বর্তমান সময়ে ডিজিটাল মার্কেটিং এর চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তা দুটোই বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ, বর্তমান বিশ্বের প্রায় ৬৬ শতাংশ মানুষ আছেন, যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করে। আর এই সকল মানুষকে কেন্দ্র করে যখন আপনি বিজনেস করার প্ল্যান করবেন, তখন অবশ্যই আপনাকে ডিজিটাল মার্কেটিং এর সহায়তা নিতে হবে।
কিন্তুু সমস্যা হলো, আমাদের দেশে এই ডিজিটাল মার্কেটিং সেক্টরকে কিছুটা ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়। তাই মানুষের মাঝে থাকা এই ভ্রান্ত ধারনাকে দুর করার লক্ষ্যে ও ডিজিটাল মার্কেটিং তা সঠিক ভাবে তুলে ধরার জন্য আজকের এই আর্টিকেলটি লেখা হয়েছে। যেখান থেকে আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং A to Z সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।
ভূমিকা : ডিজিটাল মার্কেটিং A to Z (Digital Marketing)
সময়ের সাথে সাথে যেভাবে মানুষের চাহিদার পরিবর্তন হয়েছে ঠিক তার সাথে তাল মেলাতে গিয়ে বদল করতে হয়েছে মার্কেটিং প্রক্রিয়া। যদি আপনি অতিতের দিনগুলোর কথা চিন্তা করে দেখেন তাহলে লক্ষ্য করবেন সেই সময়ে মানুষ রেডিও, টেলিভিশনের প্রতি আকৃষ্ট ছিলো। তাই সেই সময়ে কোনো পণ্যের প্রচার করার জন্য এগুলোকে একমাত্র মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হতো।
কিন্তুু সময় অনেক বদলে গেছে পাশাপাশি মানুষের চাহিদারও পরিবর্তন এসেছে। কেননা, বর্তমান সময়ে মানুষ হয়ে পড়েছে অনলাইন নির্ভর। যার কারণে এই অনলাইনে থাকা মানুষদের কাছে পণ্যের প্রচার করার জন্য ছোটো থেকে বৃহৎ প্রতিষ্ঠান গুলো ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রতি ঝুঁকে পড়েছে।
তবে শুধুমাত্র ক্রেতার কথা ভেবেই নয়, বরং ডিজিটাল মার্কেটিং এর নানা ধরনের সুবিধা আছে। আর এই সুবিধা গুলো ভোগ করতে চাইলে আপনাকেও ডিজিটাল মার্কেটিং কে গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যথায় আপনি আপনার অন্যান্য প্রতিযোগীদের থেকে অনেকটাই পিছিয়ে পড়বেন।
ডিজিটাল মার্কেটিং কি ? । ডিজিটাল মার্কেটিং কাকে বলে?
সহজ কথায় বলতে গেলে, অনলাইন কে কেন্দ্র করে যখন কোনো পণ্যের প্রচার করা হবে তখন তাকে বলা হবে ডিজিটাল মার্কেটিং। আর এই মার্কেটিং করার সকল প্রক্রিয়া গুলো অনলাইনের মাধ্যমে করা হয়ে থাকে ,তাই ডিজিটাল ভাবে সকল কাজ করা হয় বলে এই মার্কেটিং প্রক্রিয়ার নাম দেওয়া হয়েছে ডিজিটাল মার্কেটিং।
যেমন আপনি আপনার নির্দিষ্ট একটি প্রোডাক্টের মার্কেটিং করার জন্য ফেসবুক কিংবা ইউটিউব কে বেছে নিলেন। এখন আপনি এই মার্কেটিং করার জন্য যে যে কাজ গুলো করবেন, তার সব গুলো কাজ কে বলা হবে, ডিজিটাল মার্কেটিং।
ডিজিটাল মার্কেটিং এর ইতিহাস
সত্যি বলতে ডিজিটাল মার্কেটিং কাকে বলে তা আমরা কমবেশি সবাই জানি। তবে বর্তমান সময়ে যেমন এই ডিজিটাল মার্কেটিং অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে, কিন্তুু এই মার্কেটিং এর শুরুর জার্নিটা অনেক সীমিত পরিসরে ছিলো। আর সীমিত পরিসরে যাত্রা শুরু করলেও তা আজ একটি বৃহৎ অংশ জুড়ে অবস্থান নিতে পেরেছে।
কারণ, ১৯৯০ সালের দিকে মানুষ ওয়েবসাইট সম্পর্কে বুঝতে পারে। আর এই ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে ব্লগ তৈরি করার পাশাপাশি নিজের পন্যের প্রচার করা যাবে সে সম্পর্কে জানতে পারে। কিন্তুু প্রাথমিক ভাবে সেই সময় মানুষ অনলাইনের মাধ্যমে মার্কেটিং করার বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি। কারণ, সেই সময় অফলাইন মার্কেটিং এর চাহিদা ছিলো তুঙ্গে।
কিন্তুু তারপরও মানুষ যখন ইমেইল ব্যবহার করা শুরু করে, তখন অনেক জায়েন্ট কোম্পানি গুলো তাদের পন্যের মার্কেটিং করার জন্য ইমেইলকে প্রাধান্য দেওয়া শুরু করে। যার ফলস্বরুপ, তখন থেকে ইমেইল মার্কেটিং এর হাত ধরে ডিজটাল মার্কেটিং এর যাত্রা শুরু হয়। আর ইমেইল মার্কেটিং এর পাশাপাশি ওয়েবসাইটে বিভিন্ন ব্যানারের মাধ্যমেও বিজ্ঞাপন প্রদান করা শুরু হয়।
এরপর গুগল সার্চ ইঞ্জিনের মতো আরো বেশ কয়েকটি সার্চ ইঞ্জিনের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়। সেইসাথে আবিস্কার হয় বিভিন্ন ধরনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। আর এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোর বিশেষ একটি সুবিধা ছিলো, বিভিন্ন ধরনের কন্টেন্ট এর মাধ্যমে পন্যের প্রচার করা। এগুলো ছাড়াও ডিজিটাল মার্কেটিং A to Z অথবা কমপ্লিট ডিজিটাল মার্কেটিং এর নানা সুবিধার কারণে বর্তমানে পন্যের প্রচার করার জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ডিজিটাল মার্কেটিং কেন করবেন?
এতক্ষনের আলোচনা থেকে আমরা ডিজিটাল মার্কেটিং কি ও এর ইতিহাস সম্পর্কে জানলাম। কিন্তু এখন আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, আপন ডিজিটাল মার্কেটিং কেন করবেন? -হুমম, তবে এমন প্রশ্নের উত্তরে বলবো, এমন অনেক কারণ আছে যার জন্য আপনার ডিজিটাল মার্কেটিং করা উচিত। আর এবার আমি আপনাকে সেই কারণ গুলো বিস্তারিত ভাবে বলার চেষ্টা করবো।
বৃহৎ ক্রেতাদের নিকট পৌঁছানো
আমরা জানি যে, বর্তমান সময়ে প্রায় ৬৬ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। সেক্ষেত্রে আপনি যদি আপনার পন্যের জন্য কাঙ্খিত ক্রেতা খুজে নিতে চান তাহলে ইন্টারনেট হবে আপনার একমাত্র উত্তম মাধ্যম। সেইসাথে ইন্টারনেটে আপনি সম্পূর্ণ একটিভ ইউজার পাবেন যা আপনার ব্যবসার সেল বৃদ্ধি করতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
খরচের পরিমান কম
আপনি যদি অফলাইন মার্কেটিং এর সাথে ডিজিটাল মার্কেটিং এর তুলনা করেন তাহলে দেখতে পারবেন যে, ডিজিটাল মার্কেটিং করতে খরচ অনেক কম লাগে। কেননা, আপনি চাইলে আপনার নিজের স্বার্থ ও সাধ্য অনুযায়ী ডিজিটাল ভাবে মার্কেটিং করতে পারবেন। অপরদিকে ডিজিটাল মার্কেটিং এর তুলনায় অফলাইন মার্কেটিং করতে ব্যাপক পরিমান অর্থ খরচ করার দরকার হয়।
গ্রাহকদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন
মনে করুন, আপনি ফেসবুকে কোনো প্রডাক্টের ডিজিটাল মার্কেটিং করছেন। এখন আপনার প্রোডাক্ট ব্যবহার করার পর তাদের কেমন লেগেছে, কোনো সমস্যা আছে কিনা, সেটি আপনি ক্রেতাদের কমেন্ট, মেসেজ থেকে জেনে নিতে পারবেন। আর এটি হলো ডিজিটাল মার্কেটিং করার সবচেয়ে বড় একটি সুবিধা।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর ধরণ -প্রকারভেদ
বলে রাখা ভালো যে, ডিজিটাল মার্কেটিং হলো বৃহৎ একটি সেক্টর যার ভিন্ন ভিন্ন ধরন আছে। আর আপনি চাইলে আপনার ব্যবসার সাথে সম্পর্কিত যে কোনো ধরনের ডিজিটাল মার্কেটিং করতে পারবেন। তবে বর্তমান সময়ে এই অনলাইন ভিত্তিক মার্কেটিং কে বেশ কয়েকটি প্রকারে ভাগ করা হয়। এবার আমি সেই সকল প্রকারভেদ গুলো নিয়ে বিস্তারিত বলার চেষ্টা করবো।
০১-অর্গানিক মার্কেটিং
যখন আপনি কোনো প্রকার অর্থ ব্যয় না করে অর্গানিকভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং করবেন, তখন তাকে বলা হবে অর্গানিক মার্কেটিং। তো এই ধরনের মার্কেটিং করার জন্য আপনাকে কোনো অর্থ ব্যয় করার দরকার পড়বেনা। তবে এমন অর্গানিক মার্কেটিং করার জন্য আপনার যথেষ্ট মেধা ও শ্রম দিতে হবে।
যেমন, আপনি যদি একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেন তারপর বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে সেই ওয়েব সাইটে ট্রাফিক নিয়ে আসেন। তাহলে তখন আপনি সেই ট্রাফিকদের নিকট বিনামূল্যে আপনার যে কোনো পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারবেন।
ঠিক একইভাবে আপনি যদি একটি ফেসবুক পেজ বা গ্রুপ তৈরি করেন, তারপর সেখানে হিউজ পরিমান ফলোয়ার ও মেম্বার যুক্ত করতে পারেন। তাহলে সেইসকল ফলোয়ার ও মেম্বারদের মাধ্যমে আপনি আপনার পণ্যের প্রচার করতে পারবেন। আর যখন আপনি এই পদ্ধতি গুলোর মাধ্যমে মার্কেটিং করবেন তখন তাকে বলা হবে পেইড মার্কেটিং।
০২-পেইড মার্কেটিং
সহজ কথায় বলতে গেলে, যে মার্কেটিং করার জন্য আপনাকে নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ খরচ করতে হবে তাকে বলা হবে পেইড মার্কেটিং। আর এই ধরনের মার্কেটিং করার জন্য নির্দিষ্ট কিওয়ার্ড বা নির্দিষ্ট গ্রাহক কে টার্গেট করে পেইড প্রোমোশন করানো হয়। তারপর গ্রাহকরা সেই প্রোমোশন এর মাধ্যমে আপনার পন্য সম্পর্কে জানতে পারবে এবং উক্ত পণ্য কিনতে আগ্রহী হবে।
ট্র্যাডিশনাল ও ডিজিটাল মার্কেটিং চ্যানেল
আমরা যেহুতু ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে আলোচনা করছি সেহুতু এই দুই ধরনের মার্কেটিং সম্পর্কেও আমাদের কিছুটা ধারনা থাকা দরকার। কেননা, একজন ব্যক্তিকে তখনি ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট বলা হবে যখন তার মধ্যে উক্ত সেক্টরের সকল বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান থাকবে।
ট্র্যাডিশনাল মার্কেটিং কি?
যখন ইন্টারনেট ছিলোনা তখনও বিশ্বের বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গুলো তাদের পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করতো। আর উক্ত সময়ে যে পদ্ধতিতে পণ্যের মার্কেটিং করা হতো তার নাম ছিলো ট্র্যাডিশনাল মার্কেটিং। যেমন, সেইসময়ের মানুষের নিকট বিজ্ঞাপন পৌঁছানোর জন্য টিভি, রেডিও, পোষ্টার, ব্যানার ইত্যাদির ব্যবহার করা হতো। আর এই সকল বিজ্ঞাপন প্রদান করার পদ্ধতিকে বলা হতো ট্র্যাডিশনাল মার্কেটিং।
ডিজিটাল মার্কেটিং চ্যানেল?
আপনি যখন ডিজিটাল মার্কেটিং করবেন তখন আপনি কোনো এক সময়ে ডিজিটাল মার্কেটিং চ্যানেল এর নাম শুনে থাকবেন। তো এই ধরনের অনলাইন ভিত্তিক মার্কেটিং গুলো যে পদ্ধতি বা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে করা হয় তাকে বলা হয় মার্কেটিং চ্যানেল।
যেমন, আপনি যখন একটি ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করে সেখানে আপনার পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রদান করবেন। তখন সেটি হবে আপনার ডিজিটাল মার্কেটিং চ্যানেল। ঠিক একইভাবে আপনি যখন একটি ফেসবুক পেজ বা গ্রুপের মাধ্যমে আপনার পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করবেন, তখন সেই ফেসবুক পেজ বা গ্রুপটি হবে আপনার ডিজিটাল মার্কেটিং চ্যানেল।
ডিজিটাল মার্কেটিং এর গুরুত্ব
সময় ও স্রোত যেমন কারো জন্য অপেক্ষা করেনা, ঠিক তেমনিভাবে আপনি যদি আপনার ব্যাবসায়িক প্রতিযোগীদের থেকে এগিয়ে থাকতে চান তাহলে অবশ্যই স্রোতের সাথে তাল মেলাতে হবে। কেননা, এখন চলছে ডিজিটাল মার্কেটিং এর যুগ। কিন্তু আপনি যদি এখনও এই মার্কেটিংকে গুরুত্ব না দেন তবে আপনি আপনার অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রতিযোগীদের থেকে অনেক গুন পিছিয়ে থাকবেন।
তবে শুধুমাত্র পিছিয়ে থাকার ভয়েই যে আপনাকে ডিজিটাল মার্কেটিং করতে হবে বিষয়টা এমন নয়। বরং এই ডিজিটাল মার্কেটিং হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে আপনি খুব দ্রুত আপনার ব্যবসার প্রসার ঘটাতে পারবেন।
কেননা, ডিজিটাল মার্কেটিং করার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো আপনি আপনার ক্রেতাদের খুব কাছাকাছি থাকতে পারবেন। যেমন, আপনি যদি ফেসবুকে আপনার কোনো পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করেন তবে আপনি ফেসবুক থেকে সেইসকল ক্রেতাদের সাথে খুব সহজেই যোগাযোগ করতে পারবেন। এছাড়াও আপনি আপনার কাঙ্খিত ক্রেতাদের নিকট আপনার বিজ্ঞাপন পৌঁছে দিতে পারবেন।
ফলস্বরুপ, একদিকে আপনার বিজ্ঞাপন দেওয়া সহজ হবে, অপরদিকে ক্রেতারাও আপনার পণ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে কিনতে আগ্রহী হবে। এছাড়াও আপনার পণ্যটি ক্রয় করার পর ক্রেতার নিকট কেমন লাগলো তার ফিডব্যাক খুব সহজেই নেওয়া সম্ভব হবে। যা একটি ব্যবসার প্রসারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আর বর্তমানে শুধু আপনিই যে ডিজিটাল মার্কেটিং করছেন বিষয়টা এমন নয়। বরং আপনার মতো ক্ষুদ্র থেকে বিশ্বের জায়েন্ট কোম্পানি গুলোও এখন তাদের পণ্যের বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং এর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। তাই সবাই যখন ডিজিটাল মার্কেটিং এর উপর নির্ভরশীল তাহলে আপনার পিছিয়ে থাকাটা বোকামি ছাড়া কিছুই নয়।
ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে কতদিন লাগে?
সত্যি বলতে ডিজিটাল মার্কেটিং হলো বৃহৎ একটি প্ল্যাটফর্ম, তাই এই মার্কেটিং নিয়ে বিভিন্ন মানুষের ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্ন রয়েছে। সেজন্য আপনারা অনেকেই জানতে চান যে, ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে কতদিন লাগে। কিন্তুু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ, ব্যক্তিভেদে ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার জন্য ভিন্ন ভিন্ন সময়ের প্রয়োজন হয়।
যেমন ধরুন, আপনার যদি ডিজিটাল মার্কেটিং A to Z অথবা কমপ্লিট ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে ১ বছর সময় লাগে, তাহলে অন্য আরেকজন ব্যক্তির শিখতে ৬ মাস বা ২ বছরও লাগতে পারে। মূলত এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করবে, আপনি কতটা আগ্রহ নিয়ে ডিজিটাল মার্কেটিং শিখছেন এবং আপনার শেখার দক্ষতার উপর।
তবে স্বাভাবিক ভাবে একজন ব্যক্তি যদি পূর্ণাঙ্গভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে চায় তাহলে তার ১ বছর থেকে ২ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। কারণ, এটি হলো এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যার অনেক খুঁটিনাঁটি বিষয় জানতে হয়। এছাড়াও ডিজিটাল মার্কেটিং করতে হলে এমন কিছু হিডেন টিপস জানতে হয়, যে গুলো প্রয়োগ করার মাধ্যমে ক্রেতাদের নির্দিষ্ট পণ্য কেনার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে হবে।
ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার উপায়
বর্তমান সময়ে ডিজিটাল মার্কেটিং এর ব্যাপক চাহিদা থাকায় আপনারা অনেকেই এই মার্কেটিং শিখতে চান। আর এই সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে বিভিন্ন অসাধু প্রতিষ্ঠান উঠে পড়ে লেগেছে কোর্স সেল করার ব্যবসায়। কিন্তুু আপনাকে ভুলেও এই ফাঁদে পা দেওয়া যাবেনা। বরং শেখার ক্ষেত্রে আপনাকে যথেষ্ট সতর্কতার সহিত সামনের দিকে অগ্রসর হতে হবে।
তাই যখন আপনার মনে ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার আগ্রহ তৈরি হবে, তখন আপনাকে বুঝতে হবে যে কোন মাধ্যমে শিখলে আপনার জন্য ভালো হবে। কারণ, এমন অনেক মাধ্যম আছে যেগুলোর সাহায্য আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে পারবেন।
যেমন প্রাথমিক দিক থেকে আপনাকে ডিজিটাল মার্কেটিং কি ও কেন আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং করবেন তা জানতে হবে। আর এই বিষয় গুলো আপনি বিভিন্ন ধরনের ব্লগ বা ইউটিউব চ্যানেল থেকে জেনে নিবেন। এরপর যদি আপনার মনে হয় যে, ডিজিটাল মার্কেটিং শেখা উচিত তাহলে আপনাকে নির্ধারন করতে কিভাবে আপনি এই মার্কেটিং শিখবেন।
কারণ, এমন অনেক স্বনামধন্য আইটি প্রতিষ্ঠান আছে যারা আপনাকে হাতে কলমে ডিজিটাল মার্কেটিং শেখাতে পারবে। আপনি চাইলে যথেষ্ট যাচাই বাছাই করে আপনার এলাকার নিকটস্থ কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে শিখতে পারবেন। কিন্তুু যদি আপনার আশেপাশে এমন কোনো প্রতিষ্ঠান না থাকে তাহলে আপনাকে অনলাইন কোর্স কিনতে হবে।
তবে অনলাইন কোর্স কেনার আগে অবশ্যই সাবধানতা অবলম্বন করবেন। কারণ, বর্তমান সময়ে আমাদের দেশে এমন অনেক প্রতারকের আবির্ভাব হয়েছে যারা লো কোয়ালিটি কোর্স সেল করে। আর আপনি যদি তাদের খপ্পরে পড়ে যান, তাহলে আপনার সময়, শ্রম ও অর্থ সব নদীর জলে ভাসিয়ে দিতে হবে।
ডিজিটাল মার্কেটিং করতে কি কি লাগে?
একটি কোম্পানিতে কাজ করতে গেলে যেমন শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়। ঠিক তেমনি ভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং করার ক্ষেত্রেও আপনাকে অনেক কিছু জানতে হবে এবং আপনার নিকট বেশ কিছু ইকুইপমেন্ট থাকতে হবে। যার মাধ্যমে আপনি কোনো প্রকার ঝামেলা ছাড়াই উক্ত মার্কেটিং এর কাজ গুলো সম্পন্ন করতে পারবেন।
তো ডিজিটাল মার্কেটিং এর সকল কাজ গুলো অনলাইন ভিত্তিক, তাই সবার প্রথমে আপনার একটি ভালো ইন্টারনেট কানেকশন থাকতে হবে। সেইসাথে আপনার কাছে একটি কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ থাকতে হবে। হুমম, এটা সত্যি যে আপনি চাইলে মোবাইল দিয়েও ডিজিটাল মার্কেটিং এর কাজ করতে পারবেন। তবে কম্পিউটার বা ল্যাপটপে কাজ করার সময় অধিক বেশি সুবিধা পাবেন।
এছাড়াও ডিজিটাল মার্কেটিং হলো এমন একটি সেক্টর যেখানে ভিন্ন ভিন্ন সময় ভিন্ন টেকনিক অনুসরন করার দরকার হয়। সেক্ষেত্রে পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে কিভাবে একটি পণ্যের বিজ্ঞাপন দিলে ক্রেতা সেই পণ্য কিনতে আগ্রহী হবে সেই টেকনিক আপনার মধ্যে থাকতে হবে।
আর ডিজিটাল মার্কেটিং করার ক্ষেত্রে সময় অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই উক্ত মার্কেটিং এর কাজ করার জন্য আপনার নিকট পর্যাপ্ত পরিমানে সময় থাকতে হবে। কারণ, ডিজিটাল মার্কেটিং করার জন্য আপনাকে পর্যাপ্ত রিসার্চ করতে হবে, উপযুক্ত পরিকল্পনা করতে হবে। তাহলেই আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং সফলভাবে করতে পারবেন।
ডিজিটাল মার্কেটিং এর ভবিষ্যৎ
কোনো একটি কাজ শেখার পূর্বৈ সেই কাজের ভবিষ্যৎ চিন্তা করা হলো সবচেয়ে বুদ্ধিমানের পরিচয়। ঠিক একইভাবে আপনি যেই সময়ে ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে চাইবেন, তখন আপনার মনেও প্রশ্ন জাগা উচিত যে, ডিজিটাল মার্কেটিং এর ভবিষ্যৎ কি। আর এবার আমি আপনাকে উক্ত বিষয়টি সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করবো।
দেখুন আগে যখন ইন্টারনেট ছিলোনা তখন ডিজিটাল মার্কেটিং কথা কেউ চিন্তাও করেনি। কিন্তুু বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট এর সহজলভ্যতার কারণে ডিজিটাল মার্কেটিং এখন ব্যবসার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। আর ভবিষ্যৎ সময়ে যে মানুষ ইন্টারনেটের প্রতি আগ্রহ হারাবে এমন চিন্তা করাও বোকামি। বরং সময় যতো অতিবাহিত হবে, ঠিক তেমনি ভাবে মানুষ আরো বেশি ইন্টারনেট এর প্রতি আগ্রহী হবে।
এখন মানুষ যদি ভবিষ্যতেও ইন্টারনেটের প্রতি আগ্রহী হয় তাহলে পরবর্তী দিন গুলোতে ডিজিটাল মার্কেটিং এর চাহিদাও বৃদ্ধি পাবে। বরং আগামী দিন গুলোতে এক্সপার্ট মার্কেটাররা আরো নতুন নতুন টেকনিক ফলো করে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে সফলতা অর্জন করার চেষ্টা করবে। তাই যারা আসলে ডিজিটাল মার্কেটিং এর ভবিষ্যৎ জানতে চান, তাদের বলবো এই মার্কেটিং এর ভবিষ্যৎ অনেক উজ্জল।
বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর-
ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় গুলো আজকের আর্টিকেলে তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তুু তারপরও আপনার মনে ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে আরো অনেক অজানা বিষয় থাকতে পারে। আর এবার সে গুলোর মধ্যে কিছু প্রশ্নের উত্তর নিচে সংক্ষিপ্ত আকারে দেওয়া হলো।
ডিজিটাল মার্কেটিং এর কাজ কি?
অনলাইনকে কাজে লাগিয়ে যখন কোনো পণ্যের মার্কেটিং করা হবে তখন তাকে বলা হবে ডিজিটাল মার্কেটিং। যার মূল কাজ হলো, ইন্টারনেট ভিত্তিক মার্কেটিং করা আর বিভিন্ন টেকনিক ফলো করে ক্রেতাদের নির্দিষ্ট পণ্য কিনতে আগ্রহী করে তোলা। যা নির্দিষ্ট একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রসারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ফ্রিল্যান্স ডিজিটাল মার্কেটিং কি?
ফ্রিল্যান্স ডিজিটাল মার্কেটিং হল এমন একটি কাজ যেখানে আপনি কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ না হয়ে, নিজের ইচ্ছামতো বিভিন্ন ক্লায়েন্টের জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং-এর বিভিন্ন কাজ করবেন। কেননা, বর্তমান সময়ে ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম গুলোতে বিভিন্ন দেশের ক্লায়েন্টরা দক্ষ ডিজিটাল মার্কেটারদের হায়ার করে থাকে।
Digital Marketing শব্দের অর্থ কি?
সহজ কথায় বলতে গেলে Digital শব্দের অর্থ হলো হলো সংখ্যাগত। তবে Digital Marketing শব্দটি মূলত অনলাইন বিপণন হিসেবে ব্যবহার করা হয়। যার অর্থ হলো, ইন্টারনেট কে কাজে লাগিয়ে বিজ্ঞাপন প্রচার করা।
ডিজিটাল মার্কেটিং এর জন্য কি কি জানতে হবে?
আপনারা যারা ডিজিটাল মার্কেটিং শিখছেন তাদের উক্ত মার্কেটিং শেখার যথেষ্ট আগ্রহ থাকতে হবে। এছাড়াও আপনার বিভিন্ন ব্লগ পড়া, ইউটিউব ভিডিও দেখার আগ্রহ থাকতে হবে। সর্বোপরি আপনার মধ্যে নতুন কিছু শেখার আগ্রহ থাকতে হবে ও সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে মার্কেটিং করার নতুন নতুন স্ট্রাটেজি তৈরি করার মতো দক্ষতা থাকতে হবে।
ডিজিটাল মার্কেটিং ব্লগিং কি?
একটি ব্লগে সাধারনত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কন্টেন্ট প্রকাশ করা হয়। তো আপনি যখন আপনার ব্লগে ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে লেখালেখি করবেন এবং উক্ত ব্লগে আপনার প্রোডাক্ট ডিজিটালি ভাবে প্রচার করবেন তখন তাকে বলা হবে, ডিজিটাল মার্কেটিং ব্লগিং।
একজন ডিজিটাল মার্কেটারের প্রধান কাজ কি?
ক্রেতারা কি চায় সেটা জানা, তারপর ক্রেতাদের চাহিদা মতো প্রোডাক্ট প্রস্তুত করে পণ্যের বিজ্ঞাপন দেওয়াই হলো একজন ডিজিটাল মার্কেটারের প্রধান কাজ। এছাড়াও নির্দিষ্ট একটি কোম্পানির পণ্য সেল করার সার্বিক চেষ্টা করারও মার্কেটারের প্রধান কাজের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত।
ডিজিটাল মার্কেটিং এর জনক কে?
ডিজিটাল মার্কেটিং এর জনক এর নাম হলো, ফিলিপ কোটলার। মূলত তিনি একজন আমেরিকান প্রফেসর যিনি বিপণনের উপর 60 টিরও বেশি বই লিখেছেন। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া বইয়ের নাম হলো, “মার্কেটিং ম্যানেজমেন্ট”।
ডিজিটাল মার্কেটিং করে কত টাকা আয় করা যায়?
আপনি যখন ডিজিটাল মার্কেটিং এ নিজেকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন তখন আপনার ইনকাম করার জন্য বিভিন্ন পথ উন্মুক্ত হয়ে যাবে। সাধারনত আমাদের দেশীয় কোম্পানি গুলোতে ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার বা ১ লাখেরও বেশি টাকা বেতনে ডিজিটাল মার্কেটার নিয়োগ দেওয়া হয়। এছাড়াও আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ করেন তাহলে আপনি বায়ারের উপর ভিত্তি করে ইনকাম করতে পারবেন।
আপনার জন্য আমাদের কিছুকথা
আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ আর্টিকেলে ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুলো শেয়ার করা হয়েছে। তো আপনি যদি আপনার জ্ঞান বৃদ্ধি করতে চান তাহলে ফ্রিল্যান্সিং এর ভবিষ্যৎ কি ও ডিজিটাল মার্কেটিং এর সুবিধা নিয়ে লেখা কন্টেন্ট গুলো পড়তে পারেন। ধন্যবাদ, এতক্ষন আমাদের সাথে থাকার জন্য।



