টেকনিক্যাল এসইও কি ? 2024 সালে টেকনিক্যাল এসইও এর গাইডলাইন।

টেকনিক্যাল এসইও

Table of Contents

এসইও কি তা আমরা ভালো করেই জানি। আর অধিকাংশ সময় আমরা অন পেজ এসইও এবং অফ পেজ এসইও এর দিকে মনোযোগ দেই। কিন্তুু এর মাঝখানে যে টেকনিক্যাল এসইও নামের একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে, তা আমরা ভুলে যাই। 

অপরদিকে গুগল তখনি একটি ওয়েবসাইটকে র‌্যাংক করে, যেসব সাইটের অন/অফ এর পাশাপাশি টেকনিক্যাল এসইও সঠিকভাবে করা আছে। যা clickslice এর একটি ব্লগে ষ্পষ্ট করে বলা আছে। তাই আজকের আর্টিকেলে আমি টেকনিক্যাল এসইও এর বিস্তারিত গাইডলাইন শেয়ার করবো। 

টেকনিক্যাল এসইও
টেকনিক্যাল এসইও

Technical SEO কাকে বলে?

টেকনিক্যাল এসইও হলো আপনার ওয়েবসাইটের পিছনের দিকে কাজ করার প্রক্রিয়া। যা দর্শকরা সরাসরি দেখতে পান না। এটি আপনার ওয়েবসাইটের কাঠামো, কোড এবং অন্যান্য কারিগরি উপাদান গুলো কে সুচারুভাবে পরিচালনা করে। যাতে করে সার্চ ইঞ্জিন গুলো (যেমন গুগল, বিন ইত্যাদি) আপনার ওয়েবসাইটের কনটেন্ট কে সহজে বুঝতে পারে এবং সার্চ রেজাল্টে উপরে দেখাতে পারে। যাকে আমরা সহজ ভাষায় র‌্যাংকিং (Ranking) বলে থাকি। 

টেকনিক্যাল এসইও এর কাজ কি?

এসইও এর সব ফ্যাক্টর গুলো ভিন্ন ভিন্ন ভাবে কাজ করে। তবে সব কাজের একটাই উদ্দেশ্য হলো, ওয়েব সাইটকে সার্চ ইঞ্জিনের র‌্যাংকিংয়ে নিয়ে আসা। তাই যখন আপনি আপনার ওয়েবসাইট এর টেকনিক্যাল এসইও করবেন তখন এর কাজ গুলো সম্পর্কে আপনারও অবগত থাকা উচিত। আর একটি ওয়েবসাইট র‌্যাংক করানোর জন্য কিভাবে টেকনিক্যাল এসইও কাজ করে তা নিচে তুলে ধরা হলো। 

ওয়েবসাইটের কাঠামো সহজ করা

আচ্ছা একটু ভাবুন তো, আপনার বাড়িটি হলো একটি ওয়েবসাইট। এখন যদি বাড়ির ঘর গুলোর অবস্থান সঠিকভাবে না থাকে, তাহলে কেউ সহজে আপনার বাড়ির ভেতরের ঘরগুলো খুঁজে পাবে না। 

ঠিক একইভাবে, যদি আপনার ওয়েবসাইটের কাঠামো সঠিকভাবে না থাকে, তাহলে সার্চ ইঞ্জিনের ক্রলাররা সহজে আপনার ওয়েবসাইটের সব পৃষ্ঠাগুলো খুঁজে পাবে না। আর টেকনিক্যাল এসইও আপনার ওয়েবসাইটের কাঠামোকে সহজ করে তুলবে, যাতে সার্চ ইঞ্জিনের ক্রলাররা সহজে আপনার ওয়েবসাইটের সব পেজ গুলো খুঁজে নিতে পারে।

কনটেন্টকে বোধগম্য করে তোলা 

টেকনিক্যাল এসইও আপনার কনটেন্টকে সার্চ ইঞ্জিনের জন্য আরও বোধগম্য করে তুলবে। এটি সার্চ ইঞ্জিনকে বুঝতে সাহায্য করে যে, আপনার ওয়েবসাইটে কোন বিষয়ে কনটেন্ট আছে। যেমন, আপনি যদি একটি রেস্টুরেন্টের ওয়েবসাইট তৈরি করেন, তাহলে টেকনিক্যাল এসইও সার্চ ইঞ্জিনকে বুঝতে সাহায্য করবে যে, আপনার ওয়েবসাইটে খাবার, মেনু এবং রেস্টুরেন্টের লোকেশন সম্পর্কে তথ্য রয়েছে।

ওয়েবসাইটের গতি বাড়ায় 

যদি আপনার ওয়েবসাইট খুব ধীরে লোড হয়, তাহলে ব্যবহারকারীরা অপেক্ষা করতে চাইবে না। তারা অন্য কোন ওয়েবসাইটে চলে যাবে। কিন্তুু টেকনিক্যাল এসইও আপনার ওয়েবসাইটের গতি বাড়াতে সাহায্য করবে। যা ব্যবহারকারীদের জন্য সবচেয়ে ভালো অভিজ্ঞতা প্রদান করবে। সেইসাথে সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাঙ্কিংয়েও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

উদাহরন, ধরুন আপনি একটি দোকানে গিয়েছেন এবং দোকানের লোক গুলো খুব ধীরে ধীরে কাজ করছে। এখন আপনি কি সেই দোকানে কেনাকাটা করার জন্য বসে থাকবেন? – নিশ্চয়ই না। একইভাবে, যদি আপনার ওয়েবসাইট খুব ধীরে লোড হয়, তাহলে ব্যবহারকারীরা আপনার ওয়েবসাইট থেকে চলে যাবে। 

টেকনিক্যাল এসইও কি কঠিন?

যদি আপনি কোডিং এবং ওয়েব ডেভেলপমেন্ট সম্পর্কে জানেন, তাহলে টেকনিক্যাল এসইও আপনার জন্য তুলনামূলক ভাবে সহজ মনে হবে। কারন, আপনি সহজেই XML সাইটম্যাপ তৈরি করতে পারবেন, রোবটস.টেক্সট (Robots.txt) ফাইল সেটআপ করতে পারবেন এবং ওয়েবসাইটের গতি বাড়াতে পারবেন।

তবে যদি আপনার প্রযুক্তিগত জ্ঞান কম হয়, তাহলে টেকনিক্যাল এসইও আপনার জন্য কিছুটা জটিল মনে হতে পারে। তবে, অনেক ওয়েবসাইট বিল্ডার এবং CMS প্ল্যাটফর্ম এখন টেকনিক্যাল এসইও-র জন্য বিভিন্ন টুলস এবং প্লাগিন ব্যবহারের সুবিধা দিচ্ছে। যা আপনার টেকনিক্যাল এসইও এর কাজ সহজ করে তুলবে।

টেকনিক্যাল অপটিমাইজেশন কি?

আপনি যখন টেকনিক্যাল এসইও এর কাজ করবেন তখন টেকনিক্যাল অপটিমাইজেশন নামটি শুনে থাকবেন। তো এই দুটোর ক্ষেত্রে নামের অমিল থাকলেও কাজ একই। মূলত টেকনিক্যাল এসইওকে বলা হয়, টেকনিক্যাল অপটিমাইজেশন। আর আমরা সবাই জানি, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর কাজকে বলা হয়, এসইও। 

টেকনিক্যাল এসইও অডিট কি?

কখনো কি ভেবেছেন, আপনার ওয়েবসাইট সার্চ ইঞ্জিনে কেন আশানুরুপ ফলাফল দিচ্ছে না? সমস্যাটি হতে পারে আপনার ওয়েবসাইটের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কিছু কারিগরি গোলযোগ। এই গোলযোগ গুলো সার্চ ইঞ্জিনের জন্য এক ধরনের বাধা, যার ফলে আপনার ওয়েবসাইট সার্চ রেজাল্টে নিচের দিকে চলে যায়।

আর এমন পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে টেকনিক্যাল এসইও অডিট। এটি মূলত আপনার ওয়েবসাইটের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার মতো প্রক্রিয়া। এই পরীক্ষায় আপনার ওয়েবসাইটের সব কারিগরি দিক গুলোকে বিশেষভাবে যাচাই করা হবে। 

যেমন, আপনার ওয়েবসাইটের কোড গুলো ঠিক আছে কিনা, মোবাইল ফোনে কেমন দেখা যায়, সার্চ ইঞ্জিন বোট গুলো আপনার ওয়েবসাইট সহজে ক্রল করতে পারছে কিনা ইত্যাদি বিষয় গুলো যাচাই করার প্রক্রিয়াকে বলা হয়, টেকনিক্যাল এসইও অডিট।

টেকনিক্যাল এসইও করার নিয়ম

গুগলের প্রথম পেজের প্রথম তিনটি ফলাফলেই প্রায় ৭৫% ব্যবহারকারী ক্লিক করে।  আর এই প্রথম পেজে উঠে আসার জন্যই টেকনিক্যাল এসইও এত গুরুত্বপূর্ণ। 

অপরদিকে ওয়েবসাইট গুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা অত্যন্ত তীব্র। তাই যদি আপনি আপনার ওয়েবসাইট কে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলে ধরতে চান, তাহলে টেকনিক্যাল এসইও আপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে। সেজন্য এবার আমরা আলোচনা করবো, কিভাবে টেকনিক্যাল এসইও আপনাকে সার্চ ইঞ্জিন র‌্যাংকিং প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে সাহায্য করবে।

১) ওয়েবসাইটের গতি 

বড় সাইজের ছবি ওয়েবসাইটকে ভারী করে তোলে। ছবির সাইজ (kb/mb) ছোট করে আপনি ওয়েবসাইটের লোডিং সময় অনেক কমাতে পারবেন। আবার এমন অনেক প্লাগিন আছে যা আপনার ওয়েবসাইটের গতি কমিয়ে দেয়। তাই শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় প্লাগিন গুলো ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন।

আর ক্যাশিং (Caching) হলো ওয়েবসাইটের বিভিন্ন ফাইল গুলোকে ব্রাউজারে সংরক্ষণ করে রাখার একটি পদ্ধতি। এতে ওয়েবসাইট আবার লোড হওয়ার সময় এই ফাইল গুলো সার্ভার থেকে আবার ডাউনলোড করতে হয় না, ফলে ওয়েবসাইট দ্রুত লোড হয়।

কিন্তুু অতিরিক্ত কোড ওয়েবসাইটের গতি কমিয়ে দেয়। তাই কোডকে যতটা সম্ভব সহজ এবং কার্যকরী করার চেষ্টা করবেন। সর্বোপরি একটি ভালো হোস্টিং আপনার ওয়েবসাইটের গতি বাড়াতে সাহায্য করবে। তাই আপনি যখন ওয়েবসাইট লোডিং টাইম কমাতে চাইবেন, তখন আপনাকে অবশ্যই উক্ত কাজ গুলো করতে হবে।

২) ওয়েবসাইট মোবাইল ফ্রেন্ডলি করা

বর্তমান সময়ে আমরা স্মার্টফোন হাতে নিয়েই সব কিছু করি। খবর পড়া থেকে শুরু করে কেনাকাটা, সব মোবাইলের মাধ্যমে হয়। এই পরিস্থিতিতে, একটি ওয়েবসাইটের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো মোবাইল-ফ্রেন্ডলি হওয়া। কারণ, গুগলসহ সকল সার্চ ইঞ্জিন মোবাইল-ফ্রেন্ডলি ওয়েবসাইটকে বেশি প্রাধান্য দেয়।

সেজন্য আপনার ওয়েবসাইট সকল ধরনের ডিভাইসে (স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, ল্যাপটপ) স্বয়ংক্রিয় ভাবে আকার পরিবর্তন করে মানিয়ে নেবে এমন একটি ডিজাইন তৈরি করবেন। এতে করে, যে কোনো ডিভাইসে ওয়েবসাইট ভিজিট করার সময় ব্যবহারকারীকে স্ক্রোল করতে হবে না বা জুম ইন/আউট করতে হবে না।

PRO TIPS: আর ছোট ডিভাইসে পড়া সহজ করার জন্য টেক্সটের আকার যথেষ্ট বড় রাখুন। ভিজিটরদের ছোট ডিভাইসে তারা যাতে সহজে ক্লিক করতে পারে, তার জন্য বাটন, লিঙ্ক ইত্যাদির আকার যথেষ্ট বড় রাখবেন।

৩) XML সাইটম্যাপ তৈরি

গুগল সার্চ ইঞ্জিন ক্রমাগত ওয়েবসাইট গুলো ইনডেক্স করে। আর XML সাইটম্যাপ এই কাজকে অনেক সহজ করে দেয়। এটি সার্চ ইঞ্জিনকে বলতে সাহায্য করে কোন পৃষ্ঠাগুলো ইনডেক্স করতে হবে এবং সে গুলো কোথায় পাওয়া যাবে। 

আর আপনি যদি নতুন কোন পেজ যোগ করেন, তাহলে XML সাইটম্যাপ আপডেট করে সার্চ ইঞ্জিনকে তা জানিয়ে দেয়। ফলে, নতুন পেজ গুলো দ্রুত সার্চ রেজাল্টে দেখা যায়। আর আপনি নিজে XML সাইটম্যাপ তৈরি করতে পারবেন।

আবার এমন অনেক ওয়েবসাইট বিল্ডার এবং CMS (Content Management System) আছে, যার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয়ে যায়। তাই এই কাজটি আপনার তেমন কঠিন মনে হবেনা। 

৪) Robots.txt ফাইল সেটআপ

মূলত এটি একটি টেক্সট ফাইল, যা আপনার ওয়েবসাইটের রুট ডিরেক্টরিতে অবস্থান করে থাকে। এই ফাইলে আপনি সার্চ ইঞ্জিনের ক্রলার গুলোকে নির্দেশ দিতে পারেন যে, আপনার ওয়েবসাইটের কোন পেজ গুলো তারা ক্রল করতে পারবে এবং কোন গুলো নয়। এই ফাইলটি আপনার ওয়েবসাইটের কন্টেন্টকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করবে।

টেকনিক্যাল এসইও
টেকনিক্যাল এসইও

ক্রলিং নির্দেশনা কীভাবে দেওয়া হয়?

রোবটস.টেক্সট ফাইলে ক্রলিং নির্দেশনা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের ডিরেক্টিভ ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ কিছু ডিরেক্টিভ হলো-

  1. User-agent: এই ডিরেক্টিভের মাধ্যমে আপনি নির্দিষ্ট একটি সার্চ ইঞ্জিনকে টার্গেট করতে পারবেন।
  2. Disallow: এই ডিরেক্টিভের মাধ্যমে আপনি কোনো নির্দিষ্ট পেজ বা ডিরেক্টরিকে ক্রলিং থেকে ব্লক করতে পারবেন।
  3. Allow: এই ডিরেক্টিভের মাধ্যমে আপনি কোনো নির্দিষ্ট পেজ বা ডিরেক্টরিকে ক্রলিং করার অনুমতি দিতে পারবেন।
  4. Sitemap: এই ডিরেক্টিভের মাধ্যমে আপনি আপনার ওয়েবসাইটের সাইটম্যাপের ঠিকানা সার্চ ইঞ্জিনকে জানাতে পারবেন।

৫) ক্যানোনিকাল ট্যাগ ব্যবহার

ক্যানোনিকাল ট্যাগ হল একটি HTML এলিমেন্ট যা কোনো ওয়েব পেজের জন্য মূল সোর্স পেজকে নির্দেশ করে। যদি কোনো ওয়েবসাইটে একাধিক পেজ একই বা খুবই সেম কনটেন্ট থাকে, তাহলে ক্যানোনিকাল ট্যাগ সার্চ ইঞ্জিনকে জানায় যে কোন পেজটিই আসল এবং কোনটি কপি।

মনে রাখবেন, আপনার ওয়েবসাইটের একই ধরনের কনটেন্ট সার্চ ইঞ্জিনকে বিভ্রান্ত করবে। যেমন, একই পণ্য বা সেবার জন্য আপনার ওয়েবসাইটে একাধিক পেজ থাকতে পারে, বা আপনার মোবাইল এবং ডেস্কটপ ভার্সনে একই কনটেন্ট থাকতে পারে। এই ধরনের ডুপ্লিকেট কনটেন্ট আপনার ওয়েবসাইটের সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাঙ্কিংকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করবে।

আর এই ধরনের সমস্যা সমাধানে ক্যানোনিকাল ট্যাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই ট্যাগ সার্চ ইঞ্জিনকে জানায় যে কোন পেজটি মূল এবং কোনটি ডুপ্লিকেট। এভাবে, সার্চ ইঞ্জিন আপনার ওয়েবসাইটের ক্রল করার সময় একই কনটেন্টের একাধিক পেজকে ইনডেক্স করার পরিবর্তে মূল পেজটিকে ইনডেক্স করবে।

৬) হেডার ট্যাগ এবং আল্ট টেক্সট

গুগল আপনার ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট বোঝার জন্য এই দুটো বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ। টেকনিক্যাল এসইও- এর এই দুটি উপাদান আপনার ওয়েবসাইটের র‌্যাঙ্ক বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

হেডার ট্যাগ

মনে করুন, আপনার ওয়েবসাইট একটি বই। আর হেডার ট্যাগ হল সেই বইয়ের শিরোনাম আর উপ-শিরোনাম। যা গুগলকে আপনার ওয়েবসাইটের পেজের বিষয়বস্তু সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা প্রদান করে। আর H1 ট্যাগ হল প্রধান শিরোনাম, যা পেজের মূল বিষয়কে প্রকাশ করে। অপরদিকে H2, H3 ইত্যাদি ট্যাগ উপশিরোনাম হিসেবে কাজ করে এবং মূল বিষয়টিকে আরও বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করে।

  • H1 ট্যাগ: এই ট্যাগটি একটি পেজের মূল শিরোনাম। যা গুগলকে বলে দেয় যে, এই পৃষ্ঠায় কী সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। 

উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনার একটি পেজ ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে হয়, তাহলে আপনার H1 ট্যাগ হতে পারে “ডিজিটাল মার্কেটিং- আপনার ব্যবসায়কে উন্নত করার সহজ উপায়”।

  • H2, H3, H4, H5 ট্যাগ: এই ট্যাগগুলো H1 ট্যাগকে আরও বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করে। উদাহরণস্বরূপ, H2 ট্যাগ হতে পারে “সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং” এবং H3 ট্যাগ হতে পারে “ফেসবুক বিজ্ঞাপন” ইত্যাদি।

আল্ট টেক্সট

আপনি যখন কোনো ছবি ইন্টারনেটে আপলোড করেন, তখন সার্চ ইঞ্জিন ছবির মধ্যে থাকা টেক্সট পড়তে পারে না। আর আল্ট টেক্সট (Alt text) – হল ছবির একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা, যা সার্চ ইঞ্জিনকে ছবির বিষয়বস্তু বুঝতে সাহায্য করে।

৭) স্ট্রাকচার্ড ডেটা

বর্তমানে গুগল সার্চ করে কোনো পণ্য বা সেবার বিষয়ে তথ্য খোজার সময় সার্চ রেজাল্টে সেই পণ্যের ছবি, রেটিং, দাম বা অন্য তথ্য প্রদান করে। এই ধরনের সমৃদ্ধ সার্চ রেজাল্টকে বলা হয় স্ট্রাকচার্ড ডেটা। এই স্ট্রাকচার্ড ডেটা হলো আপনার ওয়েবসাইটের কনটেন্টকে সার্চ ইঞ্জিনের কাছে আরও সুস্পষ্টভাবে বোঝানোর একটি উপায়। যাতে তারা আপনার ওয়েবসাইটের বিষয়বস্তুকে আরও ভালোভাবে বুঝতে পারে এবং সার্চ রেজাল্টে আপনার ওয়েবসাইটকে আরও ভালোভাবে প্রদর্শন করতে পারে।

৮) ওয়েবসাইটের সিকিউরিটি

আপনার ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা কেবল আপনার ব্যবহারকারীদের তথ্যই রক্ষা করে না, বরং এটি আপনার সার্চ ইঞ্জিন র‌্যাঙ্কিংয়ের ক্ষেত্রেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সময়ে যেখানে সাইবার হামলার ঘটনা প্রায় দৈনন্দিন শোনো যায়, সেখানে আপনার ওয়েবসাইটের সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

HTTPS সিকিউরিটি

আপনি হয়তো অনেকবার ওয়েবসাইটের ঠিকানার শুরুতে “http://” বা “https://” লেখা দেখেছেন। এই দুটির মধ্যে মাত্র একটি অতিরিক্ত “s” থাকলেও, এর গুরুত্ব অপরিসীম। এই “s” অক্ষরটিই নির্দেশ করে যে, আপনার ওয়েবসাইট একটি SSL সার্টিফিকেট দ্বারা সুরক্ষিত।

SSL সার্টিফিকেট কী?

এটি মূলত একটি ডিজিটাল সার্টিফিকেট যা আপনার ওয়েবসাইটের পরিচয় নিশ্চিত করে এবং আপনার ওয়েবসাইট ও ব্যবহারকারীর ডিভাইসের মধ্যে যোগাযোগকে এনক্রিপ্ট করে। এনক্রিপশন বলতে বোঝায়, আপনার ওয়েবসাইটে পাঠানো বা গৃহীত তথ্যকে একটি কোডে রূপান্তর করা, যা অন্য কারো পক্ষে বোঝা অসম্ভব।

৯) ব্রোকেন লিংক রিমুভ

আপনার ওয়েবসাইটের একটি ছোট্ট ভুল, যেমন একটি ব্রোকেন  লিঙ্ক, আপনার ওয়েবসাইটের সামগ্রিক পারফরম্যান্স কে ক্ষতিগ্রস্ত করে দেয়। হ্যাঁ, একটি ব্রোকেন লিঙ্ক আপনার ব্যবহারকারীদেরকে বিরক্ত করে এবং সার্চ ইঞ্জিনকেও বিভ্রান্ত করে। 

যখন একটি ব্যবহারকারী একটি ব্রোকেন লিঙ্কে ক্লিক করে, তখন তাকে একটি “404 পেজ নট ফাউন্ড” এর মুখোমুখি হতে হয়। যা ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকে খারাপ করে এবং তাদেরকে আপনার ওয়েবসাইট থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।

এর পাশাপাশি সার্চ ইঞ্জিন ব্রোকেন লিঙ্ক গুলোকে একটি নেতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচনা করে। এটি সিগন্যাল করে যে আপনার ওয়েবসাইটটি ভালভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না এবং এতে ভুল তথ্য রয়েছে। যার ফলে আপনার ওয়েবসাইটের সার্চ ইঞ্জিন র‌্যাঙ্কিং কমে যেতে পারে।

এছাড়াও সার্চ ইঞ্জিনের ক্রলার গুলো আপনার ওয়েবসাইটের সকল পেজ স্ক্যান করে। ব্রোকেন লিঙ্ক ক্রলার গুলোকেও বিভ্রান্ত করে। যার কারণে তারা আপনার ওয়েবসাইটের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পেজ গুলো সঠিকভাবে ইনডেক্স করতে পারে না।

১০) ওয়েবসাইট নেভিগেশন

একটি উপযুক্ত ওয়েবসাইটের জন্য সহজ নেভিগেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সহজ নেভিগেশন ব্যবহারকারীকে আপনার ওয়েবসাইটে আরো বেশি সময় ধরে রাখতে এবং আপনার কন্টেন্ট উপভোগ করতে উৎসাহিত করবে।

ওয়েবসাইটের সহজ নেভিগেশন সিস্টেম ব্যবহারকারীদেরকে তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত খুঁজে পেতে সাহায্য করে। ফলে, তারা আপনার ওয়েবসাইটে আরো বেশি সময় কাটাবে এবং আপনার পণ্য বা সেবা সম্পর্কে আরো ভালোভাবে জানতে পারবে।

কিন্তুু যখন ব্যবহারকারীরা তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পায় না, তখন তারা সাধারণত আপনার ওয়েবসাইট থেকে চলে যায়। একেই বাউন্স রেট বলা হয়। তবে সহজ নেভিগেশন সিস্টেম বাউন্স রেট কমাতে সাহায্য করে।

উপসংহার

টেকনিক্যাল এসইও আপনার ওয়েবসাইট র‌্যাংকিং এর জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি আপনার ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনের নজরে আনতে এবং বেশি পরিমাণে ট্রাফিক আনতে সাহায্য করবে। তাই, যদি আপনি চান যে আপনার ওয়েবসাইটে আশানুরুপ ভিজিটর আসবে, তাহলে আপনাকে অবশ্যই টেকনিক্যাল এসইও-এর দিকে নজর দিতে হবে। ধন্যবাদ, ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।

Table of Contents

লেখক সম্পর্কে

Picture of Shaddam Hossain Sufol

Shaddam Hossain Sufol

Head of Inbound Team at Intellec IT LLC || SEO Director || Web Analyst

With over six years of experience in digital marketing and web development.

নতুন পোস্ট

Related Posts