আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন, যখন আপনি গুগলে কিছু সার্চ করেন, তখন কীভাবে ঝট করেই অসংখ্য ওয়েবসাইটের মধ্যে থেকে সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক ফলাফল গুলো আপনার সামনে এসে পড়ে? -মূলত এর পেছনে আছে এক অত্যাশ্চর্য প্রযুক্তি, যার নাম গুগল অ্যালগরিদম।
এই অ্যালগরিদম হলো জটিল নিয়ম ও নির্দেশিকার এক সমাহার, যা গুগল সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করে ওয়েবসাইট গুলো কে মূল্যায়ন করা হয়। এর পাশাপাশি সার্চ রেজাল্টে সেগুলোর র্যাঙ্ক নির্ধারণ করা হয়। যার ফলে এটি নিশ্চিত করা সম্ভব হয় যে, ব্যবহারকারীরা যখন তথ্য অনুসন্ধান করবে, তখন তারা যেন সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য গুলো সবার আগে দেখতে পান।
তো আজকের এই আর্টিকেলে আমি আপনাকে গুগল অ্যালগরিদম এর যাবতীয় বিষয় গুলো সহজভাবে বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করবো। তাই আপনারা যারা গুগল অ্যালগরিদম কি ও গুগল অ্যালগরিদম এর কাজ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান, তারা অবশ্যই আজকের পুরো লেখাটি মন দিয়ে পড়ার চেষ্টা করবেন।
গুগল অ্যালগরিদম কি?
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, অ্যালগরিদম হলো নিয়মের এক জটিল জাল যা বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইট গুলোকে বিশ্লেষণ করে এবং সার্চ রেজাল্ট কে সাজিয়ে নেয়। যখন আপনি গুগলে কোন কিছু লিখে অনুসন্ধান করেন, তখন অ্যালগরিদম আলোর গতিতে কাজ করে। কারণ, তখন এই অ্যালগরিদম লক্ষ লক্ষ ওয়েবসাইট পরীক্ষা করে এবং সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক ও উপযোগী ফলাফল গুলো আপনার সামনে হাজির করে।
কিভাবে গুগল অ্যালগরিদম কাজ করে?
উপরের আলোচনা থেকে আমরা অ্যালগরিদম কি সে সম্পর্কে জানলাম। তো ধারাবাহিক ভাবে এবার আমাদের জানতে হবে, গুগল অ্যালগরিদম কিভাবে কাজ করে। কারণ, এই অ্যালগরিদম মূলত বিভিন্ন নিয়ম মেনে কাজ করে, যেগুলো নিচে ধাপে ধাপে দেখিয়ে দেওয়া হলো। যেমন,
১.ওয়েবসাইট বিশ্লেষণ
বর্তমানের ইন্টারনেটের যুগে, আমরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ওয়েবসাইটের উপর নির্ভরশীল। কোনো তথ্য জানা, কেনাকাটার করা কিংবা বিনোদন – সবকিছুর জন্য আমরা ওয়েবসাইট ব্যবহার করি। কিন্তু আপনি কি ভেবে দেখেছেন, কীভাবে কিছু ওয়েবসাইট সার্চ রেজাল্টের শীর্ষে এসে যায়, আবার কিছু ওয়েবসাইট সার্চ রেজাল্ট থেকে হারিয়ে যায়? – মূলত এর পেছনে আছে জটিল প্রক্রিয়া, যা নিয়ন্ত্রণ করে ওয়েবসাইট র্যাঙ্কিং অ্যালগরিদম।
এই অ্যালগরিদম প্রতিটি ওয়েবসাইটকে পরীক্ষা করে এবং তাদের একটি স্কোর দেয়। সেক্ষেত্রে যার স্কোর যত বেশি হয়, সেই ওয়েবসাইট সার্চ রেজাল্টের উপরে আসার সম্ভাবনা তত বেশি হয়। কিন্তু এই স্কোর কীভাবে নির্ধারণ করা হয় তা নিচে শেয়ার করা হলো।
(I)-ওয়েবসাইট কন্টেন্ট
প্রথমে, অ্যালগরিদম ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট পরীক্ষা করে। একটি কন্টেন্ট কী বিষয় নিয়ে লেখা হয়েছে, তা কতটা সঠিক এবং প্রাসঙ্গিক – এই সবকিছুই বিশ্লেষণ করে। ভুল তথ্য, ভ্রান্ত ধারণা বা অপ্রাসঙ্গিক বিষয়বস্তু থাকলে অ্যালগরিদম সতর্ক করে। কারণ, ব্যবহারকারীরা যা খুঁজছেন, তা যদি ওয়েবসাইটে না থাকে, তাহলে তাদের হতাশ হতে হবে।
(II)-ওয়েবসাইটের গঠন
অ্যালগরিদম কেবল কন্টেন্ট নয়, বরং ওয়েবসাইটের গঠনও বিশ্লেষণ করে। একটি ওয়েবসাইট কতটা সহজে ব্যবহার করা যায়, কতটা সহজে তথ্য খুঁজে পাওয়া – এই সবকিছুই পরীক্ষা করে। কঠিন ডিজাইন, অস্পষ্ট মেনুবার বা অপ্রয়োজনীয় বিজ্ঞাপন থাকলে অ্যালগরিদম উক্ত ওয়েবসাইটকে নেতিবাচক ভাবে মূল্যায়ন করে। কারণ, ব্যবহারকারী যদি সহজে তথ্য খুঁজে না পায়, তাহলে তারা দ্রুতই ওয়েবসাইট ছেড়ে চলে যাবে।
(III)-ওয়েবসাইটের মান
অ্যালগরিদমের কাছে একটি ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট ও গঠনের পাশাপাশি সেই ওয়েবসাইটের মান বিশ্লেষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। লেখার মান, ব্যাকরণগত ভুল এবং স্পষ্টতার মত বিষয় গুলো যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে পরীক্ষা করা হয়। ভুল বানান, অস্পষ্ট লেখা বা অসম্পূর্ণ তথ্য থাকলে অ্যালগরিদম সতর্ক করে। কারণ, নিম্নমানের কন্টেন্ট ব্যবহারকারীদের বিশ্বাস হারিয়ে ফেলবে।
২.প্রাসঙ্গিকতা যাচাই
অ্যালগরিদম প্রথমে আপনার অনুসন্ধানের শব্দ গুলো বিশ্লেষণ করবে। অ্যালগরিদম সবার প্রথমে বোঝার চেষ্টা করে যে, আপনি আসলে কোন বিষয়ে আগ্রহী আর আপনি কোন ধরণের তথ্য খুঁজছেন। তাই শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু শব্দই নয়, বরং অ্যালগরিদম আপনার বাক্যের গঠন, ব্যাকরণ এবং এমনকি আপনার অনুসন্ধানের ইতিহাস পর্যন্ত বিবেচনা করে।
এরপর, অ্যালগরিদম বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ ওয়েবসাইট স্ক্যান করে, প্রতিটা কন্টেন্ট বিশ্লেষণ করে। তারপর এটি নির্ধারণ করে যে, কোন ওয়েবসাইট আপনার অনুসন্ধানের সাথে সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক, আর কোন তথ্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য।
উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি “রেস্তোরাঁ ঢাকা” লিখে সার্চ করেন, তাহলে “ঢাকা” শব্দটি “রেস্তোরাঁ” এর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হবে কারণ এটি আপনার অবস্থান নির্দেশ করছে। মূলত এভাবেই গুগল অ্যালগরিদম আপনার সার্চ করা বিষয়ের সাথে তথ্যের প্রাসঙ্গিকতা যাচাই করে।
৩.মান নির্ধারণ
একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা মানে কেবল চমৎকার ডোমেইন নাম এবং মনোমুগ্ধকর ডিজাইন নয়, বরং আপনার ওয়েবসাইট টি অবশ্যই আপনার টার্গেট করা অডিয়্যান্সের সাথে প্রাসঙ্গিক হতে হবে, উক্ত ওয়েবসাইটে তথ্যপূর্ণ এবং মূল্যবান কন্টেন্ট সরবরাহ করতে হবে।
তাই যদি আপনি চান যে আপনার ওয়েবসাইট সার্চ ইঞ্জিনে টপ পজিশনে র্যাঙ্ক করুক এবং প্রচুর পরিমাণ ট্র্যাফিক জেনারেট করুক, তাহলে আপনাকে অবশ্যই নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণ করতে হবে। কারণ সার্চ ইঞ্জিন কেবল প্রাসঙ্গিক ওয়েবসাইট গুলোকে দেখায় না। বরং তারা এমন ওয়েবসাইট গুলোকেও দেখায় যা ব্যবহারকারীদের জন্য একটি ইতিবাচক অভিজ্ঞতা প্রদান করবে।
এর মানে হল আপনার ওয়েবসাইট দ্রুত লোড হতে হবে, নেভিগেট করা সহজ হতে হবে এবং মোবাইল ডিভাইসের জন্য উপযোগী হতে হবে। এছাড়াও আপনার ওয়েবসাইট অবশ্যই নিরাপদ হতে হবে, যার অর্থ হলো আপনার ওয়েবসাইটে SSL সার্টিফিকেট থাকা থাকতে হবে এবং ব্যবহারকারীদের হ্যাকিং বা ম্যালওয়্যার থেকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
৪.র্যাঙ্কিং
সহজ কথায় বলতে গেলে, র্যাঙ্কিং হলো এমন একটি পদ্ধতি যা ওয়েবসাইট গুলো কে তাদের গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিকতার ভিত্তিতে সাজিয়ে তোলে। যখন আপনি কোন কিছু অনুসন্ধান করেন, তখন সার্চ ইঞ্জিন (যেমন গুগল) বিভিন্ন অ্যালগরিদম ব্যবহার করে অসংখ্য ওয়েবসাইট কে বিশ্লেষণ করবে। তারপর সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক ও হাই কোয়ালিটি ওয়েবসাইট গুলোকে সবার উপরে প্রদর্শন করবে। যাকে আমরা সার্চ ইঞ্জিন র্যাংকিং বলে থাকি।
গুগল সার্চ ইঞ্জিন ও গুগল অ্যালগরিদম
বর্তমান সময়ে, “গুগল” শব্দটি শুধু একটি কোম্পানির নামের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি পরিণত হয়েছে ইন্টারনেটের সাথে আমাদের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে। আমাদের প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে, নতুন জিনিস শিখতে, এমনকি পণ্য কিনতেও আমরা গুগলের উপর নির্ভর করি। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, ইন্টারনেটের বিশাল সমুদ্রে সঠিক তথ্য খুঁজে বের করার জন্য গুগল কিভাবে কাজ করে?
মূলত এই কাজ গুলো সম্পন্ন করার জন্য মোট ০৩টি ধাপ বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেগুলো হলো, গুগল ক্রলার, ইনডেক্সার এবং র্যাংকিং। আর এবার আমি আপনাকে সেই ০৩ টি অংশের কাজ এবং তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক সম্পর্কে বিস্তারিত বলবো।
১.গুগল ক্রলার
সহজ কথায় বলতে গেলে, গুগল ক্রলার হল সফ্টওয়্যারের এক বিশেষ প্রোগ্রাম যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওয়েব পেজ ব্রাউজ করে এবং তথ্য সংগ্রহ করে। বলা বাহুল্য যে, এই ক্রলার গুলো Google সার্চ ইঞ্জিন এর মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করে। কারণ এগুলো ওয়েবের বিষয়বস্তু সম্পর্কে Google-কে ধারণা দেয় এবং ব্যবহারকারীদের প্রশ্নের সাথে প্রাসঙ্গিক ফলাফল প্রদানে সহায়তা করে।
গুগল ক্রলার ওয়েব পেজ গুলোকে এক এক করে সাবধানে স্ক্যান করে। তারা ওয়েবসাইটের সাইটম্যাপ অনুসরণ করে, অন্যান্য ওয়েব পেজে থাকা লিঙ্ক অনুসরণ করে, এমনকি ব্যবহারকারীদের দ্বারা জমা দেওয়া URL-এর তালিকা থেকেও পেজ গুলোতে প্রবেশ করে।
তারা একবার কোন ওয়েব পেজে পৌঁছে গেলে, গুগল ক্রলার সেই পেজের বিষয়বস্তু পড়ে এবং বিশ্লেষণ করে। শিরোনাম, মেটা ট্যাগ, পেজ কন্টেন্ট, ছবি – সবকিছুই তাদের নজরের আওতায় থাকে। এই তথ্য গুলো বিশ্লেষণ করে Google বুঝতে পারে কোন ওয়েব পেজটি আসলে কিসের উপর নির্ভর করে তৈরি করা হয়েছে এবং সার্চ ইঞ্জিনের রেজাল্টের সূচকে সেটি কোথায় স্থান পাবে।
২.ইনডেক্সার
ইনডেক্সার কেবল একটি শব্দ নয়, এটি এক বিশাল ডেটাবেস। এখানে লক্ষ লক্ষ ওয়েবসাইটের তথ্য সাজিয়ে রাখা হয়। ক্রলার নামক ছোট ছোট রোবট দিনরাত ওয়েব পেজে ঘুরে বেড়ায়, নতুন ওয়েবসাইট খুঁজে বের করে এবং তাদের তথ্য সংগ্রহ করে। এই সংগৃহীত তথ্য ইনডেক্সারে সাবধানে সাজিয়ে রাখা হয়।
কিন্তু ইনডেক্সার কেবল তথ্য সংগ্রহ করে না, এটি সেই তথ্য গুলো কে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে। প্রতিটি ওয়েবসাইটের বিষয়বস্তু, লেখার মান, জনপ্রিয়তা, এমনকি ব্যবহারকারীদের রিভিউ – সবকিছুই বিবেচনায় নেওয়া হয়। এর ফলে, যখন আপনি কোনো কিছু অনুসন্ধান করেন, তখন ইনডেক্সার সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক ও হাই কোয়ালিটির ওয়েবসাইট গুলো খুঁজে বের করে আপনার সামনে তুলে ধরে।
ধরুন, আপনি “বাংলাদেশের ইতিহাস” সম্পর্কে জানতে চান। আপনি যখন অনুসন্ধান করবেন, তখন ইনডেক্সার লক্ষ লক্ষ ওয়েবসাইট স্ক্যান করবে এবং সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও তথ্যপূর্ণ ওয়েবসাইট গুলো আপনার সামনে উপস্থাপন করবে।
০৩.র্যাংকিং
আপনি যখন গুগলে কোন কিছু অনুসন্ধান করেন, তখন মনে হয় যেন মুহূর্তের মধ্যে জ্ঞানের এক বিশাল ভাণ্ডার আপনার সামনে উন্মোচিত হয়ে গেছে। কিন্তু কখনো কি ভেবেছেন, সার্চ রেজাল্টের প্রথম পেজে যেসব ওয়েবসাইট দেখা যায়, সেগুলো কেন সেখানে এসেছে?
আসলে, এই কাজটি করার জন্য গুগল কোন জাদুর মন্ত্র ব্যবহার করে না, বরং জটিল অ্যালগরিদম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে ওয়েবসাইট গুলো কে বিশ্লেষণ করে এবং তাদের গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিকতার ভিত্তিতে সাজিয়ে দেয়। আর এই পদ্ধতিটিকেই আমরা “গুগল র্যাংকিং” বলি।
কেন গুগল অ্যালগরিদম আপডেট করা হয়?
অ্যালগরিদম কাকে বলে? -আশা করি আপনি এই বিষয়টি ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন। তাই এবার আপনাকে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানতে হবে। সেটি হলো, গুগল কেন তার অ্যালগরিদম আপডেট করে! তো এই গুগল অ্যালগরিদম আপডেট হওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে, আর নিচের আলোচনা তে শুধুমাত্র উল্লেখযোগ্য কারণ গুলো তুলে ধরা হলো।
০১-ইউজারদের সঠিক তথ্য দেওয়া
ব্যবহারকারীদের সর্বোত্তম অভিজ্ঞতা প্রদান করা হলো Google-এর মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্য পূরণে তারা নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, বিশেষ করে সার্চ ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে। নিয়মিত অ্যালগরিদম আপডেটের মাধ্যমে, Google নিশ্চিত করছে যে ব্যবহারকারীরা তাদের অনুসন্ধানের সাথে সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক এবং সঠিক ফলাফল জানতে পারে। এর মানে হল ব্যবহারকারীরা দ্রুত ও সহজেই তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে নিতে পারে, এর ফলে তাদের সময় ও প্রচেষ্টা সাশ্রয় হয়।
মনে রাখবেন, গুগল কেবল প্রাসঙ্গিক ফলাফলই প্রদান করে না, বরং তারা সঠিক তথ্য প্রদানের ব্যাপার অত্যন্ত সচেতন। ভুয়া খবর ও বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে ব্যবহারকারীদের রক্ষা করার জন্য তারা কঠোর পরিশ্রম করে। গুগলের বিশাল ডেটাবেস ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা ভুয়া তথ্য গুলো কে চিহ্নিত করে বাদ দিয়ে সঠিক তথ্য সরবরাহ করে।
০২-স্প্যামিং ওয়েবসাইট শনাক্তকরন
ওয়েবসাইট র্যাঙ্কিং একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। টপ পজিশনে র্যাঙ্কিং করা মানে আপনার ওয়েবসাইট বেশি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারবে, যার ফলে বৃদ্ধি পাবে ট্রাফিক, ব্যবসা ও আয়। তবে, কিছু ওয়েবসাইট অপ্রয়োজনীয় কৌশল ব্যবহার করে সার্চ ইঞ্জিনের টপ পজিশনে র্যাঙ্ক করার চেষ্টা করে। এই কৌশল গুলো কে “ব্ল্যাক হ্যাট এসইও” বলা হয়।
ব্ল্যাক হ্যাট এসইও কৌশল গুলোর মধ্যে রয়েছে কিওয়ার্ড স্টাফিং, ক্লোকিং, লিঙ্ক ফার্মিং ইত্যাদি। এই কৌশল গুলো সাময়িক ভাবে কাজ করতে পারলেও, তা ওয়েবসাইটের জন্য ব্যাপক ক্ষতিকর। কারণ, গুগল এই ধরণের স্প্যামিং এবং কৌশল গুলোকে শনাক্ত ও প্রতিরোধ করার জন্য তাদের অ্যালগরিদম নিয়মিত আপডেট করে। ফলে, ব্ল্যাক হ্যাট এসইও ব্যবহারকারী ওয়েবসাইট গুলো র্যাঙ্কিং হারিয়ে ফেলে এবং অনেক সময় সার্চ ইঞ্জিন থেকে পেনাল্টি দেওয়া হয়।
০৩-হাই কোয়ালিটি ওয়েবসাইট তৈরিতে উৎসাহ
গুগল দীর্ঘদিন ধরেই ওয়েবমাস্টারদের এমন ওয়েবসাইট তৈরি করতে উৎসাহিত করে আসছে যা তাদের ব্যবহারকারীদের জন্য মূল্যবান। এই নীতিটি তাদের সাম্প্রতিক অ্যালগরিদম আপডেট গুলোতে আরও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। তাই যারা কেবলমাত্র সার্চ ইঞ্জিন র্যাংকিংয়ে জায়গা করার জন্য কাজ করছেন তাদের বরাবরের মতো হতাশ হতে হচ্ছে।
এই পরিবর্তনের মাধ্যমে, গুগল স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে তারা এমন ওয়েবসাইট গুলোকে পছন্দ করে যা তাদের ব্যবহারকারীদের জন্য প্রাসঙ্গিক এবং সহায়ক তথ্য প্রদান করবে। এর মানে হল ওয়েবমাস্টারদের এমন কন্টেন্ট তৈরিতে মনোযোগ দেওয়া উচিত যা তাদের পাঠকদের আকর্ষণ করবে।
গুগল অ্যালগরিদম আপডেটের প্রভাব
অনলাইনে টিকে থাকার জন্য ওয়েবসাইট মালিকদের প্রতিদিন নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। আর এই চ্যালেঞ্জ গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো গুগলের অ্যালগরিদম আপডেট।
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, এটি হলো গুগলের সার্চ ইঞ্জিন ফলাফল গুলোকে আরও ভালো করে তোলার জন্য তাদের নিয়ম কানুনের পরিবর্তন। আর নিয়মিত আপডেটের মাধ্যমে গুগল নিশ্চিত করে যে, সার্চ রেজাল্ট গুলো ব্যবহারকারীর চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তবে এই অ্যালগরিদম আপডেট ওয়েবসাইট মালিকদের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। কিছু ওয়েবসাইট তাদের র্যাংকিং হারাতে পারে, অপরদিকে কিছু ওয়েবসাইট লো পজিশন থেকে টপ পজিশনে র্যাংক করে। এর ফলে ওয়েবসাইটের ট্রাফিক, রেভিনিউ এবং সামগ্রিক সাফল্যের উপর প্রভাব পড়ে।
২০২৪ সাল পর্যন্ত সকল অ্যালগরিদম আপডেট সমূহ
গুগল বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কারণে ভিন্ন ভিন্ন নামে অ্যালগরিদম আপডেট করে। তবে সেই আপডেট গুলোর নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে। তাই এখন পর্যন্ত গুগলের কোন কোন আপডেট এসেছে সেই তালিকা নিচে প্রদান করা হলো। আর ভবিষ্যতে যখন নতুন কোনো আপডেট আসবে তখন সেটি এই তালিকায় যুক্ত করে দেওয়া হবে।
গুগল অ্যালগরিদম আপডেট-২০২৪
| May 6, 2024 | Site Reputation Abuse |
| March,5, 2024 | Core Update |
গুগল অ্যালগরিদম আপডেট-২০২৩
| November 8, 2023 | Reviews Update |
| November 2, 2023 | Core Update |
| October 5, 2023 | Core Update |
| October 4, 2023 | Spam Update |
| September 14, 2023 | Helpful Content Update |
| August 22, 2023 | Core Update |
| April 12, 2023 | Reviews Update |
| March 15, 2023 | Core Update |
| February 21, 2023 | Product Reviews Update |
গুগল অ্যালগরিদম আপডেট-২০২২
| December 14, 2022 | Link Spam Update |
| December 5, 2022 | Helpful Content Update |
| October 19, 2022 | Spam Update |
| September 20, 2022 | Product Review Algorithm Update |
| September 12, 2022 | Core Algorithm Update |
| August 25, 2022 | Helpful Content Update |
| July 27, 2022 | Product Reviews Update |
| May 22, 2022 | Core Update |
| March 23, 2022 | Product Algorithm Update |
| February 22, 2022 | Page Experience Update |
গুগল অ্যালগরিদম আপডেট-২০২১
| December 1, 2021 | Product Review Update |
| November 30, 2021 | Local Search Update |
| November 17, 2021 | Broad Core Update |
| November 3, 2021 | Google Spam Update |
| July 26, 2021 | Google Link Spam Algorithm Update |
| July 12, 2021 | Core Update Completed |
| July 1, 2021 | Core Update |
| June 28, 2021 | Spam Update Part 2 |
| June 23, 2021 | Spam Update |
| June 15, 2021 | Page Experience Update |
| June 10, 2021 | Known Victims Protection |
| June 2, 2021 | Broad Core Algorithm Update |
| April 8, 2021 | Product Reviews Update |
| February 10, 2021 | Passage Ranking |
গুগল অ্যালগরিদম আপডেট-২০২০
| December 3, 2020 | Core Update |
| May 4, 2020 | Core Update |
| January 22, 2020 | Featured Snippet Deduplication |
| January 13, 2020 | Core Update |
গুগল অ্যালগরিদম আপডেট-২০১৯
| December 9, 2019 | BERT (Worldwide) |
| October 25, 2019 | BERT Update |
| September 24, 2019 | Broad Core Algorithm Update |
| August 1, 2019 | Featured Snippets Update |
| June 2, 2019 | Core Update |
| March 12, 2019 | Core Update (a.k.a. Florida 2) |
| February 13, 2019 | Valentine’s Day Update |
গুগল অ্যালগরিদম আপডেট-২০১৮
| October 31, 2018 | Unconfirmed Halloween Update |
| September 27, 2018 | A “Small” Update |
| August 1, 2018 | Broad Core Algorithm Update |
| April 16, 2018 | Broad Core Algorithm Update |
| March 9, 2018 | Broad Core Algorithm Update |
গুগল অ্যালগরিদম আপডেট-২০১৭
| December 12, 2017 | Maccabees Update |
| September 8, 2017 | Fall Flux |
| August 19, 2017 | Quality Update |
| July 9, 2017 | Quality Update |
| June 25, 2017 | June 25 Update |
| May 17, 2017 | Quality Update |
| March 7, 2017 | Fred |
| February 7, 2017 | February 7 Update |
| February 1, 2017 | February 1 Update |
| January 10, 2017 | Intrusive Interstitials Update |
গুগল অ্যালগরিদম আপডেট-২০১৬
| November 10, 2016 | Unnamed Update |
| September 23, 2016 | Penguin Update 4.0 & Core Algorithm Integration |
| June 1, 2016 | Quality Update |
| May 12, 2016 | Mobile-Friendly Update (#2) |
| January 11, 2016 | Panda Core Algorithm Incorporation |
গুগল অ্যালগরিদম আপডেট-২০১৫
| October 26, 2015 | RankBrain |
| July 17, 2015 | Panda Update 4.2 (#28) |
| May 3, 2015 | Quality Update |
| April 21, 2015 | Mobile-Friendly Update |
গুগল অ্যালগরিদম আপডেট-২০১৪
| October 17, 2014 | Penguin Update 3.0 |
| September 23, 2014 | Panda Update 4.1 (#27) |
| July 24, 2014 | Pigeon Update |
| June 12, 2014 | Payday Loan Update 3.0 |
| May 20, 2014 | Panda Update 4.0 (#26) |
| May 16, 2014 | Payday Loan Update 2.0 |
| February 6, 2014 | Page Layout Refresh |
গুগল অ্যালগরিদম আপডেট-২০১৩
| October 4, 2013 | Penguin Update 2.1 |
| September 26, 2013 | Hummingbird Update |
| June 11, 2013 | Payday Loan Update |
| May 22, 2013 | Penguin Update 2.0 |
| March 14, 2013 | Panda Update (#25) |
| January 22, 2013 | Panda Update (#24) |
গুগল অ্যালগরিদম আপডেট-২০১২
| December 21, 2012 | Panda Update (#23) |
| November 21, 2012 | Panda Update (#22) |
| November 5, 2012 | Panda Update (#21) |
| October 9, 2012 | Page Layout Update #2 |
| October 5, 2012 | Penguin Update 1.2 |
| September 28, 2012 | Exact Match Domain Update |
| September 27, 2012 | Panda Update (#20) |
| September 18, 2012 | Panda Update 3.9.2 (#19) |
| August 20, 2012 | Panda Update 3.9.1 (#18) |
| July 24, 2012 | Panda Update 3.9 (#17) |
| June 25, 2012 | Panda Update 3.8 (#16) |
| June 8, 2012 | Panda update 3.7 (#15) |
| May 26, 2012 | Penguin Update 1.1 |
| April 27, 2012 | Panda Update 3.6 (#14) |
| April 24, 2012 | Penguin Update |
| April 19, 2012 | Panda Update 3.5 (#13) |
| March 23, 2012 | Panda Update 3.4 (#12) |
| February 27, 2012 | Panda Update 3.3 (#11) |
| February 27, 2012 | Venice Update |
| January 19, 2012 | Page Layout Update |
| January 18, 2012 | Panda Update 3.2 (#10) |
গুগল অ্যালগরিদম আপডেট-২০১১
| November 18, 2011 | Panda Update 3.1 (#9) |
| November 3, 2011 | Freshness Update |
| October 19, 2011 | Panda Update 3.0 (#8) |
| September 28, 2011 | Panda Update 2.5 (#7) |
| August 12, 2011 | Panda Update 2.4 (#6) |
| July 23, 2011 | Panda Update 2.3 (#5) |
| June 21, 2011 | Panda Update 2.2 (#4) |
| May 9, 2011 | Panda Update 2.1 (#3) |
| April 11, 2011 | Panda Update 2.0 (#2) |
| February 23, 2011 | Panda Update |
গুগল অ্যালগরিদম আপডেট-২০১০
| April 28, 2010 | May Day Update |
গুগল অ্যালগরিদম আপডেট-২০০৯
| August 10, 2009 | Caffeine Update |
| January 18, 2009 | Vince Update |
গুগল অ্যালগরিদম আপডেট-২০০৮
| December 15, 2005 | Big Daddy Update |
| September 1, 2005 | Jagger Update |
গুগল অ্যালগরিদম আপডেট-২০০৩
| November 16, 2003 | Florida Update |
গুগলের অ্যালগরিদম আপডেট ও তাদের বৈশিষ্ট্য
২০০৩ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত গুগলের বিভিন্ন ধরনের আপডেট এসেছে। আর সেই সকল আপডেট ভিন্ন ভিন্ন কারণে প্রদান করা হয়েছিলো। তাই এবার আমি আপনাকে সেই সব আপডেট এর বৈশিষ্ট্য গুলো জানিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবো। যাতে করে আপনার গুগলের আপডেট সম্পর্কে কোনো কিছু অজানা না থাকে।
01-Florida Update
গুগল ফ্লোরিডা আপডেট ২০০৩ সালের নভেম্বরে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ একটি অ্যালগরিদম আপডেট ছিলো। এটি স্পাম এবং নিম্ন-মানের ওয়েবসাইট গুলোকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছিল। যার মাধ্যমে “ব্ল্যাক হ্যাট” SEO কৌশল ব্যবহার করে এমন ওয়েবসাইট গুলোর র্যাংকিং ম্যানিপুলেট করা হয়েছে।
02-Vince Update
গুগল Vince Update ছিলো গুগল সার্চ অ্যালগরিদমে একটি পরিবর্তন যা ফেব্রুয়ারী ২০০৯ সালে ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে গোটা বিশ্বব্যাপী ধাপে ধাপে চালু করা হয়েছিলো। এই আপডেটের প্রধান প্রভাব ছিলো বড় ব্র্যান্ডের ওয়েবসাইট গুলোকে সার্চ র্যাঙ্কিংয়ে সুবিধা প্রদান করা, বিশেষ করে নির্দিষ্ট কিছু কীওয়ার্ডের ক্ষেত্রে এই আপডেট বেশ কার্যকরী ভূমিকা রেখেছিল।
03-Panda Update
গুগল Panda Update ছিল গুগল সার্চ অ্যালগরিদমের একটি গুরুত্বপূর্ণ আপডেট, যা 2011 সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম চালু করা হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল নিম্ন-মানের ওয়েবসাইট এবং ওয়েব স্প্যামকে সার্চ রেজাল্ট থেকে সরিয়ে ফেলা এবং ব্যবহারকারীদের জন্য আরও প্রাসঙ্গিক ও কোয়ালিটি কন্টেন্ট প্রদান করা।
04-Penguin Update
Google Penguin হলো একটি অ্যালগরিদম আপডেট যা প্রথম 2012 সালে চালু করা হয়েছিলো। এর লক্ষ্য ছিল ওয়েব স্প্যামের বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং সার্চ রেজাল্টের মান উন্নত করা।
05-Exact Match Domain Update
গুগলের Exact Match Domain (EMD) আপডেট হলো ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে লঞ্চ করা এলগোরিদম আপডেট। এই আপডেটের লক্ষ্য ছিল নিম্নমানের ওয়েবসাইট ও থার্ড ক্লাস কন্টেন্ট যুক্ত ওয়েবসাইট গুলো কে টার্গেট করা, যারা কেবল ডোমেইনের সাথে ম্যাচ করে এমন কিওয়ার্ডের উপর নির্ভর করে র্যাংকিংয়ে এগিয়ে ছিলো।
06-Hummingbird Update
আগে, গুগল মূলত সার্চে ব্যবহৃত কিওয়ার্ড গুলোর সাথে মেলে এমন ওয়েব পেজ গুলো দেখাত। কিন্তু হামিংবার্ড আপডেটের পর থেকে, গুগল সার্চের শব্দ গুলোর পেছনে থাকা অর্থ ও উদ্দেশ্য বুঝতে সক্ষম হয়। এটি গুগলকে আরও ভালো করে ব্যাখ্যা করতে এবং সেই অনুযায়ী ফলাফল প্রদর্শন করতে সাহায্য করেছিলো।
07-Pigeon Update
গুগল Pigeon Update, যা 24 জুলাই, 2014 সালে প্রকাশিত হয়েছিল। আর এটি ছিলো লোকাল সার্চ অ্যালগরিদমের একটি বড় আপডেট। এর উদ্দেশ্য ছিল ব্যবহারকারীদের আরও প্রাসঙ্গিক এবং সঠিক ফলাফল প্রদানের জন্য লোকাল সার্চ রেজাল্টের মান উন্নত করা।
08-Mobile-Friendly Update
গুগল Mobile-Friendly Update হলো গুগলের সার্চ অ্যালগোরিদমের এমন একটা পরিবর্তন, যেখানে মোবাইলে সহজে দেখা যায় এমন ওয়েবসাইট গুলো কে সার্চ রেজাল্টে উপরে তোলা হয়। এটা সম্ভবত ২০১৫ সালের এপ্রিলে চালু হয়েছিল, যখন মোবাইল ডিভাইস কম্পিউটারের চেয়ে ওয়েব ট্রাফিকের বড় উৎস হয়ে উঠেছিলো।
09-RankBrain
গুগল RankBrain হল একটি মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদম যা Google 2015 সালে তাদের সার্চ ইঞ্জিনে অন্তর্ভুক্ত করে। এটি ব্যবহারকারীদের উদ্দেশ্যকে আরও ভালভাবে বুঝতে এবং আরও প্রাসঙ্গিক সার্চ রেজাল্ট প্রদান করতে সহায়তা করে।
10-Broad Core Algorithm Update
গুগলের সার্চ র্যাংকিং অ্যালগোরিদমে কয়েকবার করে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়, এগুলোকে বলা হয় Broad Core Algorithm Update বা মূল কোর আপডেট। এই আপডেটের মাধ্যমে গুগল নিশ্চিত করে যে তারা ইউজারদের সবচেয়ে উপযোগী এবং নির্ভরযোগ্য ফলাফল দেখাচ্ছে।
11-BERT Update
BERT, যার পূর্ণরূপ Bidirectional Encoder Representations from Transformers, হল গুগল এআই দ্বারা তৈরি একটি natural language processing (NLP) প্রযুক্তি। এটি ২০১৯ সালে চালু করা হয়েছিল এবং এটি সার্চ রেজাল্টের মান উন্নত করতে সহায়তা করেছিলো।
12-Passage Ranking
গুগল Passage Ranking, যা Passage Indexing নামেও পরিচিত, যা গুগলের সার্চ অ্যালগরিদমের একটি আপডেট যেটি ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে চালু করা হয়েছিলো। এটি গুগলকে ওয়েব পেজের নির্দিষ্ট অংশ (যেমন একটি অনুচ্ছেদ বা বাক্য) সার্চ রেজাল্টে র্যাঙ্ক করার ফিচার চালু করেছিলো।
13-Product Reviews Update
গুগল প্রডাক্ট রিভিউ আপডেট হলো গুগল সার্চের ফলাফলে কোনো প্রোডাক্ট রিভিউ কতটা উপরে আসবে সেটা নির্ধারণ করার একটা নিয়মের পরিবর্তন। এই আপডেটের লক্ষ্য হলো আরো ভালো মানের, বিশ্বাসযোগ্য এবং গভীর পর্যালোচনা সহকারে লেখা রিভিউ গুলোকে সবার আগে দেখানো।
14-Page Experience Update
গুগল পেজ এক্সপেরিয়েন্স আপডেট হলো এমন একটা আপডেট যা ব্যবহারকারীদের ওয়েব পেজের সাথে কীভাবে ইন্টারঅ্যাক্ট করে তা গুগলকে আরও ভালো বুঝতে সাহায্য করে। এই আপডেটের ফলে গুগল সার্চ র্যাংকিংয়ে ওয়েব পেজ এর পেজ এক্সপেরিয়েন্স একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
15-Spam Update
গুগল স্প্যাম আপডেট হলো গুগল সার্চ অ্যালগরিদমে নিয়মিত পরিবর্তন যা ওয়েবসাইট থেকে স্প্যামিং এবং ক্ষতিকর কার্যকলাপ চিহ্নিত করে। এর উদ্দেশ্য হলো ব্যবহারকারীদের জন্য সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক এবং উচ্চমানের সার্চ ফলাফল প্রদান করা।
16-Core Algorithm Update
গুগল এর সার্চ রেজাল্টের মান উন্নত করার জন্য, কয়েক মাস অন্তর অন্তর গুগল তাদের সার্চ অ্যালগোরিদমে পরিবর্তন করে। এই পরিবর্তন গুলোকে গুগল Core Algorithm Update বলা হয়। সাধারণত এই Core Update গুলোর মাধ্যমে গুগল নিশ্চিত করে যে তারা সব সময় সেরা এবং নির্ভরযোগ্য ফলাফল গুলো দেখাচ্ছে।
17-Site Reputation Abuse
গুগল সাইট রেপুটেশন অ্যাবিউজ হলো যখন কোন ওয়েবসাইট থার্ড-পার্টির কন্টেন্ট পোস্ট করে, যে গুলো সাধারণত ওয়েবসাইটের মূল টপিকের সাথে সম্পর্কিত থাকে না, অথবা ওয়েবসাইটের মালিকের খুব কম বা কোনও তত্ত্বাবধান ছাড়াই কন্টেন্ট তৈরি করা হয়। যে কন্টেন্ট এর উদ্দেশ্য হলো সার্চ ইঞ্জিনের র্যাংকিংয়ে ওয়েবসাইটটিকে ম্যানিপুলেট করা। মূলত এই সাইট গুলোকে শনাক্ত করে সার্চ রেজাল্ট থেকে সরিয়ে ফেলা।
আপনার জন্য আমাদের কিছুকথা
প্রিয় পাঠক, আজকের আর্টিকেলে গুগল অ্যালগরিদম কাকে বলে ও এই গুগল অ্যালগরিদম এর কাজ গুলো নিয়ে বিষদভাবে আলোচনা করা হয়েছে। তো আপনার যারা ব্লগিং পেশার সাথে যুক্ত আছেন তাদের জন্য এই লেখাটি অনেক হেল্পফুল হবে। তবে এরপরও যদি আপনার গুগল অ্যালগরিদম নিয়ে আরো কোনো প্রশ্ন থাকে তাহলে নিচে কমেন্ট করবেন। আর এতক্ষন আমাদের সাথে থাকার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।



