে যে সময়ের দরকার হবে সেটি হলো লোডিং স্পিড। এক্ষেত্রে আপনার ওয়েবসাইটের লোডিং স্পিড যতো কম হবে ততোই ভালো। এরফলে সার্চ রেজাল্ট থেকে আপনার সাইটের লিংকে ক্লিক করার কয়েক সেকেন্ডেই আপনার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারবে।
০৪ – এসএসএল সার্টিফিকেট
কোনো একটি ওয়েবসাইটকে সিকিউর করার জন্য যে Https প্রোটেকশন ব্যবহার করা হয় তাকে বলা হয় এসএসএল সার্টিফিকেট। যা থেকে এটা প্রমান করে যে, ভিজিটরদের জন্য আপনার ওয়েবসাইট সম্পূর্ণ সুরক্ষিত।
০৫ – গুগল সার্চ কনসোল এরোর ফিক্সিং
আপনার ওয়েবসাইটের কোন কোন পেজ গুলো গুগলে ইনডেক্স হয়েছে, সার্চ রেজাল্ট থেকে কেমন ভিজিটর আসছে ইত্যাদি তথ্যগুলো Google Search Console থেকে দেখা যায়। আর একটি ওয়েবসাইট কে সার্চ কনসোলে যুক্ত করার পর বিভিন্ন ধরনের এরোর দেখা দিতে পারে। যেমন, 404 Error Page, Crawler ERROR, Broken Link ইত্যাদি।
তো যখন আপনি কোনো একটি ওয়েবসাইট এর টেকনিক্যাল এসইও করবেন তখন আপনাকে বিভিন্ন ধরনের কাজ করতে হবে। আর সেই টেকনিক্যাল এসইও এর সেই গুরত্বপূর্ণ কাজ গুলো সম্পর্কে উপরে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
কিভাবে এসইও এর কাজ করা হয়?
আপনি যখন এসইও করতে চাইবেন তখন আপনি মোট দুইটি পদ্ধতিতে এসইও এর কাজ করতে পারবেন। আর বর্তমান সময়ে যারা এসইও এক্সপার্ট তারাও এই দুইটি পদ্ধতি মেনে কাজ করে। সেই পদ্ধতি গুলো হলো,
- পেইড এসইও (Paid Seo)
- অর্গানিক এসইও (Free Seo)
তো যেহুতু আপনি এসইও শিখতে চাচ্ছেন সেহুতু পেইড ও অর্গানিক এসইও কাকে বলে তা জেনে নিতে হবে। তাহলে আপনি এসইও সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারনা পেয়ে যাবেন।
অর্গানিক এসইও কাকে বলে?
একজন এসইও এক্সপার্ট যখন নিজের মেধা, শ্রম ও ধৈর্য্য নিয়ে এসইও এর কাজ গুলো করবে তখন সেই কাজের পদ্ধতিকে বলা হবে ফ্রি এসইও। যেখানে খুব বেশি অর্থ খরচ করার প্রয়োজন হবেনা। বরং এই ধরনের এসইও করার জন্য যথেষ্ট পরিশ্রম দিয়ে যাবতীয় কাজ গুলো ম্যানুয়ালি করা হয়।
পেইড এসইও কাকে বলে?
যখন আপনি কম শ্রম ও মেধা খাটিয়ে শুধুমাত্র অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট কিওয়ার্ডে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে এসইও এর কাজ করবেন তখন তাকে বলা হবে পেইড এসইও। কেননা, এই ধরনের এসইও করার জন্য খুব বেশি পরিশ্রম করার দরকার হয়না। বরং আপনি নির্ধারিত অর্থ খরচ করতে পারলেই আপনার কাঙ্খিত অডিয়্যান্সের নিকট পৌঁছাতে পারবেন।
এসইও (SEO) এর কাজ কি?
বর্তমান সময়ে অধিকাংশ মানুষ এসইও করে তাদের ওয়েবসাইটে ট্রাফিক বৃদ্ধি করার জন্য। তবে যখন আপনি আপনার ওয়েবসাইটে সকল নিয়ম মেনে সঠিকভাবে এসইও করতে পারবেন। তখন আপনি বিভিন্ন দিক থেকে সুবিধা পাবেন। আর উক্ত সুবিধা গুলোই হলো এসইও এর মূল কাজ। যেমন,
- আপনার ওয়েবসাইট এর সব বিষয়বস্তু দৃশ্যমান হবে।
- প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চ ইঞ্জিনের টপ পজিশনে থাকবে।
- ওয়েবসাইটে আশানুরুপ ট্রাফিক।
- ওয়েবসাইট থেকে প্রোডাক্ট সেল বৃদ্ধি।
- অনলাইনে নিজস্ব ব্রান্ডিং তৈরি করা।
- ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনের জন্য উপযুক্ত করে তোলা।
তো আপনি যখন আপনার এসইও করবেন তখন আপনি কি কি বেনিফিট পাবেন সেগুলো উপরে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই বেনিফিট পাওয়ার জন্য সঠিকভাবে এসইও করার কোনো বিকল্প নেই।
বিজনেস এর জন্য এসইও (SEO) কেন প্রয়োজনীয় ?
আপনি যদি অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আপনার বিজনেস এর প্রচার ও প্রসার করতে চান তাহলে এসইও আপনার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কারণ, আপনার ব্যবসার জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় হলো কাস্টমার। আর এসইও এর কৌশলের মাধ্যমে আপনি অনেক সহজেই আপনার টার্গেট করা কাস্টমারদের নিকট পৌঁছাতে পারবেন।
মনে করুন আপনার মেয়েদের থ্রি পিসের ব্যবসা আছে। এখন আপনি যদি সঠিক ভাবে এসইও করতে পারেন তাহলে আপনার ব্যবসা সম্পর্কে সেই কাস্টমারদের জানিয়ে দিতে পারবেন। যারা আসলে সত্যি সত্যি থ্রি পিস কিনতে চাচ্ছে। তবে শুধুমাত্র থ্রি পিস এর ক্ষেত্রেই নয় বরং আপনি আপনার যে কোনো ধরনের ব্যবসাকে এসইও করার মাধ্যমে প্রচার ও প্রসার করতে পারবেন।
সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং কি?
আমরা যখন নতুন কিছু জানতে চাই তখন সার্চ ইঞ্জিনের সহায়তা নেই। তো কোনো কিছু সার্চ করার পর আমরা সার্চ রেজাল্টের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন দেখতে পাই। এই বিজ্ঞাপন গুলোই হলো সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং এর অংশ। তাই আমরা বলতে পারি যে, ব্যবসার প্রসার ও প্রসারের জন্য যখন সার্চ ইঞ্জিনে আসা ব্যক্তিদের টার্গেট করে মার্কেটিং করা হয়, তাকে সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং বলা হয়। তবে মাথায় রাখবেন, সার্চ ইঞ্জিন বলতে শুধু গুগল নয়, বরং এর মতো আরো অনেক সার্চ ইঞ্জিন আছে যেগুলো গোটা বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়।
Seo শিখতে কি কি লাগে?
যখন আপনি নতুন ব্যক্তি হিসেবে এসইও শিখবেন তখন আপনার নিকট বেশ কিছু জিনিস থাকতে হবে। যেগুলোর মাধ্যমে আপনি পূর্ণাঙ্গ ভাবে এসইও সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন। আর এবার আমি আপনাকে এসইও শেখার জন্য প্রয়োজনীয় বিষয় গুলো নিয়ে বিস্তারিত বলবো। যেমন,
০১- কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সংযোগ
যারা নতুন করে এসইও শিখতে চাচ্ছেন তাদের জন্য সর্ব প্রথম কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট সংযোগ এর দরকার হবে। কারন এসইও এর যাবতীয় কাজ গুলো আপনাকে অনলাইন এর মাধ্যমে করতে হবে। এছাড়াও যখন আপনি বিভিন্ন ধরনের এসইও টুলস ব্যবহার করবেন তখনও আপনার কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট সংযোগ থাকতে হবে।
০২- এসইও শেখার আগ্রহ
যদি আপনার মধ্যে কোনো কাজ শেখার পর্যাপ্ত আগ্রহ না থাকে তাহলে কেউ আপনাকে জোর করে কিছু শেখাতে পারবে না। তাই আপনার মধ্যে এসইও শেখার আগ্রহ থাকতে হবে। যাতে করে আপনি নিজে থেকে এসইও এর নতুন নতুন বিষয় গুলো জানার চেষ্টা করতে পারেন।
০৩- ধৈর্য্য
আপনি আজকে আপনার ওয়েবসাইট এসইও করলে কালকেই যে লাখ লাখ ভিজিটর আসবে বিষয়টা কিন্তুু এমন নয়। বরং এসইও শেখা ও এসইও এর কাজ গুলো অনেক ধীর গতির হয়। তাই এসইও করার পর তার ফলাফল পেতে হলে আপনার মধ্যে যথেষ্ট ধৈর্য্য থাকতে হবে। অন্যথায় আপনি এসইও শিখতে এসে হতাশায় পড়ে যাবেন।
০৪- অনুশীলন
শুধুমাত্র এসইও শিখে বসে থাকলে হবেনা, বরং আপনাকে যথেষ্ট অনুশীলন করতে হবে। আর আপনি যতো বেশি এসইও নিয়ে অনুশীলন করবেন ঠিক ততো বেশি নতুন নতুন র্যাংকিং ফ্যাক্টর সম্পর্কে জানতে পারবেন। আর আমরা তো বেশ ভালো করে জানি যে, Practice Makes Man Perfect.
০৫- সময়
কোনো কাজ করতে গেলে কিংবা কোনো কিছু শেখার জন্য অবশ্যই আপনার হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকতে হবে। মনে রাখবেন কোনো কিছু শিখতে গিয়ে যদি আপনি মাঝপথে হাল ছেড়ে দেন তাহলে আপনার সময় ও শ্রম সব বৃথা যাবে।
তো প্রাথমিক ভাবে এসইও শেখার জন্য আপনার যা কিছু প্রয়োজন হবে সেগুলো উপরে উল্লেখ করা হয়েছে। আর আপনার মধ্যে যদি উপরোক্ত বিষয় গুলো থাকে তাহলে ধরে নিন যে আপনি এসইও শেখার জন্য একদম প্রস্তুত। আর আপনাকে দিয়েই এসইও শেখা সম্ভব হবে।
Seo শিখে কিভাবে আয় করবো?
যখন আপনি কোনো কাজে নিজেকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন তখন আপনি বিভিন্ন উপায়ে টাকা আয় করতে পারবেন। ঠিক তেমনি ভাবে আপনি যখন একজন দক্ষ এসইও এক্সপার্ট হতে পারবেন তখন আপনি সেই দক্ষতার বিনিময়ে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে আয় করতে পারবেন। আর অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসইও শিখে যেভাবে আয় করা সম্ভব সেই উপায় গুলো হলো,
- SEO সার্ভিস সেল করে আয়,
- মার্কেটিং অ্যাডভাইজার থেকে আয়,
- ওয়েব রিসার্চ এর কাজ করে,
- ইমেইল মার্কেটিং করে,
- অনলাইন মার্কেটার এর কাজ করে,
- অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে,
- গুগল এডসেন্স থেকে,
- ব্লগিং করে,
- আর্টিকেল রাইটিং সার্ভিস দিয়ে,
- ই-কমার্স ব্যবসা করে,
- লিংক বিল্ডিং করে,
তো যখন আপনার এসইও সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ দক্ষতা থাকবে তখন আপনি উপরোক্ত উপায়ে আয় করতে পারবেন। আর এই কাজ গুলো অনলাইন মার্কেটপ্লেস কিংবা বিভিন্ন কোম্পানির আওতায় চাকরি মাধ্যমে করার সুযোগ পাবেন।
Seo এর ভবিষ্যৎ কেমন?
বিভিন্ন সময় আমরা শুনতে পাই যে, SEO is death. কিন্তুু যারা আসলে এমন কথা বলে তাদের অনলাইন সম্পর্কে ধারনার স্বল্পতা আছে। কারণ সময় যতো অতিবাহিত হচ্ছে আমরা মানুষরা ঠিক ততো বেশি অনলাইন নির্ভর হয়ে পড়ছি।
কেননা, আমরা এখন অজানা কিছু জানার জন্য সবার আগে অনলাইনে সার্চ করি। আর অনলাইনে এমন সার্চ করা ব্যক্তিদের টার্গেট করার অন্যতম হাতিয়ার হলো এসইও। যার মাধ্যমে আপনি সার্চ ইঞ্জিন থেকে অর্গানিক ভাবে আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিটর নিয়ে আসতে পারবেন।
এছাড়াও প্রতিটা সার্চ ইঞ্জিন তাদের র্যাংকিং ফ্যাক্টর গুলো প্রতিনিয়ত পরিবর্তন করে। যার কারণে একজন দক্ষ ও আপডেটেট এসইও এক্সপার্ট এর চাহিদা সর্বদাই থাকবে। তাই এসইও এর ভবিষ্যৎ আছে কিনা সেটা নিয়ে না ভেবে এসইও কে ভালোভাবে শেখার কাজে সময় ব্যয় করুন।
SEO এর কাজ শেখার উপায়?
আপনি চাইলে বিভিন্ন পদ্ধতি ফলো করে এসইও শিখতে পারবেন। যেমন, আপনার এলাকার আশেপাশে থাকা কোনো আইটি ইনস্টিটিউট থেকেও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের মাধ্যমে এসইও শিখতে পারবেন। আবার বর্তমান তো নিজের ঘরে বসে অনলাইন কোর্স করেও এসইও শেখা যায়।
তবে আমার দৃষ্টিকোন থেকে আপনি যদি এসইও সম্পর্কে জানে এমন অভিজ্ঞ লোকের কাছে এসইও শিখেন। তাহলে আপনি পূর্ণাঙ্গ ভাবে এসইও শিখতে পারবেন। আর অনলাইন থেকে কোর্স কিনে এসইও শেখার ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্ক থাকবেন। কেননা, এমন অনেক কোর্স ব্যবসায়ী প্রস্তুত হয়ে আছে কোর্সের নাম করে আপনার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য।
কিছু এসইও প্রশ্ন – Search Engine Optimization
Q: এসইও শিখতে কত টাকা লাগবে?
A: আপনি যদি কোনো আইটি প্রতিষ্ঠান থেকে এসইও শিখতে চান তাহলে আপনার খরচ কিছুটা বেশি হবে। কিন্তুু অনলাইন প্রতিষ্ঠান কিংবা কোর্স করলে আপনার এসইও খরচ অনেক কম হবে। আর খরচের পরিমান নির্ভর করবে আপনার কোন প্রতিষ্ঠান / কোর্সের মাধ্যমে এসইও শিখতে চান তার উপর।
Q: এসইও শিখতে কি কি যোগ্যতা লাগে?
A: সত্যি বলতে এসইও শেখার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে আপনার ইংরেজি ভাষায় দক্ষ হতে হবে এবং এসইও শেখার জন্য পর্যাপ্ত আগ্রহ থাকতে হবে।
Q: এসইও শিখে কত টাকা আয় করা যাবে?
A: যদি আপনি নিজেকে একজন দক্ষ এসইও এক্সপার্ট হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন। তাহলে আপনি এসইও সার্ভিস দিয়ে নিজের সফল ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন।
Q: মোবাইল দিয়ে এসইও শেখা যাবে?
A: হ্যাঁ, আপনি চাইলে মোবাইল দিয়েও এসইও শিখতে পারবেন। কিন্তুু যখন আপনি এসইও প্রাকটিস কিংবা এসইও এর কাজ করবেন তখন আপনার কম্পিউটার/ল্যাপটপ প্রয়োজন হবে।
Q: এসইও শেখার পর কোথায় কাজ করতে পারবো?
A: অনলাইনের ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস ও অফলাইনের বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে পারবেন। সেজন্য অবশ্যই আপনাকে একজন দক্ষ এসইও এক্সপার্ট হতে হবে।
Q: বাংলাদেশে এসইও এক্সপার্টদের চাহিদা কেমন?
A: আমাদের বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল হচ্ছে। আর একটি দেশের মানুষ যতোটা অনলাইন নির্ভর হবে সেই দেশে এসইও এক্সপার্টদের চাহিদা ততোই বৃদ্ধি পাবে।
আপনার জন্য লেখকের কিছুকথা
আজকে আমি আপনার সাথে এসইও কি সে বিষয়ে বিস্তারিত বলেছি। আর চেষ্টা করেছি এসইও সম্পর্কে আপনাকে পূর্ণাঙ্গ ধারনা দেওয়ার। তো এরপরও যদি আপনার এসইও সম্পর্কে আরো কোনো প্রশ্ন থাকে তাহলে সেই প্রশ্নটি নিচে কমেন্ট করবেন। আর এতক্ষন আমার লেখা আর্টিকেল টি পড়ার জন্য আপনাকে জানাই অনেক অনেক ধন্যবাদ। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।



