ই-কমার্স কি? গুরুত্ব, সুবিধা এবং কিভাবে ই-কমার্স শুরু করবেন  ২০২৪

ই-কমার্স কি

Table of Contents

আপনি কি কখনো ভেবেছেন, আপনার বাসা থেকে চেয়ারে বসেই পৃথিবীর যে কোনো প্রান্ত থেকে পছন্দের পণ্য কিনতে পারবেন? আর সেটিও মাত্র কয়েকটি ক্লিকে! অবিশ্বাস্য শোনাচ্ছে, তাইনা? কিন্তু এটাই সম্ভব করেছে ই-কমার্স।

ই-কমার্স হল ইন্টারনেটের মাধ্যমে পণ্য বা সেবা কেনাবেচা করার প্রক্রিয়া। এটি একটি ইলেকট্রনিক বাণিজ্য পদ্ধতি যেখানে আপনি অনলাইন দোকানে ব্রাউজ করতে পারবেন, পছন্দের পণ্য বাছাই করবেন, তারপর অর্ডার দিয়ে ঘরে বসেই সেই পণ্যটি পেয়ে যাবেন।

তাই আজকের এই আর্টিকেলে আমরা ই-কমার্স এর A To Z জানার চেষ্টা করবো। এর পাশাপাশি নতুনরা কিভাবে ই-কমার্স শুরু করতে পারবেন তার পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন প্রদান করবো। তাই হাতে একটু সময় নিয়ে আজকের পুরো লেখাটি মন দিয়ে পড়ার চেষ্টা করবেন। 

ই-কমার্স কি? | What is E-commerce?

ই-কমার্স (E-commerce) হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে পণ্য বা সেবা কেনাবেচা করার পদ্ধতি। এটি একটি বিশাল অনলাইন মার্কেটপ্লেস, যেখানে আপনি বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে বসে যে কোনো পণ্য কিনতে বা বিক্রি করতে পারবেন। এই ই-কমার্সের মাধ্যমে আপনি বই, কাপড়, ইলেকট্রনিক্স, খাবার, এমনকি সেবাও কিনতে পারবেন।

ই-কমার্স কত প্রকার ও কি কি?

ই-কমার্স কত প্রকার ও কি কি
ই-কমার্স কত প্রকার ও কি কি

চলমান সময়ে ই-কমার্স শুধু একটি শব্দ নয়,বরং এটি একটি জীবনযাত্রার অংশ হয়ে পড়েছে। অনলাইনে কেনাকাটা, বিক্রয়, সেবা গ্রহণ – এখন সবই হাতের মুঠোয়। কিন্তু আপনি কি জানেন ই-কমার্সের বিভিন্ন ধরন রয়েছে? -আসুন, ই-কমার্স কত প্রকার ও কি কি সে সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

B2B (Business to Business)

এই ধরনের ই-কমার্সে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আরেকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে পণ্য বা সেবা বিক্রি করে। এখানে ভোক্তা সরাসরি জড়িত থাকে না। উদাহরণস্বরূপ, একটি কারখানা অন্য একটি কারখানাকে কাঁচামাল বিক্রি করবে। সেক্ষেত্রে এখানে ভোক্তার কোনো প্রকার অবদান থাকবেনা।

B2C (Business to Consumer)

আমার সবচেয়ে পরিচিত ই-কমার্স এর ধরন হলো, B2C। যেখানে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরাসরি ভোক্তাদের কাছে পণ্য বা সেবা বিক্রি করে। আমরা যখন কোনো অনলাইন শপ থেকে জামা-কাপড় কিনি, তখন তাকে বলা হবে, B2C ই-কমার্স।

C2C (Consumer to Consumer)

এই ধরনের ই-কমার্সে একজন ভোক্তা অন্য একজন ভোক্তার নিকট পণ্য বা সেবা বিক্রি করে। উদাহরণস্বরূপ, বিক্রয়.কম বা ইবে-তে ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহৃত পণ্য বিক্রি করা। তাই এই ধরনের ই-কমার্স কে বলা হয় C2C (Consumer to Consumer).

C2B (Consumer to Business)

এই ধরনের ই-কমার্সে ভোক্তা তার চাহিদামতো নির্দিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পণ্য বা সেবা বিক্রি করে। উদাহরণস্বরূপ, একজন ফটোগ্রাফার তার তোলা ছবি যেকোনো সংবাদপত্র এর নিকট বিক্রি করতে পারবে।

ই কমার্স এর প্রতিষ্ঠাতা কে?

আপনি হয়তো ভাবছেন ই-কমার্সের একজন নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠাতা আছেন, যিনি এই বিশাল ব্যবসা জগতের দরজা খুলেছিলেন। কিন্তু আসলে তা নয়। কেননা ই-কমার্সের উদ্ভব এবং বৃদ্ধি অনেক ধীরে ধীরে ঘটেছে। যার সাথে জড়িত ছিলো এক বা একাধিক ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তির সমন্বয়।

কারণ, 1960-এর দশকে অনলাইন ক্যাটালগের ধারণা আসতে শুরু করেছিলো। যদিওবা তখন ইন্টারনেটের মতো কোনো জিনিস ছিল না, তবুও কম্পিউটারের মাধ্যমে তথ্য সংরক্ষণ ও বিনিময়ের চেষ্টা চালিয়েছিলো। তারপর 1970-এর দশকে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার বাড়ার সাথে সাথে অনলাইনে পণ্য কেনার ধারণাও জোরালো হয়ে ওঠে।

সবশেষে 1990-এর দশকে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (www) এর আবিষ্কার ই-কমার্সের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করে দেয়। তখন মানুষ সহজেই ইন্টারনেটে ব্রাউজ করে পণ্য খুঁজতে পারতো। তবে অনেকেই মনে করেন যে, 1979 সালে মাইকেল অ্যালড্রিচ ইলেকট্রনিক শপিং আবিষ্কার করেন। আর তারপর থেকে তিনি ই-কমার্স এর প্রতিষ্ঠাতা বা উদ্ভাবক হিসেবেও বিবেচিত হয়েছেন।

ই কমার্স কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?

বর্তমান সময়ের ডিজিটাল যুগে অনলাইনে কেনাকাটা করা আমাদের কাছে এতটাই স্বাভাবিক যে আমরা হয়তো ভুলে যাই যে এই সুবিধাটি কয়েক দশক আগে কল্পনাতীত ছিল। ই-কমার্স, বা ইলেকট্রনিক বাণিজ্য হলো একটি অপেক্ষাকৃত নতুন ধারণা।  

তবে ১৯৯৫ সালকে ই-কমার্সের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই বছরেই দুটি বিশাল ই-কমার্স জায়ান্টের জন্ম হয়, অ্যামাজন এবং ইবে।

অ্যামাজন

জেফ বেজোসের দূরদর্শিতার ফসল অ্যামাজন। প্রথমদিকে এটি শুধুমাত্র বই বিক্রি করত, কিন্তু আজ এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় অনলাইন রিটেইলার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে পেরেছে। অ্যামাজনের আবির্ভাবের ফলে বই কেনার ধারণা সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছিলো। সেই সময়ে ঘরে বসে কয়েক ক্লিকে যে কোনো বই কেনা সম্ভব হয়ে উঠেছিলো।

ইবে

পিয়ের ওমিডিয়রের মস্তিষ্ক প্রসূতি হলো, ইবে। এই প্ল্যাটফর্মটি ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি এবং ব্যবসা থেকে ব্যবসা উভয় ধরনের লেনদেনের জন্য একটি মার্কেটপ্লেস হিসেবে পরিচিতি পায়। ইবেতে মানুষ পুরানো জিনিস থেকে শুরু করে নতুন পণ্য পর্যন্ত যেকোনো কিছু কিনতে বা বিক্রি করতে পারতো।

আর ই-কমার্সের চাহিদা বৃদ্ধির সাথে সাথে অনলাইন পেমেন্টের নিরাপদ এবং সহজ পদ্ধতির চাহিদাও বেড়ে যায়। এই চাহিদা মেটাতে ১৯৯৮ সালে পেপ্যাল ​​আবির্ভূত হয়। পেপ্যাল ​​ই-কমার্স পেমেন্টের জন্য একটি নিরাপদ এবং সুবিধাজনক পদ্ধতি প্রদান করে, যা ই-কমার্সের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পেরেছে। পেপ্যালের আগমনের ফলে অনলাইনে কেনাকাটা আরও নিরাপদ এবং সহজ হয়ে ওঠেছে, যার ফলে ই-কমার্সের জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

ই-কমার্স বাংলাদেশ

ই-কমার্স বাংলাদেশ
ই-কমার্স বাংলাদেশ

আধুনিক বাংলাদেশের জীবনযাত্রায় ই-কমার্সের ছোঁয়া এখন সর্বত্র। এক সময় যা ছিল স্বপ্নময় ধারণা, আজ তা দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। স্মার্টফোন হাতে নিয়ে বসে বসে যেকোনো জিনিস কেনা যায়, আমরা এমন এক যুগে বাস করছি। আর আমাদের এই ধরনের সুবিধা দিয়েছে ই-কমার্স।

বাংলাদেশে ই-কমার্স খাত এখন আর নতুন কোনো ধারণা নয়। দেশের তরুণ প্রজন্মের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি, স্মার্টফোনের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং ইন্টারনেট সংযোগের উন্নতির ফলে এই খাত দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। দারাজ, ইভ্যালি, রকমারি ইত্যাদি অনলাইন মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে গ্রাহকরা ঘরে বসেই বিভিন্ন ধরনের পণ্য কিনতে পারছেন। ফ্যাশন, ইলেকট্রনিক্স, গৃহস্থালি সামগ্রী, খাবার-দাবার, এমনকি ভ্রমণের টিকিট পর্যন্ত—সব কিছুই এখন অনলাইনে কিনতে পাওয়া যায়।

ই-কমার্স এর বৈশিষ্ট্য গুলো কি কি?

বর্তমান সময়ে ই-কমার্স শব্দটি আমাদের কাছে অপরিচিত নয়। এখন আমরা ঘরে বসে কয়েকটি ক্লিক করে যে কোনো পণ্য কিনতে পারি। কিন্তু ই-কমার্স কেন এত জনপ্রিয়? এর পিছনে কী কী কারণ রয়েছে? আসুন জেনে নিই ই-কমার্সের কিছু মূল বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে।

সময় ও স্থানের বেড়াজাল ছিন্ন

ই-কমার্সের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি সময় ও স্থানের সীমাবদ্ধতা দুর করেছে। কারণ বর্তমান সময়ে আপনাকে আর দোকানে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হবে না। বরং আপনি মাত্র কয়েকটি ক্লিক করে যে কোনো সময়, যে কোনো স্থান থেকে আপনার প্রয়োজনীয় পণ্যটি কিনতে পারবেন।

অসীম পণ্যের ভান্ডার

একটি ই-কমার্স সাইটে হাজার হাজার পণ্য পাওয়া যায়। আপনি যা চান, তা খুঁজে নিতে পারবেন। ছোট্ট একটি মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে বড় বড় গাড়ি পর্যন্ত সব কিছুই আপনি ই-কমার্সের মাধ্যমে কিনতে পারবেন।

সহজ ও নিরাপদ লেনদেন

ই-কমার্সে বিভিন্ন ধরনের অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম রয়েছে, যেমন ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড, মোবাইল ব্যাংকিং ইত্যাদি। এই পেমেন্ট সিস্টেম গুলো অত্যন্ত নিরাপদ এবং আপনার ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করবে।

তুলনা করে কিনতে পারবেন

ই-কমার্সের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো আপনি বিভিন্ন দোকানের একই পণ্যের দাম এবং বৈশিষ্ট্য তুলনা করে সেরা পণ্যটি কিনতে পারবেন। এতে করে আপনি সঠিক দামে সঠিক পণ্যটি কিনতে পারবেন।

সার্বক্ষণিক খোলা

ই-কমার্স সাইট সার্বক্ষণিক খোলা থাকে। আপনি গভীর রাতেও যদি কোনো পণ্য কিনতে চান, তাহলেও আপনি কিনতে পারবেন। কারণ, ই-কমার্স হলো সম্পূর্ণ অনলাইন ভিত্তিক একটি প্ল্যাটফর্ম।

গোপনীয়তা নিশ্চিতকরণ

অনলাইন শপিংয়ে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদ থাকবে। কারন, বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ ই-কমার্স সাইটে সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, যা আপনার ব্যক্তিগত তথ্যকে রক্ষা করে থাকে।

ই-কমার্স এর সুবিধা কী কী?

  • দোকানে গিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় নষ্ট করার দরকার নেই।
  • মাত্র কয়েকটি ক্লিকে আপনি পছন্দের পণ্যটি খুঁজে অর্ডার করতে পারবেন।
  • একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইটে হাজার হাজার পণ্য একসাথে থাকে।
  • ই-কমার্স দোকান কখনো বন্ধ হয় না।
  • বাড়িতে বসে পছন্দের পণ্যটি কেনার সুবিধা পাওয়া যায়।
  • বিভিন্ন পেমেন্টের সুযোগ যেমন, ক্যাশ অন ডেলিভারি, ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড, মোবাইল ব্যাংকিং ইত্যাদি।
  • ই-কমার্স ওয়েবসাইট নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থায় পরিচালনা করে।
  • ই-কমার্স পরিবেশবান্ধব, কারণ এতে কাগজের ব্যবহার কম হয় এবং দূষণও কম হয়।

ই-কমার্সের অসুবিধা গুলো কি কি?

  • অনেক সময় পণ্য ক্রেতার কাছে পৌঁছাতে খুব বেশি সময় লেগে যায়।
  • পরিবহনের সময় পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • কখনও পণ্য স্টক আউট হয়ে যাওয়ায় ক্রেতাকে অপেক্ষা করতে হয়।
  • অনলাইনে দেখানো পণ্যের চিত্র এবং আসল পণ্যের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে।
  • অনলাইনে নকল পণ্য বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • অনলাইনে কেনাকাটা করার সময় ব্যক্তিগত তথ্য এবং ব্যাংক তথ্য চুরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
  • কখনও কখনও ভুয়া ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কম্পিউটারে ভাইরাস আক্রমণ হতে পারে।
  • দোকানে গিয়ে কেনাকাটা করলে যে ধরনের ব্যক্তিগত সাহায্য পাওয়া যায়, তা অনলাইনে পাওয়া যায় না।
  • কোনো সমস্যা হলে তা সমাধান করতে অনেক সময় লেগে যায়।
  • ইন্টারনেট সংযোগের সমস্যা হলে কেনাকাটা করা সম্ভব হয়না।

কিভাবে ই-কমার্স বিজনেস শুরু করবেন?

কিভাবে ই-কমার্স বিজনেস শুরু করবেন
কিভাবে ই-কমার্স বিজনেস শুরু করবেন

আপনি কি নিজের অনলাইন দোকান খুলে বসে থাকার স্বপ্ন দেখেছেন? ই-কমার্সের যুগে এখন তা আর কোনো অসম্ভব কাজ নয়। বরং বর্তমান সময়ে ঘরে থেকেই সফলভাবে ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করা সম্ভব। ভাবছেন কীভাবে? -চলুন এবার আমরা ই-কমার্স বিজনেস শুরুর পুরো প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে জেনে নেই।

ধাপ-১: আপনার পণ্য বা সেবা নির্ধারণ করুন

আপনার যে বিষয়ে আগ্রহ এবং দক্ষতা রয়েছে সেই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে আপনার পণ্য বা সেবা নির্বাচন করতে হবে। যদি আপনি রান্নার কাজে অভিজ্ঞ হন, তাহলে রান্নার সরঞ্জাম বিক্রি করতে পারবেন। অথবা যদি আপনার কোডিং জানা থাকে, তাহলে ওয়েবসাইট ডিজাইনের সেবা দিতে পারবেন।

তারপর আপনার নির্বাচিত পণ্য বা সেবার জন্য বাজারে কতটা চাহিদা রয়েছে, তা খুঁজে বের করবেন। সোশ্যাল মিডিয়া, অনলাইন ফোরাম এবং সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করে আপনার কাঙ্খিত গ্রাহকদের সম্পর্কে জানতে পারবেন। এছাড়াও প্রতিযোগীদের বিশ্লেষণ করে আপনার পণ্যকে অন্যদের তুলনায় আলাদা ভাবে গড়ে তুলতে পারবেন।

ধাপ-২: অনলাইন স্টোর তৈরি করুন

আপনি বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইট বিল্ডার, ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম বা কাস্টম ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে আপনার অনলাইন স্টোর তৈরি করতে পারবেন। আর বর্তমান সময়ে জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম গুলোর মধ্যে রয়েছে Shopify, WooCommerce, BigCommerce ইত্যাদি।

তবে আপনার ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের নামের দিকে যথেষ্ট সতর্ক থাকবেন। মনে রাখার সহজ এবং আপনার ব্যবসার সাথে সম্পর্কিত ডোমেইন নাম নির্বাচন করবেন। একটি ভালো হোস্টিং সার্ভিস আপনার ওয়েব সাইটকে সর্বদা চালু রাখবে। তাই অবশ্যই আপনার ব্যবসার জন্য কোয়ালিটি সম্পন্ন হোস্টিং ব্যবহার করবেন। আপনার পণ্যের স্পষ্ট এবং আকর্ষণীয় ছবি, বিস্তারিত বর্ণনা এবং দাম সহো একটি তালিকা তৈরি করবেন।

ধাপ-৩: পেমেন্ট গেটওয়ে সংযুক্ত করুন

গ্রাহকরা যাতে আপনার কাছে সহজে পেমেন্ট করতে পারে সেজন্য একটি নিরাপদ পেমেন্ট গেটওয়ে সংযুক্ত করবেন। বর্তমানে PayPal, payoneerএবং Skrill এর মতো জনপ্রিয় পেমেন্ট গেটওয়ে রয়েছে। এছাড়াও আপনি যদি আমাদের বাংলাদেশের গ্রাহকদের টার্গেট করেন তাহলে আপনাকে বিভিন্ন ধরনের মোবাইল ব্যাংকিং যেমন, Bkash, Nagad, Rocket ইত্যাদি রাখতে হবে।

ধাপ-৪: মার্কেটিং ও প্রচারণা করুন

মার্কেটিং ও প্রচারণা হলো ই-কমার্সের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। এটি আপনার ব্যবসাকে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিবে এবং বিক্রয় বাড়াতে সাহায্য করবে। আপনার পণ্য বা সেবা যতই ভালো হোক না কেন, যদি আপনি সঠিকভাবে প্রচার করতে না পারেন, তাহলে আপনার ব্যবসা সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।

সেজন্য ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টুইটারের মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে আপনার পণ্য বা সেবার ছবি, ভিডিও এবং তথ্য শেয়ার করে আপনার ব্যবসাকে প্রচার করবেন। আপনার টার্গেট করা গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ করে তাদের কাছে আপনার পণ্যের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করার চেষ্টা করবেন।

গুগল, বিং ইত্যাদি সার্চ ইঞ্জিনে আপনার ওয়েবসাইটকে টপ পজিশনে আনতে SEO কৌশল ব্যবহার করবেন। এতে করে যখন কেউ আপনার পণ্য বা সেবা সম্পর্কে অনলাইনে খুঁজবে, তখন আপনার ওয়েবসাইট প্রথমেই দেখা যাবে।

গুগল অ্যাডস, ফেসবুক অ্যাডস, ইনস্টাগ্রাম অ্যাডস ইত্যাদি প্ল্যাটফর্মে পেইড অ্যাডভার্টাইজিং করে আপনার পণ্যের দ্রুত প্রচার করতে পারবেন। যা আপনাকে আপনার টার্গেট করা গ্রাহকদের কাছে সরাসরি পৌঁছাতে সাহায্য করবে।

ধাপ-৫: গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করুন

একটি সফল ই-কমার্স ব্যবসা গড়ে তোলার পথে আমরা এসে পৌঁছেছি গ্রাহক সেবার গুরুত্বপূর্ণ ধাপে। আপনি হয়তো মানসম্মত পণ্য বা সেবা তৈরি করেছেন, তারপর আকর্ষণীয় ওয়েবসাইট তৈরি করেছেন, এমনকি মার্কেটিং কৌশলও গ্রহণ করেছেন। কিন্তু যদি আপনি আপনার গ্রাহকদের সন্তুষ্ট করতে না পারেন, তাহলে আপনার সব চেষ্টাই বৃথা যাবে। তাই ই-কমার্স ব্যবসায় সফল হতে হলে অবশ্যই গ্রাহক সেবার বিষয়টি সর্বদা গুরুত্ব দিবেন।

নাগরিক সেবা ও ই-কমার্সের পার্থক্য

বৈশিষ্ট্য নাগরিক সেবা ই-কমার্স
উদ্দেশ্য জনসেবা বাণিজ্য
প্রদানকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান বা স্থানীয় সংস্থা ব্যক্তিগত কোম্পানি বা সংস্থা
উদাহরণ জন্ম নিবন্ধন, পাসপোর্ট অনলাইন শপিং, ব্যাংকিং
লাভক্ষতি লাভের উদ্দেশ্যে নয় লাভের উদ্দেশ্যে

বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর

ই কমার্স কি ও ই-কমার্স শুরু করার পদ্ধতি নিয়ে উপরের আলোচনায় বিস্তারিত বলা হয়েছে। তবে এই ই কমার্স সম্পর্কিত আরো কিছু প্রশ্ন আছে। নিচে সেই প্রশ্নের উত্তর গুলো দেওয়া হলো। যাতে করে আপনি অনলাইন কেনাকাটা সম্পর্কে আরো অধিক জ্ঞান নিতে পারেন।

ই কমার্স লেনদেনে বাংলাদেশ কত তম?

ই-কমার্স লেনদেনের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে ৪৬তম।

ই কমার্স মার্কেটিং কি?

ই-কমার্স মার্কেটিং হল ইন্টারনেটের মাধ্যমে পণ্য বা সেবা বিক্রয় করার জন্য বিভিন্ন মার্কেটিং কৌশলের সমন্বয়। এটি একটি বিস্তৃত ক্ষেত্র যার মধ্যে রয়েছে ওয়েবসাইট ডিজাইন, সামাজিক মিডিয়া মার্কেটিং, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO), পেইড অ্যাডভার্টাইজিং, ইমেইল মার্কেটিং, কন্টেন্ট মার্কেটিং এবং আরও অনেক কিছু।

বাংলাদেশের ই কমার্স সাইট

  • Daraz
  • Rokomari
  • AjkerDeal
  • Shajgoj
  • PriyoShop
  • Bagdoom
  • Chaldal
  • Shohoz Boi
  • Swapno
  • Pickaboo

বাংলাদেশের প্রথম ই কমার্স সাইট কোনটি?

অনলাইনে উপহারসামগ্রী বিক্রির উদ্দেশ্যে দেশের প্রথম ই–কমার্স ওয়েবসাইট মুন্সিজি ডট কম (www.munshigi.com) চালু হয়েছিলো। এ সাইটের উদ্যোক্তা মুনশী মো. গিয়াসউদ্দিন ২০০০ সালে রাজধানীর বনানীতে একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ই কমার্স সাইট কোনটি?

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ই-কমার্স সাইট অ্যামাজন (Amazon. com)। সাইটটিতে প্রতি মিনিটে গড়ে ৮৬ হাজার মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য বিক্রি হয়।

আপনার জন্য আমাদের কিছুকথা

প্রিয় পাঠক, আজকের আর্টিকেলে আমরা ই-কমার্স কি ও কিভাবে ই-কমার্স শুরু করবেন তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। তবে এরপরও যদি আপনার ই-কমার্স সম্পর্কিত আরো কোনো প্রশ্ন থাকে তাহলে নিচে কমেন্ট করবেন। আর আপনার জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য মার্কেটিং এর জনক কেটেকনিক্যাল এসইও কি এই লেখা দুটো পড়বেন। ধন্যবাদ, ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

Table of Contents

লেখক সম্পর্কে

Picture of Shaddam Hossain Sufol

Shaddam Hossain Sufol

Head of Inbound Team at Intellec IT LLC || SEO Director || Web Analyst

With over six years of experience in digital marketing and web development.

নতুন পোস্ট

Related Posts