কোনো একটি ব্যবসার মূল হাতিয়ার হলো মার্কেটিং। যা আপনার ব্যবসার প্রসার ও পণ্যের প্রচার করতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কিন্তুু আপনার যদি মার্কেটিং দক্ষতা না থাকে সেক্ষেত্রে আপনি অন্যান্য প্রতিযোগীদের তুলনায় অনেকগুন পিছিয়ে থাকবেন। তবে প্রশ্ন হলো, মার্কেটিং কি ও মার্কেটিং এর জনক কে?
মূলত আজকের এই আর্টিকেলে মার্কেটিং সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। আর আমি চেষ্টা করবো, মার্কেটিং কি, কেন মার্কেটিং করা উচিত, কিভাবে মার্কেটিং করা যাবে এবং মার্কেটিং এর জনক কে তা নিয়ে সঠিক তথ্য গুলো শেয়ার করার। তো আর দেরী না করে চলুন সরাসরি মূল আলোচনায় ফিরে যাওয়া যাক।
মার্কেটিং কি?
সহজ ভাষায় বলতে গেলে মার্কেট হলো একটি ইংরেজি শব্দ যার অর্থ হলো, বাজার। যেমন, আমরা কাঁচা বাজার, শপিংমল ইত্যাদিকে মার্কেট বলে থাকি। তবে মার্কেটিং বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। কারণ, মার্কেটিং হলো নির্দিষ্ট ক্রেতাদের মনের ভেতরের স্থানকে বোঝায়। অর্থ্যাৎ নির্দিষ্ট একটি পণ্যকে ক্রেতাদের নিকট কিভাবে প্রচার করলে তা বিক্রি করা যাবে তার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাকে বলা হয় মার্কেটিং।
মার্কেটিং এর মানে কি?
সত্যি বলতে মার্কেটিং এর মানেটা খুব সহজ। কেননা, যখন আপনি ক্রেতার সবকিছু বিবেচনা করে নির্দিষ্ট কোনো পণ্যের বিজ্ঞাপন তাদের নিকট পৌঁছাবেন, তখন তাকে বলা হবে মার্কেটিং। তবে এই মার্কেটিং কে যতোটা সহজভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে বাস্তবতা কিন্তু অনেক কঠিন। কারণ, এই মার্কেটিং এর উপর নির্ভর করে যে কোনো একটি প্রোডাক্ট ক্রেতারা কিনবে কিনা।
সেজন্য কোনো ব্যবসা বা পণ্যের মার্কেটিং করার আগে মার্কেট রিসার্চ করতে হয়। যারা ক্রেতা তাদের খুব ভালোভাবে এনালাইসিস করতে হয়। এরপরও তাদের নিকট কিভাবে মার্কেটিং করলে তারা উক্ত পণ্য কিনতে আগ্রহী হবে তার স্ট্রাটেজি খুজে বের করতে হয়। আর যখন একজন মার্কেটার এই কাজ গুলো যতোটা নিখুঁত ভাবে করতে পারবে তার সফলতা পাওয়ার সম্ভাবনা ঠিক ততোই বৃদ্ধি পাবে।
মার্কেটিং এর জনক কে?
উপরের আলোচনায় আমরা মার্কেটিং কি তা জানলাম। তবে এই বিষয়টি জানার পাশাপাশি আমাদের আরো একটি তথ্য জেনে নিতে হবে। সেটি হলো, মার্কেটিং এর জনক কে। তো মার্কেটিং এর জনক হলেন ফিলিপ কোটলার (Philip Kotler). ইনি হলেন সেই ব্যক্তি যার হাত ধরে মার্কেটিং এর সূচনা হয়েছে।

তিনি ২৭ মে, ১৯৩১ সালে শিকাগোতে জন্মগ্রহন করেছিলেন। যদিওবা তিনি বিভিন্ন বিষয়ে অসংখ্য বই লিখেছেন, তবে তার লেখা মার্কেটিং ম্যানেজমেন্ট বইটি মানুষের কাছে অনেক বেশি জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়াও তিনি নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিস্টিংগুইশ প্রফেসর ড. ফিলিপ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এ পর্যন্ত ১২টি সম্মানসূচক পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেছেন।
মার্কেটিং কত প্রকার কি কি?
মার্কেটিং কি এবং মার্কেটিং এর জনক কে – আশা করি এই বিষয় গুলো সম্পর্কে আপনি সঠিক তথ্য জানতে পেরেছেন। তো এবার আমাদের জানতে হবে যে, মার্কেটিং কত প্রকার ও কি কি। তো মার্কেটিং কে সাধারনত দুইটি ভাগে ভাগ করা হয়। আর সেগুলো হলো,
- ট্রেডিশনাল মার্কেটিং
- ডিজিটাল মার্কেটিং
ট্রেডিশনাল মার্কেটিং কি?
অতীতের সময় থেকে চলে আসা সবচেয়ে পরিচিত মার্কেটিং কে বলা হয় ট্রেডিশনাল মার্কেটিং। কারণ, যখন থেকে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে মার্কেটিং এর যাত্রা শুরু হয়েছে ঠিক তখন থেকেই ট্রেডিশনাল মার্কেটিং এর ব্যবহার হয়ে আসছে। যেমন, আমরা রাস্তার পাশে বিভিন্ন কোম্পানির ব্যানার ও পোষ্টার দেখতে পাই। তো এই ব্যানারের মধ্যে থাকা পণ্যের মার্কেটিং কে ট্রেডিশনাল মার্কেটিং বলা হয়। আর এই মার্কেটিং বিভিন্ন ভাবে করা হয়। যেমন,
- রেডিও
- টেলিভিশন
- ব্যানার
- পোষ্টার
- মাইকিং
- পত্রিকা
- সিনেমা
ডিজিটাল মার্কেটিং কি?
ট্রেডিশনাল মার্কেটিং এর থিওরিকে কাজে লাগিয়ে যখন আপনি অনলাইন ভিত্তিক মার্কেটিং করবেন তখন তাকে বলা হবে ডিজিটাল মার্কেটিং। যেমন, আমরা ফেসবুক ব্যবহার করার সময় নিউজফিডে বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন দেখতে পাই। আবার যখন গুগলে কোনো কিছু সার্চ করি তখনও বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন দেখতে পাই। তো এই সবকিছুই হলো ডিজিটাল মার্কেটিং এর অন্তর্ভূক্ত। আর এই ডিজিটাল মার্কেটিং এর অনেক গুলো অংশ আছে। যেমন,
- সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং
- সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং
- ইমেইল মার্কেটিং
- অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
- কন্টেন্ট মার্কেটিং
ফোর পি এর জনক কে? | 4p এর জনক কে?
আমাদের মধ্যে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা আসলে জানতে চান যে, 4p এর জনক কে। তো তাদের জন্য বলবো 4p এর জনক হলেন Professor E. J. McCarthy. তবে ফোর পি এর জনক কে তা জানলেই হবেনা। বরং এই 4p মানে কি তা জেনে নেওয়াটাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
তো এই 4p হলো মার্কেটিং জগতের অনেক প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। যার মধ্যে মোট ০৪ টি বিষয় অন্তর্ভূক্ত আছে। আর সেগুলো হলো,
- Product,
- Price,
- Place,
- Promotion
আপনি যখন কোনো একটি ব্যবসার শুরু করবেন তখন আপনার নিকট অবশ্যই নির্দিষ্ট প্রোডাক্ট থাকতে হবে। কিন্তুু যদি আপনার কাছে কোনো ধরনের প্রোডাক্ট না থাকে তাহলে আপনি আপনার ব্যবসা শুরু করতে পারবেন না। এছাড়াও আপনার ব্যবসার সেই প্রোডাক্ট গুলো আসলে কত টাকায় সেল করবেন সেটাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
আর ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে আপনার ব্যবসার পণ্য গুলো কোথায় সেল করলে সবচেয়ে বেশি বেনিফিট পাওয়া যাবে সেটিও আপনাকে ভাবতে হবে। কেননা, আপনি সব ধরনের পণ্য সব স্থানে সমানভাবে সেল করতে পারবেন না। আর আপনার ব্যবসার দ্রুত প্রসার ও পণ্য সেল করার অন্যতম হাতিয়ার হলো প্রোমোশন। যার মাধ্যমে আপনি আপনার টার্গেট করা কাস্টমারের নিকট পণ্য সেল করতে পারবেন।
মার্কেটিং ও সেলস এর পার্থক্য
অনেক মানুষ আছেন যারা মার্কেটিং ও সেলকে একই কাতারে ফেলে দেন। আসলে শব্দগত ভাবে যদিও এক রকম মনে হয় কিন্তুু কার্যত ক্ষেত্রে এই দুটোই ভিন্ন বিষয়। তাই আপনারা অনেকেই মার্কেটিং ও সেলস এর পার্থক্য জানতে চান। মূলত তাদের জন্য এই পার্থক্য তুলে ধরা হলো। যাতে করে আপনি এই দুটো বিষয় সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতে পারেন।
| মার্কেটিং | সেলস |
| ক্রেতার নিকট কোনো পণ্যের বিজ্ঞাপন দেওয়াকে মার্কেটিং বলে। | নির্দিষ্ট একটি পণ্য ক্রেতার হাতে পৌঁছে দেওয়াকে সেলস বলে। |
| মার্কেটিং এর সাথে ব্যবসার পরিচিতি, পণ্যের গুনাগুন ইত্যাদি বিষয় যুক্ত থাকে। | সেলস এর মধ্যে পণ্য সেল করার পর মুনাফা বা লাভের অংশ যুক্ত থাকে। |
| প্রচারের ক্ষেত্রে বিভিন্ন কাজের সমন্বয়কে মার্কেটিং বলা হয়। | অপরদিকে মার্কেটিং এর ফলাফলকে বলা হবে সেলস। |
| পণ্য উৎপাদন করার আগেই মার্কেটিং করা সম্ভব। | পণ্য উৎপাদন ছাড়া সেলস অসম্ভব। |
| মার্কেটিং বৃহৎ পরিধী নিয়ে গঠিত। | সেলস এর পরিধী সর্বদা সীমিত। |
| গ্রাহকদের উপর ভিত্তি করে মার্কেটিং করা হয়। | পণ্যের উপর ভিত্তি করে সেলস করা হয়। |
| ক্রেতাদের আগ্রহ সৃষ্টি ও তাদের ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়। | সেলস এর মাধ্যমে ক্রেতাদের সাথে লেনদেন করা হয়। |
| মার্কেটিং দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া | সেলস স্বল্পমেয়াদী প্রক্রিয়া |
বাংলাদেশের মার্কেটিং এর জনক কে?
উপরের আলোচনায় আমরা জানতে পারলাম যে, মার্কেটিং এর জনক কে। তো এবার যদি আপনাকে প্রশ্ন করা হয়, বাংলাদেশের মার্কেটিং এর জনক কে তাহলে আপনি সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন? -যদি না পারেন তাহলে শুনুন.. আমাদের বাংলাদেশের মার্কেটিং এর জনক হলেন, মো. ইমদাদুল হক। তিনি ১৯৫৮ সালে কুমিল্লায় জন্মগ্রহন করেন।
মার্কেটিং এর মূলনীতি কয়টি?
আপনারা অনেকেই জানতে চান যে, মার্কেটিং এর মূলনীতি কয়টি। তো মার্কেটিং এর মূলনীতি কয়টি তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। তবে মার্কেটিং এর প্রধান মূলনীতি গুলো হলো, প্রয়োজন, অভাব ও চাহিদা, বাজারজাতকরণ অর্পণ, মূল্য ও সন্তুষ্টি, বিনিময়, লেনদেন এবং সম্পর্ক, বাজারসমূহ। মূলত এইসব কিছু মিলে মার্কেটিং এর মূলনীতি গঠিত।
আপনার জন্য আমাদের কিছুকথা
পাঠক, আজকের আলোচিত বিষয় হলো, মার্কেটিং কি ও মার্কেটিং এর জনক কে। আশা করি এই লেখাটি থেকে আপনি মার্কেটিং সম্পর্কিত অনেক অজানা বিষয় জানতে পেরেছেন। আর যদি আপনি এমন ধরনের অজানা বিষয় গুলো সহজ ভাষায় জানতে চান, তাহলে আমাদের সাথে থাকবেন। ধন্যবাদ, ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।



